এখানকার বাতাসে স্যানিটাইজারের ঘ্রাণ
রাস্তা অন্ধকারে আকাশে অন্যরকম রোদ,
আজ সম্পর্ক মানে একা জীবন মানে বোধ
সমস্ত পরাবাস্তব ছাপিয়ে দূরগামী বাতাসে
জলে-স্থল ঘরে বাইরে অবিশ্বাসের মহামারি
আজ প্রতি প্রহর গুমোট ২৫ মার্চের মতো
প্রতিটি মানুষ বাহিরে ভিতরে ভীষণ একা
বিশ্বাস আজ সাদা কাফনের থান
আড্ডাবাজ যুবকের বিহ্বল শূন্য দৃষ্টি
ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুর গোপন নিশানায়
মৃত্যু দূত উহান থেকে বেরিয়ে আসে
পৃথিবীর প্রান্ত জুড়ে প্রচন্ড আক্রোশে
অজানা শত্রুর মতো সূর্যের মতো নির্দয়ে
ঊরুদ্বয় প্রসারিত করে টেনে নিচ্ছে
চীন ইরান ইতালী থেকে বাংলা পর্যন্ত
পৃথিবী আজ মহা প্রলয় রাগে ফুঁসছে
এই সন্ধ্যা রাতে উড়ে যায় অপরাহ্নের কাক
পত্রশূন্য বৃক্ষে অগনিত অনাহারি শকুন
থমথমে গুমোট বাতাস ; মুখোশ পরা মানুষ
রাস্তা ফাঁকা, জনশূন্য মসজিদ মন্দির
একাকী মানুষ, একা থাকার রাজকীয় এলান
রাতের মদির পানির প্রবাহ শূন্য পানপাত্র
নিয়ন আলো নিভিয়ে অসংযত নর-নারী
যৌবনের ব্যাবচ্ছেদ থেকে একা হওয়ার ব্রতী
অদেখা ছায়াশত্রু তাড়াচ্ছে সমস্ত পৃথিবীকে
মানুষের ছোঁয়ায় শরীরহীন এক ছায়া শরীর
জাপ্টে ধরে মিশে যায় কোন এক শরীরে
ধীরে ধীরে তার সমস্ত আকাশে মেঘ
ধীরে ধীরে তার প্রিয় মুখ অচেনা
অতপরে ছুড়ে দেয় অশরীরী ঘৃণার প্রদাহে।
দু’চোখ বিম্বিত করে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে নিয়ে
একা পড়ে থাকে কোয়ারেন্টাইন জেলে,
কি এক নিদান কাল মাকে ফেলে যায় ছেলে
বিশ্বাস ভেঙে সম্পর্কহীন নির্জন জঙ্গলে।