প্রবন্ধে বিদ্যুৎ রাজগুরু
মানবতার পূজারী সাহিত্যিক নীলকণ্ঠ বিদ্যাসাগর
বাংলা সাহিত্যকে মধ্যযুগীয় ভাবনা থেকে তুলে নিয়ে যুগোপযোগী করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।অনমনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী বিদ্যাসাগরের পাণ্ডিত্য ছিল বিপুল।তার সাহিত্য সাধনা কর্মকাণ্ড ছিল মানব কল্যানে নিয়োজিত।বিদ্যাসাগরের অবদান সমাজ সংস্কারকের ক্ষেত্রে অধিক হলেও ভাষা ও শিক্ষা সংস্কারেও তার ভূমিকা ব্যাপক।মানবতা বোধই ছিল তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল।তিনি ছিলেন মানব দরদী সাহিত্যিক।ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় বৃটিশ শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।সে সময় সমাজ, শিক্ষা, ধর্ম, অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়।
কিন্তু প্রকৃত সত্য তিনি বাংলা ভাষার প্রাণদান করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা গদ্য ছিল প্রাণহীন।বাংলা সাহিত্যে ছিল সংস্কৃত ভাষার প্রভাব ।যা নির্দিষ্ট কয়েকজন পন্ডিতের চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বিদ্যাসাগরই বাংলা ভাষাকে সেই বলয় থেকে বের করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠকুর বলেছেন, “তাঁর প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা।যদি এই ভাষা কখনো সাহিত্য সম্পদে ঐশ্বর্যশালিনী হইয়া উঠে, যদি এই ভাষা অক্ষর ভাবজননী রূপে মানবসভ্যতার ধাত্রীগণের ও মাতৃগণের মধ্যে গণ্য হয়, যদি এই ভাষা পৃথিবীর শোক-দুঃখের মধ্যে এক নতূন সান্তনাস্থল, সংসারের তুচ্ছতা ও ক্ষুদ্র স্বার্থের মধ্যে এক মহত্ত্বের আদর্শলোক, দৈনন্দিন মানবজীবনের অবসাদ ও অস্বাস্থ্যের মধ্যে এক নিভৃত নিকুঞ্জবন রচনা করিতে পারে, তবেই তাঁহার এই কীর্তি তাঁহার উপযুক্ত গৌরব লাভ করিতে পারিবে। বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষার প্রথম যর্থার্থ শিল্পী ছিলেন। তৎপূর্বে বাংলায় গদ্য সাহিত্যের সূচনা হইয়াছিল, কিন্তু তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা গদ্যে কলানৈপূণ্যের অবতারণা করেন।”
মধ্যযুগীয় রীতি থেকে বাংলা ভাষাকে বের করে এনে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষার মধ্যে শৃঙ্খলা বোধ আনেন।ভাষা ও শিক্ষা সংস্কারে তাঁর ভুমিকা অনস্বীকার্য।বর্ণ পরিচয়, বোধোদয় (১৮৫১), কথামালা (১৮৫৬), আখ্যানমঞ্জরী, বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭) প্রভৃতি কালজয়ী পুস্তক রচনা করেন। এছাড়াও তিনি লেখেন শকুন্তলা (১৮৫৪), সীতার বনবাস (১৮৬০), মহাভারত, ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) প্রভৃতি। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে মানবতা বোধের স্বাক্ষর।মানবতাকে মুলধন করেই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।তিনি একজন মানবতা বাদী সাহিত্যিক ছিলেন।বাংলা ভাষার সাহিত্য রচনা করে আদান প্রদানের ভাষা হিসাবেই ব্যবহার করেননি।তার মাধামে যে মানব কল্যান হয় তা তিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন।সাহিত্যের প্রকৃত সার্থকতা তিনিও প্রথম সৃষ্টি করেছিলেন।
‘ বেতাল পঞ্চবিংসতি’ তাঁর রচিত প্রথম বাংলা বই। বৈতালপচীসী’ নামক হিন্দি বইয়ের অনুবাদ।মার্শাল সাহেবের অনুরোধে তিনি তা হিন্দি থেকে অনুবাদ করেছিলেন। তিনি তার নিজস্বতা অক্ষুণ্ণ রেখে বেতাল পঞ্চবিংশতি রচনা করেন।এই প্রথম বাঙালি গল্প উপন্যাসের স্বাদ পেল। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের অসাধারণ পণ্ডিত বিদ্যাসাগর মহাকবি কালিদাসের কাব্য গ্রন্থ ‘রখুবংশ’, কুমারসম্ভব ,’মেঘদ্যুত সম্পদনা
করেন। তিনি অনুবাদ করেন ‘শকুন্তলা’ ‘ভ্রান্তিবিলাস’ শেক্সপিয়ারের রচনা The comedy of Errors’এরও অনুবাদ করেন।যা থেকে তাঁর হাস্যরস প্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়।জানা যায় বিদ্যাসাগরের ইচ্ছা ভারতবর্ষের ইতিহাস লেখার।যা শারীরিক কারণে শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।এছাড়াও তিনি মার্সম্যানের out lines of the history of Bengal for the youths in india ‘কে বাংলায় অনুবাদ করে লেখেন বাংলার ইতিহাস।সংস্কৃতি ভাষার পণ্ডিত তিনি ইংরাজি ভাষাতেও সমান দক্ষ ছিলেন। ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ কেবল বাংলা সাহিত্যেই নয় বিশ্ব সাহিত্যে একটি অন্যতম শোকগাথা।তাঁর অন্তরের বিলাপ ফুটে ওঠে বন্ধু রাজকৃষ্ণ বন্দোপাধ্যের তিন বছরের ছোট্ট মেয়ের অকাল প্রয়াণে।শিশু সাহিত্যেও তাঁর অবদান নমস্য।ছেলেবেলায় সকলেই তাঁর ‘প্রথম ভাগ দ্বিতীয় ভাগ পড়েছে।সহজ উপায়ে সংস্কৃত শিক্ষার জন্য তিনি উপক্রমণিকা লেখেন৷
সে সময় মর্মান্তিক সতীদাহ প্রথা চালু ছিল।উইলিয়াম বেন্টিং এর আমলে রাজা রামমোহনের প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিবারণ আইন পাস হয়।সতীদাহ প্রথা নিবারণের ফলে অল্প বয়স্কা নারী বিধবা হতো।পতিতা বৃত্তিসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে নিযুক্ত হয়ে যাচ্ছিল।ভ্রূণ হত্যাও বাড়তে থাকে।বিদ্যাসাগর এগিয়ে এসে নিষিদ্ধ বিধবা বিবাহ চালু করলেন। ১৮৫৬ সালে তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।বিপুল অর্থ ব্যায়ে বিধবাদের বিয়েরও ব্যবস্থা করেন।এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনলেন একক প্রচেষ্টায়।‘বিধবা বিবাহ’ নিয়ে একটি প্রবন্ধে বলেছেন, ‘হা ভারতবর্ষীয় মানবগণ…হতভাগ্য বিধবাদিগের দূরবস্থা দর্শনে, তোমাদের চিরশুষ্ক নীরস হৃদয়ে কারুণ্য রসের সঞ্চার হওয়া কঠিন…। হায় কি পরিতাপের বিষয়! যে দেশে পুরুষ জাতির দয়া নাই, ধর্ম নাই, ন্যায়-অন্যায় বিচার নাই, হিতাহিত বোধ নাই, সদ্বিবেচনা নাই, কেবল লৌকিকতা রক্ষাই প্রধান ধর্ম ও পরম ধর্ম; আর যেন সে দেশে হতভাগা অবলাজাতি জন্মগ্রহন না করে।’
তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে সুন্দরভাবে বাল্য বিবাহের কুফল, বহু বিবাহের কুফল, বিধবা বিবাহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।তাকে এই জন্য অনেক নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে।কখনও ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় কখনওবা যুক্তি সহকারে তাদের জবাব দিয়েছেন।এই ভাবে তিনি উলঙ্গ সত্যাকে প্রতিষ্ঠাকরেছেন।‘বাল্যবিবাহের দোষ’ প্রবন্ধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বলেছেন, ‘বিধবা জীবন কেবল দুঃখের ভার এবং এই বিচিত্র সংসার তাহার পক্ষে জনশূন্য অরণ্যাকার পতির সঙ্গে সঙ্গেই তাহার সমস্ত সুখ সাঙ্গ হইয়া যায় এবং পতি বিয়োগ দুঃখের সহ সকল দুঃসহ দুঃখের সমাগম হয়।
বিদ্যাসাগর ছিলেন আধুনিক।তিনি অচলায়তন ভেঙে দিয়ে পরিবার ও সমাজের ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করলেন।তিনি মনে করতেন পুরানো ধ্যানধারণার যদি পরিবর্তন না হয় সামাজের উন্নতি সম্ভব নয়।এ জন্যে তিনি বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন।
১৮৪২ সালে বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায় বালবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয়।বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে তিনি সামাজিক আন্দোলন করেন। এর পক্ষে বহু স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র সরকারের কাছেও পাঠান। আবেদনপত্রগুলি ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে।আবেদনপত্রে প্রায় পঁচিশ হাজার স্বাক্ষর ছিল। অপরপক্ষে, রক্ষণশীল সমাজ আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করে সরকারের কাছে আবেদনপত্র পাঠান। যুক্তি ছিল যে,এ রকমের আইন পাস হলে নাকি দেশবাসীর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা হবে।বিপক্ষের আবেদন পত্রে পঞ্চান্ন হাজারের বেশি সাক্ষর ছিল।বিরোধীদের পক্ষেই পাল্লা ভারী থাকা সত্ত্বেও ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়। রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে তিনি ও তার বন্ধুরা সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মীর সঙ্গে এক বিধবার দেন।তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি এতে সাফল্য লাভ করে তিনি পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাস করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন করেন।রক্ষণশীল সমাজের মূলে এই ভাবে তিনি কুঠারাঘাত করেন।
বিদ্যাসাগরের প্রকাশিত ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা বিষয়ে প্রকাশিত বইটি এই সময় সমাজে সোরগোল তোলে। রক্ষণশীল সমাজ ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়। নেমে আসে বিদাসাগরের উপর নানা ভাবে আক্রমণ। বৌদ্ধিক জগতেও আক্রমণ নেমে আসে।ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত সরাসরি লিখলেন,‘বাধিয়াছে দলাদলি লাগিয়াছে গোল।/ বিধবার বিয়ে হবে বাজিয়াছে ঢোল।।’বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পত্র লেখকরা বিদ্যাসাগরকে তীব্র ভাবে আক্রমণ করে। প্রথমে সমর্থন করেও বিরুদ্ধবাদীদের তুষ্ট করেন শোভাবাজারের রাজা রাধাকান্তদেব।তবে শান্তি পুরের তাঁতিরা বিদাসাগরের পাশে দাঁড়ালেন। বিদ্যাসাগর পেড়ে শাড়ি বুনতে শুরু করে।তাতে লেখা থাকত ‘সুখে থাকুকু বিদ্যাসাগর চীরজীবী হয়ে।রক্ষণশীলরা পাল্টা লিখলেন ‘শুয়ে থাক বিদ্যাসাগর চিররোগী হয়ে।’ শেষমেশ বিধবা বিবাহ আইন পাশ হল।
একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,বিদ্যাসাগরের জয় হলেও এই বিয়ের সূত্রেই তাঁর বৌদ্ধিক ধারণায় নেমে এল আঘাত। এ বার রমাপ্রসাদ রায়ের কাছ থেকে। তিনি এ বিয়েতে আসবেন বলেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন আগে তিনি জানালেন, এ বিয়েতে তাঁর মনে মনে মত রয়েছে। সাধ্য মতো সাহায্যও করবেন। কিন্তু বিবাহস্থলে না-ই বা গেলেন! ঈশ্বর সব বুঝলেন। আর দেওয়ালে টাঙানো মনীষীর ছবিটির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘ওটা ফেলে দাও, ফেলে দাও।’ ছবিটি রাজা রামমোহন রায়ের।রমাপ্রসাদ তাঁরই পুত্র।রমাপ্রসাদ যে আঘাত দিলেন, পথে নেমে কুৎসিত ভাবে তা-ই যেন প্রকট করল সে কালের বাঙালি জনতার বড় অংশ। বিধবাদের বিয়ে দেওয়ার ‘অপরাধে’ সমাজে একঘরে করা হল বিদ্যাসাগরকে। পথে বেরোলেই জোটে গালমন্দ, ঠাট্টা, অশালীন ইঙ্গিত। কেউ বা মারধর, খুনের হুমকিও দেয়। ব্যাপারটা শুধু হুমকিতে থামল না। বিদ্যাসাগর শুনলেন, তাঁকে খুন করার জন্য ভাড়াটে গুন্ডাদের বরাত দিয়েছেন কলকাতার এক নামী ব্যক্তি। বিদ্যাসাগর নিজেই সেই তথাকথিত নামীর ঘরে গেলেন। বললেন, ‘শুনলাম, আমাকে মারবার জন্য আপনাদের ভাড়াটে লোকেরা আহার-নিদ্রা ছেড়ে আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।’ এই সময়পর্বে ছেলেকে রক্ষার জন্য ঠাকুরদাস বীরসিংহ থেকে জেলে-সর্দার তথা লেঠেল শ্রীমন্তকে বিদ্যাসাগরের কাছে পাঠান। ঠনঠনের কাছে এক হামলার উপক্রম থেকে বিদ্যাসাগরকে রক্ষাও করলেন শ্রীমন্ত সর্দার’বিদ্যাসাগর দৃঢ়টার সঙ্গে বলেছিলেন,‘“বিধবা বিবাহের প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম, জন্মে ইহার অপেক্ষা অধিক আর কোন সৎকর্ম করিতে পারব তাহার সম্ভাবনা নাই; এ বিষয়ের জন্য সর্বস্বান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রাণান্ত স্বীকারেও পরাঙ্মুখ নই।”রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বলে উঠলেন, ‘বৃহৎ বনস্পতি যেমন ক্ষুদ্র বনজঙ্গলের পরিবেষ্টন হইতে ক্রমেই শূন্য আকাশে মস্তক তুলিয়া উঠে— বিদ্যাসাগর সেইরূপ বয়োবৃদ্ধিসহকারে বঙ্গসমাজের সমস্ত অস্বাস্থ্যকর ক্ষুদ্রতাজাল হইতে ক্রমশই শব্দহীন সুদূর নির্জনে উত্থান করিয়াছিলেন… তাঁহার মহৎ চরিত্রের যে অক্ষয়বট তিনি বঙ্গভূমিতে রোপণ করিয়া গিয়াছেন তাহার তলদেশ সমস্ত বাঙালিজাতির তীর্থস্থান হইয়াছে।’সেই তীর্থস্থান রক্ষার দায়িত্ব প্রত্যেক বাঙালির। আর তা হলেই নীলকণ্ঠ বিদ্যাসাগরের বুকে জমে থাকা অপমানের বোঝা খানিক লাঘব হবে।