• Uncategorized
  • 0

সাপ্তাহিক ধারাবহ -তে প্রভাত মণ্ডল (পর্ব – ১)

ইছামতীর সন্তান – ১

পৃথিবী জুড়ে করোনা ভাইরাসের থাবা।একের পর এক গ্ৰাস করছে প্রাণ।শিশু থেকে বৃদ্ধ কারো নিস্তার নেই, উপরন্তু যেন তাদের শরীরে বাসা বেঁধে আপন রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব‍্যস্ত হয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাসটি।বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থাও ঘোষণা করে দিয়েছে মহামারী।হ‍্যাঁ মহামারী তো বটেই।অজস্র প্রাণ শুকনো বাসি ফুলের মতো পৃথিবী নামক বৃক্ষ থেকে ঝরে পড়ছে।দিশাহারা হয়ে পড়েছে বিজ্ঞান,তবে হাল ছাড়তে নারাজ।ধর্মের নামে বেচাকেনা করা লোকগুলো আজ মুখে কুলুপ এঁটেছেন।ঈশ্বর আল্লাহ গড সকলেই জানান দিচ্ছেন,মানুষ হয়ে মানুষের মাঝেই আমি আছি,আমকে খোঁজার জন‍্য কোনো প্রাসাদোপম রাজগৃহের প্রয়োজন নেই।
অভুক্ত মানুষ, শ্রমহারা মানুষ, দিনান্তে রোজগারের অর্থ নিয়ে নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিনযাপন করা মানুষ আজ অসহায়।তবুও পৃথিবীর বুকে হিংসার স্রোত আজও থামেনি।সেই ভারতবর্ষ বিভাজনের সময় থেকে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান,তার নামের সাথে কর্মের যোগসাজশ রাখতে ব‍্যর্থ।পবিত্রতার নামে অপবিত্রতা সম্পন্ন কাজকর্ম করাটা তাদের মজ্জাগত হয়ে পড়েছে।এই অতি আধুনিক যুগেও সমগ্ৰ বিশ্ব যখন অসহায়, ডাক্তার রূপী জীবন্ত ঈশ্বর মানুষের প্রাণ রক্ষায় নিয়জিত, নিজেদের প্রাণ সংশয় জেনেও তারা দিন রাত এক করে সাধারণ মানুষের সেবা করতে ব‍্যস্ত,ঠিক তখনই শুরু হল এক ঘৃণ্য চক্রান্ত।মানব বোমার বিকল্প হিসেবে তারা এবারে ভারতবর্ষে করোনা আক্রান্ত রোগীকে পাঠানোর বন্দোবস্ত ক’রল।
ভারতীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সেনা,এই গভীর চক্রান্তকে ভেস্তে দিতে নেমে পড়ল।গোটা ভারতীয় সীমান্তে কয়েকগুণ বাড়ানো হল নজরদারি।দেশের সুরক্ষায় ঘোষণা হল সীমান্ত লাগোয়া চাষের জমিগুলিতে কিছু দিনের জন‍্য যাওয়া আসা বন্ধ।এ সংবাদ ঠিক তখনই জানতে পারা গেল যখন হঠাৎ করে চাষীরা নিত‍্যদিনের মত ফসলের ক্ষেতে যাবার সময় ডিউটিরত সেনার থেকে বাধার সম্মুখীন হল —
কুছ দিনোকেলিয়ে আপলোগ ক্ষেতি মে নেহি যা সকতে।কুছ প্রবলেম হ‍্যায়।
বৃদ্ধ জগা বলে ওঠে —-
খ‍্যাতে যাইতে দিবানা মানে,আমাগো খ‍্যাতে আমরা যামু,তুমি কওনের ক‍্যাডা?
জগা প্রাচীন মানুষ, অতশত বোঝে না।বয়স সত্তরের কাছাকাছি।গোটা বিশ্বের রাজনীতি, সীমান্ত,উগ্ৰবাদ,জেহাদ ওসব তার মাথায় আসে না।বোঝে খিদে, পেটের জ্বালা।
খগেন চাষী বলে ওঠে —
বাবা!ওরাম করলি হয়!আমরা গরীব মানুষ, এইসব করে খাই,খেঁটে-খুঁটে খায়।আমরা মরি যাব বাবা না খাতি পেয়ে,যদি মাঠ-ঘাটে যাতি না পারি।
রাস্তায় ভীড় জমে যায় কৃষক ও দিনমজুরদের।সকলের মুখেই এক গভীর বিষণ্ণতা।কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে আসে,অনেক কাকুতি মিনতি শোনা যায় মানুষ গুলোর মুখে,তবুও কর্তব‍্যের জালে আবদ্ধ সেনা নিজের জায়গায় অনড়।

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।