গুচ্ছকবিতায় প্রভাত মণ্ডল

১. দেখা দাও

অন্তরে মম তব প্রেম জ্বালা
একাকি দিবসে
মনের হরষে
তোমা কভু নাহি যায় ভোলা ।
তুমি যে মম প্রাণ পিপাসা
তুমি মোর সহচরী ,
অন্তরে মোর একটিই আশা
যেন তোমা নাম নিয়ে মরি ।
মার্তৃ জঠোরে ছিলাম যখন
পাইনি তোমার দেখা ,
দেখা দিবে কিনা শুধু তুমি জানো
হে মোর প্রাণের সখা ।
সখা তব নামে আল্পনা আঁকি
মম হৃদয় মাঝে ,
পাইনি দেখা , তবু ডেকে চলি
সকাল সন্ধ‍্যা-সাঁঝে ।
তুমি আছো জানি সত‍্যের মাঝে
সবারই অন্তরে ,
মিছে তবু ডাকি আল্পনা আঁকি
তোমারই নামটি ধরে ।
হে মোর প্রভু দাও তুমি দেখা
লও মোরে সাথী করে ,
সইতে পারি না এ মানব জনম
তাই ডাকি তব নাম ধরে ।

 

২. প্রাণ গোবিন্দ

হে মোর প্রাণ গোবিন্দ রাধা
তোরে যায় না কভু বাঁধা ,
তোরে ডাকি যতই নামটি ধরে
তুই থাকিস ততই দূরে দূরে
একি মায়ার খেলা জগৎ জুড়ে
তুই দেখাস নব নব ,
তুই যতই রাখিস দূরে মোরে
তবু তোর নামটি লয়ে যাবো ।
রাধা-কৃষ্ণ নামটি লব
আঁখির জলে বুক ভাসাবো
প্রাণ সখা তোর সাথেই রব
তুই যতই রাখিস দূরে ,
তোরে দেখবো দুচোখ ভরে ।
হে মোর প্রাণের সখা
একা একা
আমি থাকি কেমনে ,
শুধু নয়ণ মুদলে দেখি তোরে
মোর মনের গহনে ।
মোর প্রাণ গোবিন্দ কোথা গেলি
আয় না রে তোর সাথে খেলি ,
মোর এ গহন মনের কুঞ্জবনে
কইবো কথা তোরই সনে
চুপ করে তুই যতই থাকিস
মোর ফুটবে মুখে বুলি ।
রাধা-কৃষ্ণ নামটি লয়ে
চল পথে পথে চলি ।

 

৩. আর কবে জাগবে

হাসি পায় কেনো জানো ?
আরে বোকা , বোকা ,
সব গাধার দল ,
এরাই তো মদত দিচ্ছে
বাড়িয়ে দিচ্ছে ওদের বুকের বল ।
এরা কে জানো ?
জনতা , জনতা ,
কেউ এদের দেয়না মান‍্যতা ।
হাসি পায়,,,,
কেউ
বছরের পর বছর লাল টুপি পরে
ঘুরেছে এই বাংলার ঘরে ঘরে ,
শুষেছে কৃষকের রক্ত
ওরা নাকি শ্রমিক মজুরের ভক্ত ।
আর এ টুকুতেই থেমে নয় ,
ওদের হাতে ছিলো হাতুরি
ওরা দেখিয়েছিলো চাতুরি ,
শুষেছে ওরা মজুরের রক্ত
ওরা নাকি এ বাংলার ভক্ত ।
হাসি পায় ।
ওরা রাতারাতি কেটেছিলো
কৃষকের ধান ,
রাখেনি ওরা সত‍্যের মান
তাই তো ওরা চলে গেলো ।
তবুও হাসি পায় ।
কৃষকের সেই ফাঁকা ক্ষেতে
বেড়ে উঠেছিলো কিছু তৃণ
সবুজ সাথী সব নিয়ে
কৃষকের ক্ষেতে গিয়ে
সবই করলো উৎপাটন ,
আজ বাংলার ভবিষ‍্যৎ
কে করবে উদ্ঘাটন !
হাসি পায় ,
ওরা আর এরা
সবই তো মিথ‍্যাতে ভরা ,
ওদের হঠাতে এসে এরা
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো ঘড়া ঘড়া ।
কি হলো !
হাসি পায় ।
লাল ছেড়ে সবুজ তো এলো !
হতভাগা গরীব কৃষক
আজ ভিখারীতে পরিণত হলো ।
হাসি পায় ।
এবার আসছে ধেয়ে ওরা
বুদ্ধিতে এদেরও মগজ সেরা ,
শেষ সম্বল টুকু এরা
যা আছে তোমার দেহে পরা
কেড়ে নেবে , তৈরি করবে ওরা ,
হবে লাল , সবুজ , গেরুয়া
আরও কত রঙের নিশান
এবার তো ডুবতে হবেই ,
বেজে গেছে প্রলয় বিষাণ ।
হাসি পায় ।
আর কবে জাগবে হে জনতা ।

 

৪. কৃষ্ণচূঢ়া

লাল টুকটুক প্রাণ প্রেয়সী
লাবণ‍্যময়ী রূপ তোমার ,
তোমার ওই রূপের ছটায়
জগৎ বিভোর ,
তুমি আনো নতুন খবর ,
তুমি যে স্বপ্ন মাখা
আদুর গায়ে
শিশুর মুখের হাসি ,
তোমায় আমি বড্ড ভালোবাসি ।
গাঁয়ের ওই পথের বাঁকে
পুকুর পাড়ে ,
রাঙা মাটির পথটি ধরে
তুমি সারি সারি ,
তুমি এলে সবার সাথে
আমি দিতে পারি আড়ি ।
লাজে লাল মুখটি তোমার
মাধুরীতে মেশা ,
তোমা দেখে মনে ধরে
সর্বনাশা নেশা ।
তুমি এলে ফাগুন আসে
মধু মাসে ,
শীতের সাথে আড়ি ,
ওগো মোর কৃষ্ণচূঢ়া
লাজে রাঙা , বসন্ত আগমনী ।

 

৫. হে বসন্ত

মেঘ মেলেছে আপন ডানা
তোমার ও যে নেইকো মানা
সুদূর কোনো ইচ্ছে পাখি
গাইছে আপন মনে ,
এসো বন্ধু হাতটি ধরো
তোমায় সাজাবো সযতনে ,
তোমায় রাখবো মনের কোণে ।
অস্তরাগের রামধনু ওই
সাতটি রঙের মেলা ,
মেঘের সাথে করছে সেও
লুকোচুরি খেলা ।
মেঘের কাজল তোমার চোখে
স্বপ্ন বিভোর কল্পলোকে ,
তোমার তরে হৃদ মাঝারে
গেঁথেছি ফুলের মালা ,
বন্ধু তুমি পথ ভুলোনা
দেখো বয়ে গেলো বেলা ।
তুমি এলে বাঁধবো তোমার
খোঁপায় , ফুলের মালা ।
লাল হলুদে রাঙাবো বেণী
খেলবো , তোমার সনে হোলি
ব্রজের রাখাল বাঁশির সুরে
গাইবে ব্রজবুলি ।
হে বসন্ত এসো না গো
আর কেনো এত হেঁয়ালি ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।