লেজের উপর পা – প্যানিক নিয়ে গল্প।
লেজের উপর পা পড়লে কী হয়? ফোঁস করে ওঠে না কি? সালটা ছিল ১৯১০। তখনই ঘটল কাণ্ডটা। আকাশে দেখা দিল একটা ধূমকেতু। আর পৃথিবী দিল তার লেজ মাড়িয়ে। সেই নিয়ে কী উৎকণ্ঠা, কী উদ্বেগ। সে যে আসবে, আঁক কষে সে কথা বলে গিয়েছিলেন এডমণ্ড হ্যালি (১৬৫৬ – ১৭৪২)। না, তিনি কোনো গণৎকার নন, নন পাঁজি পুঁথি ঘাঁটাঘাঁটি করা ভবিষ্যৎবক্তা।
এডমণ্ড হ্যালি ছিলেন গণিত বিশারদ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি নিউটনের বলবিদ্যা অনুসরণ করে বিভিন্ন ধূমকেতুর চলনের উপর গবেষণা করে ১৭০৫ সালে একটি সন্দর্ভ প্রকাশ করেন। “সিনপসিস অফ দি অ্যাসট্রোনমি অফ কমেটস” নামে ওই সন্দর্ভে তিনি কয়েকটি ধূমকেতুর সাথে বিশেষ একটি ধূমকেতু নিয়ে বলেন সেটি ১৭৫৮ সালে সূর্যের কাছে আসবে। ধূমকেতুটি ঠিক ঠিক ওই ১৭৫৮ সালেই সূর্যের কাছে চলে এসেছিল। না, হ্যালির প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নয়, আসলে হ্যালির গণনাটি চমৎকার ছিল।
ধূমকেতু আসলে বরফ আর পাথরের একটা দলা। তারা থাকে সৌরজগতের একেবারে প্রত্যন্তে। কুইপার বলয় বা আরো দূরে উর্ট মেঘের এলাকায়। গ্রহের তুলনায় এদের চলনপথ একেবারেই অন্য রকম। হ্যালির ধূমকেতু ছুটতে ছুটতে সূর্যের অনেক কাছে চলে যায়। তখন সূর্য থেকে তার দূরত্ব দাঁড়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের অর্ধেক। আর যখন দূরতম জায়গায় চলে যায়, তখন সূর্য থেকে তার দূরত্ব দাঁড়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পঁয়ত্রিশ গুণ।
গ্রহের তুলনায় এই হ্যালির ধূমকেতুর ভর নগণ্য। বাইশের পর গোটা তের শূন্য বসালে যতটা হয় তত কিলোগ্রাম। পাথর আর বরফে তৈরি তার মূল দেহটা পনের কিলোমিটার লম্বা আর এগারো কিলোমিটার ব্যাসের একটা দলা। সূর্যের কাছে আসার সময় সৌরতাপে তার বরফের দেহ থেকে গ্যাস বেরিয়ে লেজের সৃষ্টি হয়। এই লেজ শেষমেশ একলক্ষ কিলোমিটার অবধি লম্বা হয়ে যায়। সূর্যের আলোয় বেশ দেখা যায় পুচ্ছখানি। হ্যাঁ, দিনের বেলাতেও।
১৯১০ সালে আসা ধূমকেতুর আবিষ্কার আর চলনের রকম সকম হ্যালি বলে গিয়েছিলেন পর্যবেক্ষণ আর অঙ্কশাস্ত্রের ভিত্তিতে। এখন হল কি, এই ১৯১০ মে মাসের এই সময়ই পৃথিবী তার লেজ মাড়িয়ে ফেলল। অমনি চার দিকে কি হয়, কি হয়। লোকজন ভাবল পৃথিবী যখন ধূমকেতুর লেজটি মাড়িয়ে দিয়েছে, ধূমকেতু কি আর তাকে ছাড়বে? লেজে পড়েছে পা, ছোবল মারবে না? লোকজন কি হয় কি হয় ভেবে নাওয়া খাওয়া বন্ধ দিল। উদ্বেগে অনেকের ঘুম নেই। যাকে বলে প্যানিক। ভয় যদি ঘাড়ে কারো চাপে, তখন আর রক্ষা নেই।
কবিরা জাগানিয়া আলোর দূত, ঘুম ভাঙানিয়া অ্যাঞ্জেল। তাঁরা অতি সাধারণের ভয় ভাঙিয়ে ফুটন্ত সকালের কথা বলেন। “রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল”, এমন একটা কথা বলতে মনের জোর লাগে । তবু একজন সার্থক কবি যখন মন্দ্রস্বরে বলেন ” রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল ” তখন সেই কবির গভীর সদর্থক আর ইতিবাচক মনটিকে চিনে নিতে পারি।
সৌর পরিবারের দূরতম বলয়ে রয়েছে নানা ধূলিকণা , বরফ আর মিথেনের মতো গ্যাস । ওই নিয়ে উর্ট ক্লাউড। আর কুইপার বেল্ট । ধূমকেতুর দল ওই গভীর গহন এলাকা থেকে উঁকি মারে আমাদের চেনা আকাশে । ধূলিকণা, বরফ আর মিথেন এর মতো গ্যাস দিয়ে তৈরি ধূমকেতুর দেহ । চেনাজানা গ্রহ উপগ্রহদের মতো নয় ধূমকেতুর চেহারা। নিজেকে সুগোল করে বানাতে যে বৃহৎ ভর প্রয়োজন , তা জুটিয়ে উঠতে পারে না একটি ধূমকেতু ।
কবিও সর্বদা পারে না সামাজিক সাংসারিক হিসেব মিলিয়ে চলতে ।
তাই কবি যেন কেমন একাকী। প্রকৃত কবি রাজার ধামাধরা সাজতে লজ্জা পায়। কিন্তু একজন যথার্থ কবিই পারেন রাজার উলঙ্গ চেহারাটা তুলে ধরতে।
কিংবা রাজার দেশজোড়া সৈন্য যে আসলে কিসের জন্যে তা মুখ ফুটে বলতে পারেন । প্রকৃত কবি যাঁরা, শুধু তাঁরাই বলতে জানেন ” রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল “
কবিরা যেন সেই ধূমকেতু, যাঁঁরা আঁধারে অগ্নিসেতু বাঁধবেন ।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতার শব্দ চয়নে, শব্দযোজনায়, আর তার ভেতরকার প্রাণস্পন্দনে নিজের পরিচয় রেখে গিয়েছেন। তাঁঁর তারুণ্য ভরা মন সেদিনের যুবক যুবতীকে উৎসাহিত করেছিল । কাজী নজরুলের “ধূমকেতু” নামে পত্রিকার কথাটা কেন যেন আজ খুব মনে পড়ছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই ধূমকেতু নামে পত্রিকার জন্যে একটা কবিতা লিখে দিয়েছিলেন । ” আয় চলে আয় রে ধুমকেতু / আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু…” এমন ভাবে রবীন্দ্রনাথ ওই ধূমকেতু নামে পত্রিকা আর তার উদগাতাদের অভিনন্দিত করেছিলেন।
ক’দিন ধরে এই ধূমকেতু শব্দটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। ধূমকেতু আসে, কিন্তু সে যে সৌরমণ্ডলের খুব নিয়মিত সদস্য, তা নয়। বরফ ও গ্যাসের একটা বড়ো গোছের দলা এই ধূমকেতু । সূর্যের কাছে এসে সৌর উত্তাপে তার চেহারার বিবর্ধন হয়।
পৃথিবী বিখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন মার্ক টোয়েন (১৮৩৫ – ১৯১০)। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়েও নিজের চেষ্টায় তিনি জগৎবিখ্যাত হয়েছিলেন। তিনি ১৮৩৫ এর ত্রিশ নভেম্বরে জন্মেছিলেন। ওই সময় হ্যালির ধূমকেতু সূর্যের কাছে এসেছিল। মার্ক টোয়েন মজা করে বলেছেন, আমি ধূমকেতুর সঙ্গে এসেছি, ধূমকেতুর সঙ্গেই চলে যাব। মজার ব্যাপার, মার্ক টোয়েন মারা যান ১৯১০ সালের একুশে এপ্রিল। এই সময়ে আবার হ্যালির ধূমকেতু এসেছিল। এরমধ্যে ভৌতিক কোনো কিছুই নেই। কেননা হ্যালির ধূমকেতু সূর্যের সবচেয়ে কাছে আসার পর আবার ৭৪ কি ৭৫ বছর পরে আবার সূর্যের কাছে ফিরে আসে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি কাজী নজরুল ইসলামকে পুত্রতুল্য স্নেহ করতেন। কাজী নজরুল ইসলাম একবার “ধূমকেতু” নামে এক পত্রিকা করবেন বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে একটি কবিতার আবদার করেন। নজরুল ইসলামের প্রতি সুগভীর স্নেহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন “আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু….”। এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হস্তাক্ষরে ধূমকেতু পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার প্রচ্ছদে ছাপা হত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৌরজগতের নানা খুঁটিনাটি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে বালক অবস্থায় গ্রহ নক্ষত্র সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতেন। ওই অল্প বয়সেই বালক রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন “গ্রহগণ জীবের বাসভূমি”। একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও ভেবে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠিক আগে যিনি জন্মেছিলেন, মহর্ষি ও সারদাদেবীর সেই সন্তানের নাম ছিল সোমেন্দ্রনাথ। রবি তাঁকে ডাকতেন সোমদাদা। রবির জন্মের এক বৎসর পরে সারদা দেবী পুনরায় একটি সন্তানের জন্ম দেন। তিনি অল্পায়ু ছিলেন। তাঁর নাম ছিল বুধেন্দ্রনাথ। সোম, রবি ও বুধ, এইসব নামের ঝঙ্কারে বালক রবির মনে জ্যোতিষ্ক বিষয়ে কৌতূহল জন্মায় নি, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না।
১৯১০ সালে এল হ্যালির ধূমকেতু। সারা পৃথিবীর জ্যোতির্বিদ সেই ধূমকেতু নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর “বিশ্বপরিচয়” বইতে হ্যালির ধূমকেতুর চমৎকার আর্টপ্লেট যুক্ত করেছেন।
ধূমকেতুর বাস সৌরজগতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তার নাম কুইপার বেল্ট। আরো পিছনে আছে উর্ট ক্লাউড। সৌরজগতের গ্রহ, বামন গ্রহ, উপগ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জ তৈরির পর যা কিছু জঞ্জাল পড়ে আছে ওই প্রত্যন্ত এলাকায়। জল, মিথেন, কার্বন ডাই অকসাইড সুতীব্র ঠাণ্ডায় বরফ হয়ে থাকে। আর থাকে কিছু ধূলা। এই নিয়ে ধূমকেতুর শরীর তৈরি। সূর্যের টানে তারা কুইপার বেল্টের গহন থেকে বেরিয়ে সূর্যের অভিমুখে ছোটে। যতো সূর্যের কাছে পৌঁছায়, ততই গ্যাসীয় বরফ তাপের ফলে বাষ্পীয় শরীর নিয়ে দেখনসই চেহারা নেয়। তখন সেই বরফের দলা থেকে বেরোনো গ্যাস একটি পুচ্ছের চেহারা নেয়। সূর্যের আলোয় সে পুচ্ছের চকিত অভাবনীয় রূপ মানুষের মনে যুগে যুগে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে।
পৃথিবীর মতো গ্রহ পনেরো কোটি কিলোমিটার দূরে থেকে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের উপর আরো কয়েক ঘণ্টায় রবিপ্রদক্ষিণ করে। গণিতবিদেরা সেই প্রদক্ষিণ পথকে উপবৃত্তাকার বলেন। তবে সূর্যের থেকে পৃথিবীর দূরত্বের কথা খেয়াল রাখলে, পৃথিবীর ঘুরনপথকে সাদা চোখে বৃত্তের পরিধির মতোই ঠেকবে। সেই তুলনায় অনেক ধূমকেতুর গতিপথ একেবারেই অন্য রকম। গণিতবিদেরা সে পথকে অধিবৃত্ত হিসেবে চেনান।
হ্যালির ধূমকেতু মোটামুটি সোয়া পঁচাত্তর বছর অন্তর অন্তর নিয়ম করে সূর্যের কাছে পাড়ি দেয়। কেননা, এই ধূমকেতুর গতিপথ উপবৃত্তাকার। ১৯৮৬ সালে সে দেখা দিয়ে চলে গেছে। আবার আসতে অনেক দেরি।
এই যে হ্যালির ধূমকেতুর কথা বলছি, এর আবিষ্কর্তা এডমণ্ড হ্যালি। ১৬৫৬ সালে নভেম্বরের আট তারিখে এডমণ্ড হ্যালির জন্ম। ১৭৪২ সালের ১৪ জানুয়ারিতে তাঁর প্রয়াণ।
এডমণ্ড হ্যালি ছিলেন গণিতজ্ঞ জ্যোতির্বিদ। তিনি আইজ্যাক নিউটনের গুণগ্রাহী ছিলেন। নিউটনীয় বলবিদ্যা নিয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। নিউটনের মহাগ্রন্থ “প্রিন্সিপিয়া” প্রকাশে আর্থিক দায়ভার হ্যালি গ্রহণ করেছিলেন।
১৬৮২ সালের সেপ্টেম্বরে বছর পঁচিশের তরুণ হ্যালি ধূমকেতু সম্পর্কে প্রগাঢ় চর্চা করেন। নিউটনীয় বলবিদ্যার আলোকে তিনি নিজের জ্যোতির্বিদ্যাচর্চা মাজা ঘসা করেছিলেন। নিজের গবেষণাসঞ্জাত জ্ঞান এডমণ্ড হ্যালি ১৭০৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশ করেন।
সেই গবেষণা সন্দর্ভের নাম ছিল সিনপসিস অফ অ্যাসট্রোনমি অফ কমেটস। হ্যালি তাঁর সন্দর্ভে জানিয়েছিলেন যে হ্যালির ধূমকেতু ফিরে আসবে ১৭৫৮ সালে। কিন্তু নিজের গণনার যাথার্থ্য লক্ষ্য করে তৃপ্তি পাবার জন্য তিনি জীবিত ছিলেন না।
সৌরজগতের প্রত্যন্তে বরফের রাজ্য। ধূমকেতুর কথায় তাদের কথা নাড়াচাড়া করাই যায়। ধূমকেতুর সাথে অবশ্য তাদের চলনপথের বিস্তর ফারাক রয়েছে। বিরাট ফারাক আছে চেহারার প্রশ্নেও। আমাদের সৌরজগতের গ্রহতালিকা থেকে প্লুটোকে বের করে দিয়ে বামন গ্রহের দলে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, বেশ কিছু দিন হল। সেই হিসেবে সূর্য থেকে দূরতম গ্রহ নেপচুন। মানে অষ্টম গ্রহ। সপ্তম স্থানে রয়েছে ইউরেনাস। সে রয়েছে তিন বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে। ওই মাপের দূরত্বটা সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের কুড়িগুণ। নেপচুন রয়েছে সূর্য থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে। সেটা সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের ৩০.১ গুণ।
নেপচুন তার চৌদ্দটি উপগ্রহ নিয়ে সূর্য প্রদক্ষিণ করে ১৬৪.৮ পার্থিব বৎসরে। আর সাতাশটি উপগ্রহ নিয়ে ইউরেনাস সূর্য প্রদক্ষিণ করে চুরাশি পার্থিব বৎসরে।
নেপচুনের ভর ইউরেনাসের থেকে বেশি। সৌরজগতের গ্রহগুলির মধ্যে ভরের প্রশ্নে বৃহস্পতি আর শনির পরেই নেপচুন। ইউরেনাস একটু হলেও হালকা। ইউরেনাসের ভর পৃথিবীর সাড়ে চৌদ্দগুণ। তবে শরীর তার একটু ফোলা। তার পেটের ভেতর তেষট্টিটা পৃথিবী এঁটে যায়।
নেপচুনের ভর পৃথিবীর সতেরো গুণ। তবে তার ভর ইউরেনাসের থেকে বেশি হলেও চেহারার ফোলা ভাবটা অনেক কম বলে মোটামুটি ৫৭.৭৪টি পৃথিবী তার পেটের ভেতর জায়গা পেতে পারে।
নেপচুন আর ইউরেনাসের মধ্যে খুব বড় মিল হল দুটির মূল উপাদান হাইড্রোজেন আর হিলিয়াম। দুটিরই ভিতরে কিছু পাথর মিথেন আর নাইট্রোজেন আছে। তবে সবই অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বরফ হয়ে আছে। ওইজন্যে এই দুই গ্রহকে বরফ দৈত্য বলা হয়।
নেপচুন ইউরেনাসের থেকে চটপটে। নিজের অক্ষরেখায় সে পাক খাচ্ছে ষোল ঘণ্টা ছয় মিনিট সময়ে। অথচ ইউরেনাস নিজেকে পাক খাচ্ছে সতেরো ঘণ্টা চৌদ্দ মিনিট সময়ে।
বয়সে বারো বছরের ছোট বোন ক্যারোলিন এর সঙ্গে একসাথে ইউরেনাস আবিষ্কার করেন উইলিয়ম হার্শেল ( ১৫.১১.১৭৩৮ – ২৫.০৮. ১৮২২)। তারিখটা হল তেরো মার্চ, ১৭৮১। হার্শেল অবশ্য ভেবেছিলেন তাঁরা একটা ধূমকেতু আবিষ্কার করেছেন। পরে তাঁর ভুল ভাঙে। ইউরেনাসের চলাফেরার হিসেবে কিছু গোলমাল লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তাই অঙ্ক কষে দেখতে গিয়ে জন কাউচ অ্যাডামস পরবর্তী আরো একটি গ্রহের অস্তিত্ব আন্দাজ করেন। তাঁর প্রয়াণের পর নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে অঙ্ক কষে অষ্টম গ্রহের কথা বলেন আরবেইন লা ভেরিয়ার। ১৮৪৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জোহান গেল নেপচুন আবিষ্কার করেন।
ভারতের গুণী বিজ্ঞানসাধক মেঘনাদ সাহা (০৬. ১০. ১৮৯৩ – ১৬.০২. ১৯৫৬)ও ধূমকেতু নিয়ে চর্চা করেছিলেন।