কিছুদিন আগে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জিনিয়া তাঁর ফেসবুকে প্রশ্ন রেখেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বেশ হেনস্তা করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিও অভিন্ন প্রশ্ন তুললেন। বোধগম্য, বাংলাদেশে সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকায় ঘাটতি-কমতি আছে বলেই এমন প্রশ্ন উঠেছে। আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক; ফাতেমাতুজ জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। অর্থাৎ তাঁরা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় নামের প্রতিষ্ঠানটির অংশীজন; কাজেই তাঁদের প্রশ্ননিহিত উদ্বেগের সংগত কারণ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পৃক্ত যাঁরা, তাঁদের সবার মনে এখন এমন প্রশ্ন আছে। তবে শুধু উত্তর নির্দেশ করলেই হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়কেও তার কাজ প্রশ্নাতীতভাবে করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা; লেখাজোখা প্রতুল এবং সেগুলোর আলোকে কিছু বলা যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শুধু প্রজ্ঞা-সজ্ঞার ফেরিওয়ালা নন, তিনি মনুষ্যত্বের বাতিঘর। তাঁর প্রণোদনায় শিক্ষার্থী শুধু বিদ্যান হবেন না, আলোকিত মানুষও হবেন। আবার স্মরণ করছি রবীন্দ্রনাথকে। তিনি ১৬ বছর বয়সে ১৮৭৭ সালে লিখেছিলেন, ‘আমাদের দেশে সৃষ্টিছাড়া এক শিক্ষাপ্রণালি প্রচলিত রহিয়াছে যাহাতে শিক্ষার্থীর রুচির পরিবর্তন হয় না, তাহারা স্বাধীনভাবে চিন্তাও করিতে পারে না।’ (শিক্ষার হেরফের) আজ এত দিন পরে আমাদের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে এ দুটি বৈশিষ্ট্য কি পাওয়া যায়? নির্দ্বিধ উত্তর : না। আর তার জন্য ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে শিক্ষক ও শিক্ষা-প্রশাসকদের। সর্বোপরি, শিক্ষকের (সব পর্যায়ের) কর্তব্য হলো, শিক্ষার্থীকে আচরণ, বচন, বসন ও বিচরণে মানুষ করে তোলা।
বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার পর রবীন্দ্রনাথকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? রবীন্দ্রনাথ সোজাসাপটা উত্তর দিয়েছিলেন, যেখানে বিদ্যা উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ উৎপাদিত বিদ্যা বিতরণই বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিদ্যা বিতরণ ও উৎপাদন করবেন। আর সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে হতে হবে মুক্তবুদ্ধির প্রতিষ্ঠান। এ কথাটি মনে রেখে ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নবীন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ; তাঁদের পত্রিকা ‘শিখা’র শীর্ষে বাণী ছিল, ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট।