‘আম্ফান রিলিফ নেটওয়ার্ক’ এর পক্ষ থেকে দু’টি টিম সুন্দরবন রওনা দেয়। তার ক্ষুদ্র বিবরণ
১ঃ ★হেমনগর-যোগেশগঞ্জ:
এলাকায় মাধবকাঠি নামের একটি অঞ্চলে রায়মঙ্গলের জল ঢুকে প্রায় পুরো এলাকাটাই ভেসে গেছে। প্রায় ২৫০ টি পরিবার আমফান-পীড়িত।
★রূপমারী:
মোট ৫০টি পরিবার জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে।
★পাটলিখানপুর:
আমাদের দেখায় এই অঞ্চলটির কোনো কোনো অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহিষপুকুর, চক পাটলি, খাঁপুকুর সহ প্রায় হাসনাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ডুবে। সরকারী সাহায্য প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
২ঃ
★ গোসাবা ব্লকটা বেশ কয়েকটা দ্বীপ নিয়ে গঠিত। খবর পাওয়া গেছে এই ব্লকের অন্ততঃ চারটে জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে। পুঁইজালি, জটিরামপুর, রানীপুর, মন্মথনগর। আমাদের টিম চুনোখালী হয়ে ভায়া সম্ভুনগর মন্মথনগর যেতে পেরেছিল। গোটা পথটা যাওয়ার জন্যে গাড়ির পথ নেই। যদি পেরোতেই হয়। ফলে যাতায়াতে সময় লাগে বিস্তর। সেই কারণেই আর অন্য অঞ্চলে যেতে পারেনি আমাদের টিমটা।
★মন্মথনগরে বাঁধ ভেঙেছে এক কিলোমিটার জুড়ে। জোড়াতালি দিয়ে বানানো বাঁধ। ভাঙার পর তার কঙ্কালসার চেহারা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে চলেছে ছেলে খেলা। প্রায় ৬ হাজার বিঘে জলমগ্ন। মানে নোনাজলের তলায়। ফসল নষ্ট হয়েছে, আগামী কয়েকবছর ফসল হবে না। গরু বাছুর মারা গেছে। পুকুর খালের মাছ মরে ভেসে উঠছে ব্যাপকহারে। আনুমানিক ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে। নদীর ঠিক পড়েই যাদের বাস তাদের স্বর্বস্ব গেছে। সে সংখ্যাটাই ৫০-৬০ জনের আশপাশে হবে।
★যেহেতু ওই এলাকায় কোনো ফ্লাড সেন্টার নেই, তাই তাদের যাওয়ার কোনো জায়গাও নেই। ওদিন রাতে একটা সরকারী ফার্ম হাউসে তারা সাময়িক আশ্রয় নিয়েছিল। রাতে খিচুড়ি খাইয়েছিল পঞ্চায়েত। ব্যাস এটুকুই। এখনো ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়নি সরকারপক্ষ। এছাড়াও যাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়নি তাদের অন্যান্য ক্ষতিও কম না, গাছ পড়েছে, চাল উড়ে গেছে, নৌকো ডুবে গেছে, দোকানের জিনিস নষ্ট হয়েছে কারো কারো লক্ষাধিক টাকার।
★গোসাবার স্থানীয় যোগাযোগ যারা তাদের হাতে আপাতত কাজ চালানোর জন্য সাথে থাকা ৬০,০০০ টাকা দিয়ে এসেছে আমাদের টিম।
৩ঃ APDR এর একটি টিম গেছিল মৈপিঠ-কুলতলীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। তাদের বিবরণেও একই ছবি উঠে এল। আশার বিষয়, প্রান্তিক মানুষেরা নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এলাকা মেরামতের কাজে লেগে পড়েছেন
★ আগামী এক-দু’ সপ্তাহে আমাদের পরিকল্পনাঃ
১ঃ উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবনের মধ্যে থাকা চার-পাঁচটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রিলিফ পৌঁছানো। রিলিফের মধ্যে এই মুহুর্তে ড্রাই ফুড, বেবি ফুড, স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং ত্রিপল সবচেয়ে জরুরী।
২ঃ আমাদের ডাক্তার বন্ধুরা নিঃস্বার্থভাবে উদ্যোগ নিয়ে চলেছেন। খুব শীঘ্রই এই এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেব।
৩ঃ যে এলাকাগুলো তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত সেখানে আগামী দু’ সপ্তাহে আমরা অর্থ সাহায্যই করব।