• Uncategorized
  • 0

সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে দীপান্বিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ২)

ঢেপ্সির প্রেমকাহিনী

দ্বিতীয় ভাগ

ঢেপ্সি ফিরে এসে কোলবালিশে হেলান দিয়ে বলতে শুরু করল তার রোমিওর গল্প। আমি ধীরেসুস্থে নোটস লিখছি কান রয়েছে ঢেপ্সির দিকে। কালো অক্ষরগুলো আমার কাছে তখন বিরক্তিকর হয়ে উঠছে। এক ফোঁটাও মন নেই সেদিকে। ঢেপ্সি বলেই চলেছে রোমিওর সঙ্গে ওর পরিচয় কিভাবে হয়। ওদের পরিচয়ের সূত্র ফেসবুক।
একদিন বিকেলে হঠাৎ করে অজয় রায় নামে একটা ছেলের আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে। ছেলেটার প্রোফাইল দেখে ভালো লাগে বলে সে একসেপ্ট করে নেয়। তারপর যথারীতি ছেলেটার কথা ভুলে যায়। সাত আটদিন পর বিকেলের দিকে সে যখন অনলাইন হঠাৎ করে নজর যায় অজয় অনলাইনে আছে। তার কি মনে হওয়াতে সে টুক করে একটা Hi মেসেজ করে। সেকেন্ডের মাথায় ওদিক থেকে রিপ্লাই আসে হ্যালো। তারপর ‘কেমন আছো, কি করছো’ টুকটাক কথাবার্তা হয়।
তারপর আবার যথারীতি যোগাযোগ বন্ধ দিন পনেরো মতো। তখনো পর্যন্ত ওই ছেলেটার জন্য তার সেভাবে কোনো ফিলিংস তৈরি হয়নি। তারপর একদিন বিকেল বেলায় সে নিজে থেকে মেসেজ করে ‘ও দাদা অনেকদিন অনলাইনে আসোনি কেন?’ ওপার থেকে উত্তর আসে ‘সামনে একটা চাকরির পরীক্ষা আছে। রেলের গ্রুপ বি পরীক্ষা। একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার এটা আমার কাছে’ সে পাল্টা প্রশ্ন করে ‘চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার কেন?’ অন্য দিক থেকে রিপ্লাই আসে পরীক্ষা হয়ে যাক তারপরে বলবো।
পরীক্ষার ছিল ১৫ ইফেব্রুয়ারি। সেদিন রাত্রে অজয়কে অনলাইন দেখে আবার মেসেজ করে ‘দাদা পরীক্ষা কেমন হলো?’ উত্তর দিলো ‘ভালো, 82 নাম্বার মত উত্তর দিয়েছি। এবার দেখা যাক কি হয়।’ তখন ঢেপ্সি রিপ্লাই দেয় ‘দেখো ভালোই হবে কিন্তু চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার কেন, এটা কি বলা যাবে? যদি একান্ত ব্যক্তিগত না হয় তবে তুমি শেয়ার করতে পারো।’ ছেলেটি বলল ‘আচ্ছা শোন, বলছি। আমার পাঁচ বছরের একটা সম্পর্ক ছিল। মেয়েটার ডিসেম্বরে বিয়ে হয়ে গেছে। তার নাম ছিল কথাকলি চ্যাটার্জী। আমাদের বিশেষ যোগাযোগ হতো না। তার বাড়ি ভীষণ রেস্ট্রিকটেড ছিল। খুব কম কথা হতো আমাদের। একদিন সে ফোন করে জানায় তার বাড়ি থেকে বিয়ে ঠিক করেছে। আমরা প্ল্যান করলাম পালিয়ে যাবৈ কিন্তু শেষপর্যন্ত মেয়েটা রাজি হল না। বাড়ি থেকে পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবে বলে রাজি হয়ে গেল। ছেলেটা সরকারি চাকরি করে, চুঁচুড়ায় বাড়ি। আমি তাকে হাতে পায়ে ধরতে শুধু বাকি রেখেছিলাম। বলেছিলাম আমাকে এক বছর সময় দাও আমি ঠিক একটা কাজ ম্যানেজ করে নেবো। মেয়েটা উত্তরে বলেছিল এক বছরের মধ্যে কি তুমি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবে? আমি তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলাম রেলের পরীক্ষা আছে সামনে। আমি ওটায় ঠিক পাস করে যাবো। ওই চাকরিটা পেয়ে গেলে তোমার বাড়ি থেকে আর কোনো অসুবিধা করবে না। তুমি একটু অপেক্ষা করো কিন্তু সে অপেক্ষা করেনি তার বিয়ে হয়ে গেছে। আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম তাই পরীক্ষাটা দিলাম। বুঝলি এবার ব্যাপারটা?’

সব শুনে ঢেপ্সি বলল ‘বাদ দাও ওসব। যা হবার তা হয়ে গেছে। সেটা আর কখনোই ফিরবে না। তুমি বরং সামনের দিকে এগিয়ে যাও। হয়তো ভালো কিছু তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য।’
সে আবার একটা মেসেজ করলো ‘কোন ইয়ারে পড়ো তুমি?’ ওপার থেকে উত্তর এলো ‘সেকেন্ড ইয়ার’। ঢেপ্সি ততক্ষণে তার প্রোফাইল দেখে ফেলেছে অজয়ের‌ও জন্ম 1995 সালে। তাই সে বলল ‘তুমি আর আমি সমবয়সী। তোমাকে তুই করে বলতে পারি?’
অজয় হাসির ইমোজি সমেত রিপ্লাই দিলো ‘বলতেই পারিস।’
‘ আচ্ছা, বেশ ঠিক আছে।’ তবে আজ থেকে আমি তোমাকে তুই করেই বলবো ঢেপ্সি রিপ্লাই দিলো।

আমি নোট লেখা কখন থামিয়ে দিয়েছি। এমন সময় ফোনের আওয়াজে ছন্দপতন ঘটল। আমার বাড়ি থেকে ফোন এসেছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। সব্বনাশ এরপরে বাড়ি না ফিরলে দক্ষযজ্ঞ বেধে যাবে ।তাড়াহুড়ো করে নোটসের বাকি পার্ট গুলো ছবি তুলে নিলাম। বেরিয়ে আসার সময় ঢেপ্সির কানে কানে বললাম ‘রাতে ফোন করছি বাকি গল্পটা বলিস কিন্তু।’

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।