হে রুদ্র
হে রুদ্র হে প্রলয় আজি নবাগত
তুমি মোর দ্বারে
এ পৃথ্বী আবারো কাঁপুক
তব জটাজুট ভারে ।
আজি আঁধারেতে ভরা চারিদিক
নিশি ছাড়া নাহি দেখি দিবা
তব কণ্ঠের বিষে হোক বিনাশ
তাতে কে রহিবে না রহিবে কিবা ।
হে সারথি তব রুদ্র শঙ্খ বাজাও
ওই রশি ধরো মহাকাল রথের
আজি এ মানবের মাঝে
দেখা দাও এ ধরাতলে মহামানবের।
তুমি পারো না কি তব চক্রব্যূহে
বিনাশিতে অশুভের বাণী
এ পৃথিবী বিনাশিয়া কবে
নবরূপে জন্মিবে জানি ।
২. বৈশাখি অধিবাস
হে বৈশাখ তব শঙ্খধ্বনি
উঠিছে বাজি নবরঙ্গে সাজি
পুরাতনের বলিদান
নুতনের কলতান
দাবদাহ ত্যাজি চৈত্রের অবসান আজি
আনিছে বহিয়া নুতনের বাণী ।
আজ আকাশে বাতাসে নবমধুমাস
শুকনো পাতা ভুমিতে লুটিয়া
খেলিছে নবরঙ্গে
ধূলি পঙ্ক সঙ্গে
শত শত পুষ্প মুকুল উঠিছে ফুটিয়া
কান পাতি শোনো ওই বৈশাখি অধিবাস ।
৩. আমির অস্তিত্ব
আমির অস্তিত্ব খুঁজি আজ
পিছু ফিরে দেখি নেমেছে যে সাঁঝ
তোমার আঁচল খুঁজি
বড় ভয় মনে ,
আমির অস্তিত্ব বুঝি
এসেছে শ্মশানে ,
নীলাকাশে আজ পড়ে শুধু বাজ
মানবের মাঝে শুধু দানবেরই রাজ ।
তবু ভাঙা মনে প্রেম জাগে
রিনিঝিনি সংগীত রাগে
ধরণী ধূলির পরে
ফিরে এসো মানবতা ,
ধ্বংস ভষ্ম হোক
দানবের জয়গাঁথা ,
আমির সত্তা টুকু জাগুক আগে
করুণ বিনাশী এই ভূমিভাগে ।
৪. যদি
যদি হঠাৎ কোনো রাতে
স্বপ্নেতে ঘুমঘোরে ,
হাতড়ে হাতড়ে খুঁজি
নির্জনে ঘুমঘোরে ,
ফেলে আসা চেনা পথে মৃত পৃথিবীর লাশ !
যদি প্রখর তপ্ত মরু
বালুকা রাশির মাঝে ,
একফোঁটা জল পেতে
সকাল হইতে সাঁঝে ,
জনপদ খুঁজি ওগো মনে লয়ে অভিলাষ !
যদি সভ্য মানব মাঝে
ফকিরি ভিক্ষা মাগি ,
আপন মনেতে ওসে
মানবতা ওঠে জাগি ,
মানবের মাঝে আজি মানবতা খুঁজে ফিরি !
যদি এ ধরা বক্ষ মাঝে
একতিল সুখ চাই ,
মানবে মানবে সবে
ভেদাভেদ ভুলি যায় ,
গাঁথিয়া মনুষ্যত্ব হার ধরাতলে ফেরি করি !
যদি ওগো যদি
মরুবুকে নদী ,
এই ধরাতলে
মানবতা ফলে ,
এ মনন শান্ত হবে রুধির স্রোত থামিলে ।
৫. কর্মের ছাপ
জন্মটা একবার কেনো
শতবার হোক
এ পৃথিবী বক্ষে এই মানবের মাঝে ।
প্রথম ভোরের রৌদ্র
গায়ে মেখে
সমস্ত মলিনতা ধূলিতে মিশে যাক নিরবধি ।
দ্রুতগামী শব্দের কোলাহলে
শুরু হোক
প্রতি প্রাতের সেই অসীম কর্মযঞ্জ রাজপথে ।
কর্মে পূর্ণ হোক
এ বিপুল ধরা
তাহাতেই নবযুগ সূচিবে এ ভুবনে শেষাবধি ।
জনমে মরণে মিলি
ক্ষুদ্র এ সময়
আশুগতি মন্থর জীবন প্রভাত সাঁঁঝে ।
ভালোবাসা আর ব্যথা
সবই তো শূণ্য হবে
শুধু কর্মের ছাপটুকু ছড়াইবে দূরাবধি ।