একটি শিকারের গল্প অথবা একটি প্রেমের গল্প অথবা একটি মামুলি কথোপকথন
১। ‘পাখির চোখের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি’ কথাটি কি ঠিক আছে? ২। না। কথাটা হবে ‘পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ‘। ১। আচ্ছা, ঠিক আছে। ‘পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ‘এই কথাটি ঠিক আছে? ২। কেন? ঠিক থাকবে না কেন? ১।সব পাখির কি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকে? ২। আমার মনে হয় থাকে। পাখিদের খুব উপরে উড়তে হয়। অনেকদূর আর অনেক নিচে তাদের দেখতে হয়। তাই তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকতেই হয়। ১। আর যে সব পাখি অনেক উঁচুতে ওড়ে না? তাদেরও কি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকতে হয়। বা থাকে?. ২। তুমি কি বিশেষ কোন পাখির কথা বলতে চাও? ১। যেমন মনে করো, দোয়েল। তার কি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। ২। মনে হয় না। সে খুব দ্রুত পাখার দিক পরিবর্তন করে। এতো দ্রুত দিক পরিবর্তন করে কি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব? ১। তাহলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখার বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি? ২। আমার মনে হয় দ্রুত মাথা ঝাকালে হবে না। এক দৃষ্টিতে অনেকক্ষন ধরে কোন জিনিসের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। ১। যেমনটা বকেরা করে? ২। ধরো, যেমনটা বকেরা করে। ১। কিন্তু বকেরা হয়ত এটা করে কারন তাদের দৃষ্টিশক্তি তেমন ভালো নয়! তাই তাদের শিকারকে তারা চোখে চোখে রাখে। আর সতর্কতার সাথে অপেক্ষা করে। সঠিক সময়ের। এর সাথে হয়ত ‘তীক্ষ্ণদৃষ্টি’র তেমন কোন সম্পর্ক নেই! ২। তীক্ষ্ণদৃষ্টির সাথে তাহলে কিসের সম্পর্ক আছে? ১। অনেকটা দূর, অনেক বিস্তৃতভাবে, অনেক ভালোভাবে দেখার সম্পর্ক আছে। ২। পাখিরা কি এমন দেখে না? ১। কিছু পাখি এমন দেখতে পারে। কিন্তু সব পাখি কি এমন করতে পারে? মনে হয় না। তাহলে পাখিরা তীক্ষ্ণদৃষ্টির অধিকারি কি বলা যায়? ২। বলা যায় না। ১। এমন কি কোন প্রজাতি আছে যাদেরকে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা যায়? ২। হয়ত তাদের মধ্যে কোন বৈশিষ্ট্য প্রকটভাবে উপস্থিত থাকতে পারে কিন্তু নির্দিষ্ট একটা বৈশিষ্ট্য কোন একক প্রজাতির সব সদস্যের মধ্যে সমানভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে না। ১। তুমি এই সিদ্ধান্ত কখন নিলে? ২। এখন, তোমার সাথে আলাপ করতে করতে। ১। তোমার এই সিদ্ধান্তের সারকথা তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে? ২। মনে করো বাঘ, আমরা মানুষের মধ্যে বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেলে তাকে বলি বাঘের বাচ্চা। সেই বৈশিষ্ট্য কী? ১। সাহসিকতা? ২। হতে পারে। শুধু সাহসিকতা? ১। বীরত্ব? ২। হতে পারে। কিন্তু সেই গুন কি শুধু সাহসিকতা আর বীরত্ব দিয়েই তৈরি? ১। তাহলে বুঝি কি প্রস্তাবনা পেশ করতে চাও? ২। আমার প্রস্তাবনা হলো মানুষের ভেতর যে বৈশিষ্ট্য দেখলে তাকে বাঘের বাচ্চা বলি সেই বৈশিষ্ট্যকে আমরা কখনও সংজ্ঞায়িত করতে পারবো না। প্রতিটি সংজ্ঞাতেই অনেক অনেক ব্যাপার অপ্রকাশিত থেকে যাবে। এই বৈশিষ্ট্য বাঘোচিত। সেটা দেখা যায় বলেই আমরা তাকে বাঘের বাচ্চা বলি। এ থেকে দু’টো ব্যাপার প্রমাণ হয়েই যাচ্ছে। এক. কোন প্রাণীর লক্ষনসূচক বৈশিষ্ট্যগুলো একান্তই ওই প্রাণীর। অন্য প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে তার ক্ষুদ্র অংশই প্রকাশিত থাকে। দুই. ওই প্রাণীর ওই বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভাষা দিয়ে ব্যাখ্যার অতীত। ১। আর তা দিয়ে কি বোঝা যায়? ২। বোঝা যায় যে, সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ব্যতিক্রম হলেই কেউ কাউকে লক্ষ্য করে। কিন্তু যা সর্বব্যাপী, যা দিবালোকের মতো অস্পষ্ট তা আড়ালে থেকে যায়। ১। এই কারনেই কি সূর্যের আলোর চেয়ে চাঁদের আলো আমাদের কাছে বেশি আদরনীয়? ২। অনেকগুলো কারনের মধ্যে এটাও একটা তো বটেই। ১। হা হা। কি বলতে চাও? ২। বলতে চাই এই যে আমি সর্বস্ব দিয়ে আমি চারপাশে আছি তোমার এর কী কোন অর্থ আছে তোমার কাছে? ১। কিন্তু এর সাথে পাখির মতো তীক্ষ্ণদৃষ্টির কী সম্পর্ক? ২। কোন সম্পর্ক নেই। ১। তাহলে আজেবাজে কথা বাদ দিয়ে বলো, পাখির মতো তীক্ষ্ণদৃষ্টি হবে নাকি অন্যকোন পাখি যেমন লিখবো শকুনের মতো তীক্ষ্ণদৃষ্টি লিখবো? ২। শকুন লিখতে হবে তা না, কিন্তু তীক্ষ্ণদৃষ্টি আছে এমন কোন পাখির কথা লিখতে পারো। ১। ওকে, প্রবলেম সলভ, তুমি এখন তোমার ফিলসফি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারো।