নব্বই দশকের কবি , প্রাবন্ধিক । মহাসচিব- অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন। বিভাগীয় সম্পাদক: অনুপ্রাস সাহিত্য পাতা -দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক কালধারা। বার্তা সম্পাদক -দৈনিক হাতিয়া কণ্ঠ। বিশেষ প্রতিনিধি: শিরদাঁড়া। বাংলাদেশ প্রতিনিধি: মননস্রোত (ত্রিপুরা, ভারত)।
সভাপতি- বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কবিতা পরিষদ।
সাবেক সভাপতি, বদরুন্নেসা কলেজ ও সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগ।
সদস্য, হাসুমনির পাঠশালা।
বাবা -মো: আবদুল করিম। মাতা- আনোয়ারা বেগম। পড়াশুনা- এম.এ। জন্ম -২১ আগস্ট, ১৯৭৩, জেলা- লক্ষ্মীপুর, বাংলাদেশ।
বাংলা কবিতায় বিজ্ঞান যুগের সূচনা
পর্ব- ২
পরবর্তী সময়ে কবিরা বিভিন্নভাবে নান্দনিক আঙ্গিকে গীতিকবিতা, লোকজ উপাদান, নগর জীবন, মরমীবাদ, সুফীইজম, ধর্মচেতনা, আধ্যাত্মিকতা এবং অবচেতন মনে বিজ্ঞানকে আর্শীবাদ না দেখে দু’একজন অভিশাপ রূপে শংকিত কাব্য রচনা করেছেন। বর্তমান সময়ে কবিতা কেন বিজ্ঞান মুখী হবে এই বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় বাংলা কাব্য চেতনা যখন নতুন মাত্রিকতা নিয়ে আর্বিভাব হয়েছে। তখনই দুটি পক্ষ বিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। এতে একটি পক্ষ অল্প সময়ের ব্যবধানে বিজ্ঞান কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের সাথে সাথে সাদরে গ্রহণ করেছে। অন্যপক্ষে বিরোধীতা হচ্ছে কবিতা নান্দনিক বিষয়। এখানে বিজ্ঞানের মিশ্রণ ঘটলে মানুষের মনের যে ছান্দিক প্রকাশ সেটি বাধাগ্রস্ত হবে। মানুষ মনের সুপ্ত স্বপ্ন অতিমাত্রায় বিজ্ঞানের কঠিন ফ্রেমে বাধা পড়বে। কিন্তু বিজ্ঞান কবিতার বই প্রকাশের পর সমালোচনায় এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বরং নান্দনিকতার আদল ঠিক রেখে বিজ্ঞানকে ব্যাকরণিক কলায় সিদ্ধ অর্ন্তভুক্তি বা সমন্বয় করেছে যা পাঠককে কবিতার ঘোরে আচ্ছন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। রামেন্দু সুন্দর ত্রিবেদীর প্রবন্ধ -কবি ও বিজ্ঞান এবং অব্যক্ত প্রবন্ধ গ্রন্থে বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক জগদীশ চন্দ্র বসু লিখেছেন কবিতা ও বিজ্ঞান। পূর্বের অনেক অগ্রজ কবিদের কবিতায় ইঙ্গিতপূর্ণ ও প্রচ্ছন্ন ভাবে বিজ্ঞান সমন্বয় হয়েছে। ষাটের দশকে ৪ কবির (কবি আনম আবদুস সোবহান, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি শেখ সামসুল হক ও কবি আতাহার খান) যৌথ কবিতার বই শব্দের আকাঙ্খায় সূর্য এই বইতেও বিজ্ঞানের সমন্বয় রয়েছে। ষাটের দশকে কবি হাবীবূল্লাহ সিরাজীর কবিতাতে বিজ্ঞান সমন্বয় হয়েছে তার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি (১৯৭৭), মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাস (১৯৮১), হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি (১৯৮২) প্রকাশ হয়। আর পরবর্তীতেও এই কবির শূন্য, পূর্বে না উত্তরে (২০০৯), আমার জ্যামিতি (২০১২), পশ্চিমের গুপ্তচর (২০১২), মিথ্যে তুমি দশ পিঁপড়ে (২০১৪), কবিরাজ বিল্ডিংয়ের ছাদ, বডিমিস্ত্রি ফেসবুক (২০১৬) প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞান কবিতার সচেতন এই আন্দোলনটি অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনের বর্তমান নির্বাহী সভাপতি কবি ও সাংবাদিক শেখ সামসুল হক ষাটের দশকে লেখা তার কাব্যগ্রন্থ চমৎকার সাহস গ্রন্থে বিজ্ঞানকে সমন্বয় করেছেন। বইটি প্রকাশিত হয়েছে পরে। তিনি তখন চিন্তা করেছেন কৃষি জীবন থেকে মানুষ যান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করেছে তাই কবিতায়ও নতুনত্ব আনা দরকার। আর এই ভাবনা থেকেই কবিতায় বিজ্ঞান সমন্বয়ের বিষয়টি জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে। তারই নির্দেশনা, অনুপ্রেরণা, সার্বিক সমর্থন ও মনিটরিং -এ অনুপ্রাসের কার্যক্রমের ৫টি শাখার একটি গবেষণার মূল্যায়ণ শাখা একজন সহ-সভাপতির অধীনে কবিতায় বিজ্ঞান সমন্বয়ের কাজ করে আসছে। তখন ১৯৯৯ সালে মিয়া মুসা হোসেন সম্পাদিত তৎকালীন দৈনিক পত্রিকা নতুন প্রজন্মের কবিতা শিরোনামে আর্টিকেল লেখে। তখন অনুপ্রাস থেকে কবিতা হবে বিজ্ঞান আশ্রিত, বিজ্ঞান হবে কবিতা আশ্রিত শ্লোগান তোলা হয়। আর একই সাথে কবি খোশনূর, কবি আমীর আবদুল্লাহ, কবি সামসুন্নাহার ফারুক, কবি রেজা সারোয়ার, ফরিদুজ্জামান সহ অনুপ্রাসে অনেকের কবিতাতেই কম বেশি বিজ্ঞান সমন্বয় করা শুরু হলো। কবি হাসান আলীমের তোমার উপমা (১৯৯৪), কিউব কবিতা ও অন্য চাঁদ (২০১৬), পরবর্তীতে কবি হাসনাইন সাজ্জাদীর ২০১১ সালে একশ কোটি তেজস্ক্রিয়তা কাব্যগ্রন্থ, ২০১৪ সালে বিজ্ঞান কবিতার রূপ রেখা, রীনা তালুকদার’র (এই নিবন্ধকার), বিজ্ঞান কবিতা শীর্ষক অলংকারিক বিন্যস্ত ৪টি (বিজ্ঞান কবিতা, প্রেমের বিজ্ঞান কবিতা, সাত মার্চ শব্দের ডিনামাইট, স্বাধীনতা মঙ্গলে) একক কাব্যগ্রন্থ ও বিজ্ঞান কবিতা ভাবনা প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হলে বাংলাদেশের সাহিত্যের প্রথম সচেতন ভাবে বিজ্ঞান সমন্বয় করার জন্য কবিতার প্রথম প্রবন্ধ বই হিসাবে লিখিয়ে সমাজ ২টি প্রবন্ধ ও বেশ কটি কবিতার বই দিক নির্দেশনা হিসাবে পেয়ে গেছে। বর্তমানে বিজ্ঞান কবিতা লেখে প্রায় ৫০ভাগ কবি।