প্রবন্ধে মৃদুল শ্রীমানী
ঝাঁপ দিবি দে সমুদ্দুরে
সমুদ্রের জল ফেনায়িত হয়ে এসে তার পা ধুইয়ে দিচ্ছিল। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি। সে রাগ করছে। কেন আমি জলে নামছি না। আসলে আমি তো জলে নামার প্রস্তুতি নিয়ে আসি নি। আজ সারাদিন জল আর পাখি। কত কত পাখি। উড়ছে আবার জলে বসছে আবার উড়ছে। আমি সেই ছন্দটা অনুবাদ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি কবিতায়। প্রেমেন্দ্র মিত্র আলতো হেসে দেখা দিয়ে গেলেন। হাতে তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত বই ‘সাগর থেকে ফেরা’। সারাখন নামকবিতার লাইন উচ্চারণ করতে ভাল লাগছে। আর যখন তার পায়ে নূপুরের মতো হয়ে সেজে উঠছে ফেনিল সাগরজল, তখন সত্যেন দত্ত কবিতার লাইন থেকে চোখ তুলে আমার দিকে তাকিয়েছেন। আমরা। আমরা দুজন কবিতার পংক্তিতে পংক্তিতে কথা বলি। কবিতার নাম আমরা। মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে। আমি যেই বললাম মুক্তবেণীর কথা, অমনি সে বলল, বেণীর কথা সেই আরেক কবিতায় আছে। কী কবিতা? ‘পঞ্চনদীর তীরে, বেণী পাকাইয়া শিরে’। বাবা, বাবা, মনে পড়ে, সেই লিডার নদীর জলে নেমেছিলাম…কী ঠাণ্ডা জল…বাবা, বাবা, জলে নামো না কেন?