সম্পাদকীয়

নপুংসক প্রেমের কবিতা লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে কলম। ইনিয়েবিনিয়ে কথা বলার দিনও শেষ। কৃষক চাষ করে যথাযোগ্য মূল্য পাচ্ছে না বলে সে মাটির গোলামী ছেড়ে কংক্রিটের দাসত্ব করার দিকে চলে যাচ্ছে। জমি জুড়ে হাজার হাজার অট্টালিকা উঠছে কিন্তু সেইসব অট্টালিকা দালানগুলো যারা কিনছে তারা এগুলো কিনে রাখছে সম্পত্তি বাড়াবার জন্য, থাকার উদ্দেশ্যে নয়। ফলে চাষ জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যেদেশের ৬০% লোকের মাথা গোঁজার মতো ভদ্রস্থ গৃহ নেই সেদেশের বুকে এইসব সৌধমালা তার দারিদ্র্যকে আরও বেশি ব্যঙ্গ এবং আরও বেশি প্রকাশ ও প্রকট করে তোলে নাকি? এখানে পথশিশুদের জন্য স্কুল না তৈরি করে ছাতার মতো রাস্তায় রাস্তায় মন্দির গড়ে ওঠে।
অদ্ভুত আমাদের দেশ যেখানে জনপ্রিয় চ্যানেলে চ্যানেলে কবচ, মাদুলি কিংবা গ্রহমুক্তির আংটির বিজ্ঞাপন ঘটা করে দেখানো হয়। ধর্মীয় বাবাজিদের কুসংস্কারসমৃদ্ধ বানী লাফিয়ে লাফিয়ে টিআরপি খায়। জোতিষকে বিজ্ঞান বলে প্রচার করে গ্রহমুক্তির ব্যবসা চলে।
অদ্ভুত এক নৈরাজ্যের মধ্যে আমরা এখন বাস করছি যেখানে ছাত্রসমাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নৃশংস ভাবে মারধোর করা হয়। তাদের নৈতিক ও শারীরিক নির্যাতন করে তাদের প্রতিবাদের রবকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যপ্রণদিতভাবে।
দেশের প্রশাসন চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেসব দেখে।
তবে যে শুনি এখন নিরক্ষরতার অন্ধকার অনেক মিটেছে। কি লাভ সেই পুঁথিকেন্দ্রিক শিক্ষায় যে শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত মূর্খ বানিয়ে রাখে, সামান্য লাভের জন্য গুন্ডাদের তাঁবেদারি করতে শেখায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ যারা করছে তাদের সমর্থন করার নূন্যতম মেরুদণ্ডটুকু গঠন করে না।
ভাবুন সবাই ভাবুন। আমি বলছি না রাস্তায় বেরিয়ে আসতে, নিজেদের বৃত্তে
থেকেই যথাসাধ্য প্রতিবাদ করুন এই অন্যায়ের, বিরোধিতা করুন কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুক্তিবোধহীন এইসব কাজের। ছোট ছোট বৃত্তেই আপনার প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। বিন্দু বিন্দু স্ফুলিঙ্গ জমেই অগ্ন্যুৎপাত হবে একদিন।।