এক একটা দিন বড়ো স্মৃতিকাতর হয়। যেমন না বলা ভালোবাসা মেদুরতা বিছিয়ে রাখে সংসার-উদাসীর মনতলায়–অনাহূত বাতাস খামখা ভাসিয়ে নিয়ে যায় সুরগুঞ্জার তীক্ষ্ণ কুশ, তেমনি করে শূন্যমাঠের বুকে গরুর পাঁজ পড়ে চাকাদাগের আগেভাগে। আর আমি হয়ে পড়ি সেই ধানশূন্য মাঠ, যাকে কোনও একদিন বতরবতী করেছিল বুকবাঁধা চাষার লাঙ্গল। জলথৈ-থৈ বীজতলার আলে দাঁড়িয়ে প্রদীপ বলেছিল, “ভরাবর্ষার মাঝে আমি হেমন্তের ছাই দেখতে পাই। ভরাযৌবনে শুনি প্রৌঢ়ত্বের হুতাশ।”
হেমন্ত প্রদীপের বড়ো আদরের ছিল। বর্ষা ছিল তার প্রেম আর সে ছিল আমার ছেলেবেলা–ফেলে আসা দিনের আস্ত একটা বর্ষাবান মেঘ। একটা গোটা হেমন্ত–সভ্যতা-সাক্ষ্মী গাঁ। আঁধারি নীলের বুকে যে সর্গবাতী, তার দিকে তাকিয়ে প্রদীপ গুনগুন করতো। কথা বলতো যত পুব্বুপুরুষের সঙ্গে। হাত জোড় করে বলতো, “ভালো থেকো গাঁ–ভালো থেকো জল–বর্ষবান চাষার পোয়াতি বৌ–সব্বাইকে ভালো রেখো গো!”