বিশেষ রচনায় তনিমা হাজরা

একটি অমৃত সন্ধ্যা

আজিজুলহক’কে আভূমি প্রণাম

না কোনো ছবি তুলে নয়,
এই অক্ষরস্পর্শসুখ যেন বুকজোড়া হয়ে রয়,
একি দেখলাম তোমার ব্যথিত চোখে? রাসায়নিক বিশ্লেষণে বুঝিয়ে দিলে
ভারতের বর্তমান অবক্ষয়,
কী কাব্যময়, অহো কী কাব্যময়।।
কবিতায় গলে যাক খরা,
কবিতায় নিভে যাক শোক,
কবিতায় জেগে থাক অতন্দ্র প্রহরা
কবিতায় শব্দ পোড়ালে
সে মশাল হোক।
যারা সব রাজসিংহাসন অধিকার করে পারিষদবর্গ নিয়ে বসে আছে, ওদিকে নয় আমার দেবালয়,
লাঠি নিয়ে কম্পমান শরীরে হেঁটে যাচ্ছ ক্ষয়িষ্ণু দেহে,
পরণে সামান্য বস্ত্র, ছিন্ন,জীর্ণ তবু সে কিছুতেই সামান্য নয়, তোমার আত্মাভিমান সেই তো তোমার রাজবেশ যা তোমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়।।
জ্ঞানী তো এমনই হয়,
বিস্তৃর্ণ মাঠের মতো অন্তহীন, খাপছাড়া ঘাসওঠা গায়ে ধুকপুক করে এক
অপার, অসীম হৃদয়।।
রূপবান কাকে বলে সেই চোখ জানে,
যে বোঝে কিসে রূপ বিচ্ছুরিত হয়।।
যারা বিকৃত সাজে বিক্রীত হতে এসেছে ওরা তো ফেরীওয়ালা,
ফেরী করে ফুরিয়ে যাবে একদিন,
উড়ে যাবে শীতের পত্রের মতো সব পরিচয়।।
শুধু আশীর্বাদ কোরো যেন অক্ষরে অক্ষরে জ্বলে উঠি অন্ধকারে ,
খ্যাতিমোহ লজ্জা থেকে এ স্বাধীন প্রাণ আজীবন যেন সংযত হয়।
ঝলমলে নয় উজ্জ্বল তুমি,
চকচকে নয় দীপ্তিমান,
ভারি নয় খাঁটি।
এই শীর্ণ লাঠি আর শীর্ণকায় দেহ
এইসব আলোকিত দ্যুতির কাছে
আমার লেখকজন্ম যেন আজীবন আভূমিপ্রণত হয়।।। ত নি মা।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।