আজও একটা নির্ঘুম রাত দিলে তাও একটাও কবিতা এলোনা
আসবেই বা কি করে! কারণ তো কিছু ছিল না।
আমি ঘুরে এলাম সেই ফাগুনের আগুনে,
পুকুর পাড়ে কতো বড়ো একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল যেখানে লালে লাল হয়ে থাকতো কতকথা,
আর তার নীচে বসে হাজারো প্রেমিক যুগল এঁকে দিত আলতো ছোঁয়া,ভাগ করে নিত দুঃখ ব্যথা।
সেখানে আজ কৃষ্ণচূড়ার গাছটিতে একটাও ফুল নেই গাছটা বিমর্ষ হয়ে পড়ে আছে একা।
ডালপালা কখন শুকিয়ে গেছে,
জীর্ণ শীর্ণ একা দাঁড়িয়ে আছে এখন আর কেউ আসে না তার নীচে,
পাশেই আর একটা কৃষ্ণচূড়া গাছে তাতে ভরে আছে ফুল আর ছায়া।
সেই গাছের নীচে বসে আছে নতুন প্রেমিক যুগল কায়া।অনেক স্বপ্ন সুখ খোঁজে।
আর হঠাৎ আচমকাই মেঘ গুড়গুড় করতেই মনে পড়ে গেল কেমন করে আমি মেঘের আওয়াজ শুনে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যেতাম তুমি সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে ধরে বলতে আরে ভয় কিসের আমি তো আছি।
মনে পড়ে গেল ট্রেনে করে বিয়ের আগে দুজনে ঘুরতে গেছিলাম বাড়ি ফিরতে অনেক রাত শেষের ট্রেনে ক্লান্ত আমার দু-চোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু আমি জোর করে দুচোখ মেলে ধরছিলাম তুমি বলেছিলে,তোমার কাঁধ টা এগিয়ে দিয়ে এখানে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমোও, নামবার সময় হলে আমি ডেকে দেবো সেদিন তুমি ও ছিলে খুব ক্লান্ত তোমার ও চোখ জড়িয়ে আসছিল ঘুমে তবু তুমি ঢুলে পড়োনি পাছে আমার ঘুম নষ্ট হয়ে যায়!
সেই একদিনের কাঁধ যে আমায় এতগুলো নির্ঘুম রাত দেবে বুঝিনি।
সেই দিন গুলো ঘুরে এলেই শুনতে পাই পাখির কূজন।নতুন দিনের সূচনা নিয়ে উড়াল দেবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।
জোনাক জোছনা আমার অন্ধকার রাতের সাথী হয়ে আবার রাতে ফিরবে এখন ওঁরা তো আমার সাথে রোজ রাত জাগে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কোনোদিন ঘুম নষ্টের ভয়ে আমায় ছেড়ে যায় না ওঁরা।
হাসছে নীল আকাশ আমায় দেখে হয়তো উপহাস করে জানি না।