জন-জনি জনার্দন সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে তৃষ্ণা বসাক (পর্ব – ২৫)

জীবন বেশি লম্বা না সিরিয়াল?

পর্ব ২৫

ওয়ার্ক এডুকেশন পরীক্ষা দিয়ে  বাড়ি ফিরে দেখলাম একজন নতুন অতিথি। সে এমন এক অতিথি, যে এসে আর যাওয়ার নাম করে না এবং তাকে কেউই বলে না ‘অতিথি তুম কব যাওগে?’ বরঞ্চ সে ক্রমে  বাড়ির একজন সদস্য হয়ে ওঠে, বাড়ির প্রায় মুখ্য সদস্য, বাড়ির সব কাজকর্ম তখন থেকে তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতে লাগল। একটা সাদা কালো টিভি। বাবার সঙ্গে শর্ত এইরকমই ছিল। মাধ্যমিকের শেষ দিনে টিভি আসবে। তার আগে প্রথম টিভি দেখা মারিক বাড়িতে ‘মহানগর’ সিনেমার অংশবিশেষ। তারপর  মেজর ব্রেক চুরাশি সালে ইন্দিরা গান্ধীর অন্ত্যেষ্টি। যে মৃত্যু নিয়ে গোষ্ঠগোপাল দাস গান বেঁধেছিলেন ’৩১ অক্টোবর, কী নিদারুণ খবর পেল ভারতবাসী বেতারে।’ মিন্টুদাদের বাড়িতে ঠাসা ঘরে বসে দেখা ।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু, এবং নিজের বাড়িতে, নিজেরই দেহরক্ষীর হাতে, সবাই হতচকিত এবং শোকার্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টিভিতে সে অন্ত্যেষ্টি দেখতে আসা লোকজনকে বেশ আমোদগেঁড়ে মনে হচ্ছিল। মুহূর্তে মুহূর্তে ঘরের এক এক কোণ থেকে উল্লাস বাজছিল –ওই ওই যে রাহুল, প্রিয়াংকা, আচ্ছা প্রিয়াংকাই বড় না? হুবহু ঠাকুমার মুখ। ওই ওই দেখ বচ্চন, আহা রাজীবের মুখটা দেখেছিস? মা-মরা ছেলে বলে কতা।এবার থেকে তো সংসারের সব বাজার, দোকান, রেশন ধরা ও বেচারার ঘাড়ে! কাছাটা নিলে পারত! আরে ইতালিয়ান বউ, টিপে দিয়েছে, বুঝলি না!
আমি সেই জণগণেশের মধ্যে এক কোণে বসে টের পাচ্ছিলাম কি প্রচণ্ড শক্তি এই নতুন  দৃশ্যশ্রাব্য মাধ্যমের, যা একটি জাতীয় শোককে একটা সার্বজনীন বিনোদন করে ফেলতে পারে। 
ইসি টিভি, তাতে একটা শাটার লাগানো ছিল।টিভি দেখার সময় সেই শাটারটা খুললে  অন্ধকার পর্দা দৃশ্যমান হত। ধাপগুলো এইরকম-
শাটার খোলা, সুইচ অন করা, রিমোট টেপা। আবার দেখা হয়ে গেলে এর ঠিক উল্টো ক্রম- রিমোট টেপা, সুইচ অফ করা এবং শাটার বন্ধ করা। এই স্টেপগুলোর একটু এদিক ওদিক হলে মা খুব ক্ষেপে যেত।  এই ধাপগুলো সে খুব শুদ্ধাচরণে ফলো করত, যেন ধর্মীয় রিচুয়াল। আমার মার ধর্মে মতিগতি কোনদিনই দেখিনি। তেতলার চিলেকোঠাটি ঠাকুরঘরে রূপান্তরিত হয় মূলত দিদার তাড়নায়, সেখানে কিছু নিরীহ চেহারার ঠাকুরেরও আমদানি হয়। বেচারিরা অবোলা আর নিরীহ বলেই বিনা প্রতিবাদে ওখানে থাকতে রাজি হয়েছিল। গরমকালে ওই ঠাকুরঘর ছিল হট চেম্বার। বাড়ির ষাটখানা জানলা দরজার তিনটে জানলা ওইটুকু ঘরে, তাতে আবার সোনায় সোহাগা কাচের শার্সি। দুপুরে একটা ডিম রেখে আসলে  বিকেলে চমৎকার সেদ্ধ খাওয়া যেত। এই ঘরে দুবেলা জল বাতাসা দিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজানো, এই কাজটুকু মা খুব চমৎকার আউটসোর্সিং করেছিল, মানে কাজটা প্রথমে দাদা, পরে আমার ওপর চলে আসে। আমি অবশ্য সব নেগেটিভ জিনিসকেই পজিটিভ করে নিতে দক্ষ বরাবর (এর উল্টোটাও বলাই বাহুল্য)। এই ঠাকুরঘরে নিদাঘের দুঃসহ দুপুরগুলো হয়ে উঠল আমার কবিতা লেখার আদর্শ সময়। বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপুজোটা মা অবশ্য অনেকদিন করেছিল। পাঁচালী পড়তে পড়তে তার ঢুলে পড়ার দৃশ্য আমার কাছে এখনো আইকনিক।
সেই মায়ের কাছে টিভিই হয়ে উঠল উপাস্য দেবতা।  সেটা ১৯৮৬ সাল। দুখানা মাত্র চ্যানেল, ডিডি ন্যাশনাল আর ডিডি বাংলা। যতদূর মনে পড়ে চ্যানেল ঘোরাতেও হত না। সাড়ে আটটা নাগাদ কলকাতা দূরদর্শনের অনুষ্ঠান ঝপাং করে শেষ করে দিয়ে ডিডি ন্যাশনাল শুরু হয়ে যেত। সেসময় রমরম করে বামফ্রন্ট আমল চলছে। কেন্দ্রের বঞ্চনা, বিমাতৃসুলভ আচরণ -এসব ছিল খুব পরিচিত শব্দ। তাই কলকাতা দূরদর্শনের অনুষ্ঠানের সময়ের স্বল্পতার পেছনেও আমরা সেই বিমাতৃসুলভ আচরণ দেখতে পেতাম। আমার বাবা প্রথম থেকেই একে বোকা বাক্স বলে ডাকতে শুরু করে। তবে বিশ্বকাপ ফুটবল মরশুম শুরু হবার পর বোকা বাক্সটি বাবার কাছে কিছু মান্যতা পেল। জুন মাসের সেই প্যাচপেচে গরমে  সারারাত জেগে দেখা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচগুলো, মারাদোনার ঈশ্বর হয়ে ওঠা, ঈশ্বরের হাত দিয়ে করা সেই কুখ্যাত গোল… যদিও আমার বরাবরের পক্ষপাত ব্রেজিলের দিকে, তবে সেই বিশ্বকাপে আমার মতো অনেকেরই হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি। শিল্প মশাই, শিল্প। রোমানিয়ার মিস্টি প্লেয়ারগুলোও অনেকের হৃদয় হরণ করেছিল। এইসব খেলা দেখতে দেখতে একটা কমন হাহুতাশ ছিল- ইন্ডিয়া ফুটবল মানচিত্রে কোথায়? উঠে আসত পেলের কলকাতায় আসার কথা এবং অবধারিতভাবে পেলে যে মারাদোনার চেয়ে অনেক বড় প্লেয়ার –সে নিয়ে তর্কাতর্কি প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যেত, আর তার শেষ হত এইভাবে , দূর আমাদের দেশ জীবনে বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইই করতে পারবে না, আমরা কেন মিছিমিছি গলা ফাটিয়ে মরছি। 
এখন নতুন নায়কের দিন। মেসি না মারাদোনা এই  নিয়ে নতুন তর্ক নবীনে প্রবীণে। কিন্তু জুন মাসের সেই আর্দ্র গরম রাত, খেলা দেখতে দেখতে হাফ টাইমে জানলার গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধ চরাচর দেখা, আকাশের বুকে জেগে থাকা চাঁদ, চণ্ডীর বাগানের  তিনতলা সমান বেল গাছে জমাট বাঁধা রহস্য, দূরে রাসমাঠে পামগাছের সারি- সব মিলিয়ে কেমন এক অপার্থিব সৌন্দর্য। প্রকৃতি তো একটুও বদলায়নি, কিন্ত ঘিরে থাকা ঘনবদ্ধ মুখগুলো দূরদর্শনের প্রথম সিরিয়াল ‘বুনিয়াদে’র মতো সিপিয়া টোনের ছবি হয়ে গেছে!
ফুটবলের শোক অবশ্য আমরা কাটিয়ে উঠেছিলাম ক্রিকেটে। তিরাশির বিশ্বকাপে, যাকে বলা হত প্রুডেনশিয়াল কাপ,   অজেয় ক্যারিবিয়ানদের হারাবার পর থেকেই, ভারত ক্রিকেট মানচিত্রে প্রথম সারিতে শুধু চলে আসে, তাই নয়, বিজ্ঞাপন জগত ও দূরদর্শনেরও চোখের মণি হয়ে ওঠে ক্রিকেট। একটা সময়  প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের প্রতিটি বল বসে বসে দেখেছি, আমি তো বটেই, আমার মাও। আর দেখতে দেখতে কভার, গালি, ইনসুইং, ইয়র্কার, ফুলটস – এ সমস্তই আমাদের শেখা হয়ে যায়। সেই ওয়ান ডে ম্যাচগুলোর উত্তেজনা ভোলার নয়। শারজাতে মিঁয়াদাদের অবিশ্বাস্য শেষ বলে ছ্য় মেরে জেতানো কে ভুলতে পারে? ইন্ডিয়ার ওয়ান ডে ম্যাচগুলোতে আমরা যে শুধু হাতে প্রাণ নিয়ে বসে থাকতাম, তাই নয়, যে যেখানে বসে থাকত, তাকে সেখানেই বসে থাকতে হত।পয়া জায়গা, পয়া বসার ভঙ্গি – এসব অনেক কালা জাদু ছিল! বল কমে আসছে, আর রানের পাহাড় বাড়ছে, এরকম কত পরিস্থিতিতে ম্যাচ বার করে নিয়ে গেছে টেল এন্ডাররা। সেসময়   আমরা বিশ্বাস করতাম, ওরা দেশের জন্যে খেলতে গেছে, আমরা হেরে গেলে যেমন ভেঙে পড়ি, তেমনই ওরাও ড্রেসিংরুমে গিয়ে লুকিয়ে কান্নাকাটি করে।বেটিং কেলেংকারির আগে পর্যন্ত সেই অমল বিশ্বাস ছিল আমাদের। আমাদের প্রত্যেকের তখন আলাদা আলাদা নায়ক। সুনীল গাওস্কর (আমি গাভাসকার বলি এখনো) তখন বেশ সিনিয়র, তাঁকে সম্ভ্রম হত, কিন্তু তাঁর প্রেমে পড়তে কাউকে দেখিনি তেমন। তিনি তাঁর মার্সিলিন নাম্নী স্ত্রীর প্রতি খুব অনুরক্ত- এ ব্যাপারটাও বোধকরি আমাদের তেমন সহ্য হত না। কপিলদেব লড়াকু অধিনায়ক, তিনি আমাদের বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, ব্যাটে বলে অদ্বিতীয়, তাঁকে আমরা সবাই ভালবাসি, তাঁর পামোলিভ কা জবাব নেহি নিয়ে হাসাহাসি হয়, তিনি নাকি র‍্যাপিডেক্স পড়ে ইংরেজি বলতে শিখেছেন, তিনি আমাদের মতোই একজন ক্যাংলাসপার্টি, তাঁকে ভালবাসা যায়, কিন্তু প্রেমে পড়া? নাহ। সেসময় হুড়মুড়িয়ে সবাই রবি শাস্ত্রীর প্রেমে পড়ত। আর মনে হয় এদের অভিশাপেই অমৃতা সিং -র কেরিয়ার টা নড়বড়ে হয়ে গেল। আমার আরাধ্য ছিল সেসময় নবাগত, নিষ্পাপ হাসির আজহারউদ্দীন। ইডেনে গিয়ে সাতাশি সালে ইন্ডিয়া পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচে আমি ইমরান খানকে  না দেখে তাকেই দেখেছি।সেই ম্যাচে আজহারউদ্দীন সেঞ্চুরি করেছিল। শিল্পের মতো ব্যাট, আর তার হাত ধরেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ফিল্ডিং ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। সেই আজহারের সঙ্গে এই আজহারকে মেলাতে খুব কষ্ট হয়।মাঝে মাঝে মনে পড়ে তার সেই প্রথম স্ত্রী, ভারি মিস্টি মেয়ে নৌরীনের কথা। কেমন আছে সে?
ফুটবল আর ক্রিকেটই ছিল সেসময় টিভির মুখ্য আকর্ষণ। সেসব ছাড়া কলকাতা দূরদর্শনের প্রোগ্রাম সামান্যই। একদম প্রথম যুগের সিরিয়াল সোনার সংসার। শংকরের কাহিনী। তারপর সোনেক্স এর রাজত্বকাল। জোছন দস্তিদার । তেরো পার্বণ। সেই সিরিয়ালগুলো নিয়েও আমরা হাসাহাসি করতাম, আর  এখনকারগুলো দেখলে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে।দূরদর্শনে তখন চৈতালি-শাশ্বতী যুগ। সবাই বলত ওরা নাকি দুই বোন! একইরকমভাবে যাঁরা খবর পড়তেন, তাঁরাও বেশ বড় স্টার তখন। ছন্দা সেন, তরুণ চক্রব র্তী। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সত্যি মিথ্যের গল্প ঘুরত। এক সুন্দরী সংবাদপাঠিকা সম্পর্কে প্রচলিত মিথ ছিল উনি নাকি শ্বশুরকে বিয়ে করেছেন। এই পুরো ব্যাপারটার মধ্যে কিন্তু একটা মাথা ঝিমঝিম করা ডিম আগে না মুরগি আগে জাতীয় সঙ্কট আছে। ভেবে দেখুন স্বামীকে বিয়ে না করলে শ্বশুর পাওয়া সম্ভব না। অর্থাৎ মরাল অব দা স্টোরি হচ্ছে কিছুতেই আপনি সরাসরি শ্বশুরকে বিয়ে করতে পারবেন না, আপনাকে প্রথমে স্বামীকে বিয়ে করে কিছুদিন ইন্টার্নশিপ করে তারপর শ্বশুরকে বিয়ে করতে হবে!
এই যে, কে কাকে বিয়ে করছে, কার বউ কার সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছে, সিরিয়ালের এই যে মহান পরম্পরা, তা শুরু হয়েছিল কিন্তু শোভা দের কাহিনী থেকে নির্মিত একটি সিরিয়াল, ‘স্বাভিমান’ দুপুর তিনটেয় হত, সেটা দিয়ে। মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন কিট্টু গিদোয়ানি।শক্তিমান আর এয়ার হোস্টেস এই দুই সিরিয়াল করে তিনি বেশ নাম করেছিলেন।  এর পরের তিনদশক সিরিয়ালগুলি পরকীয়া আর শাশুড়ি বউয়ের কোন্দলের ডাঁটা চচ্চড়ি দিয়েই চালিয়ে গেল। যদিও টিভির প্রথম যুগে ডিডি ন্যাশনালে আমরা অসাধারণ কিছু সিরিয়াল দেখেছি। কচ্চে ধূপ (ভাগ্যশ্রী আর আশুতোষ গোয়ারিকর উঠে এল, অমল পালেকরের সিরিয়াল), সার্কাস (শাহরুখ খান), নুক্কড়, তামস, শ্রীকান্ত, শো থিম, ছোটি বড়ে বাতে এবং আরও অসংখ্য। 
যে কথা বলছিলাম, টিভি আসার পর মা হয়ে উঠল তার একনিষ্ঠ  দর্শক। কিছু না পেলে বেচারি কৃষিকথা পর্যন্ত দেখত। কৃষিকথা শুরুর আগে ‘ও চাষিভাই, মাজরা পোকা হানা দিতে পারে’ এই বিজ্ঞাপনটাও বাদ দিত না। 
সাদা কালো পালটে যখন রঙ্গিন টিভি এল, তখন সবিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, অনুষ্ঠানের পেছনের দেওয়ালের যেসব ওয়াল হ্যাঙ্গিং দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি, তা আসলে আমাদের ডাইনিং টেবিলের ম্যাট ছাড়া কিছু নয়। আরও রহস্য ছিল বন্ধুরা। 
কুয়াশা এবং নারী-দুয়েরি যে রহস্যম্যতা আছে তা প্রথম বোঝে বাংলা সিরিয়াল। একটা সিরিয়াল হত তার নাম কুয়াশা যখন। বাংলা মেগাসিরিয়ালের আদি যুগে প্রথম দৃশ্যে কুয়াশার বুক চিরে যাওয়া একটা গাড়ির হেডলাইট।   লোকে খুব দেখত টি আর পি বেড়েই চলছিল। কারণ শেষ দৃশ্যে একটা ফোন আসত। একটা মেয়ে ফোন করত কাহিনীর মুখ্য পুরুষ চরিত্রটিকে। তিনি বলতে থাকতেন ‘কে? কে?’  অমনি সবাইকে আকণ্ঠ কৌতূহলে রেখে সিরিয়ালটি শেষ হয়ে যেত। বরাবরই পাশের ঘর থেকে শুনেছি, তাই আমার সিরিয়ালটির ল্যাজা মুড়ো কিছুই জানা হয়নি, কিন্তু আমিও বেজায় কৌতূহলী হয়ে পড়ছিলাম। তার নিরসন ঘটল, বহু বছর পরে যখন একটি স্বল্পায়ু পত্রিকায় বাংলা সিরিয়াল নিয়ে একটি চমৎকার ধারাবাহিক বেরোতে শুরু হল। তাতে ওই চিত্রনাট্যকারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- কে ফোন করত বলুন তো? সিরিয়াল শেষ হয়ে গেল তবু জানতে পারল না কেউ’ তিনি এর  উত্তরে যা বলেছিলেন তা অতীব ব্যঞ্জনাময়-
‘বিশ্বাস করুন, আমি নিজেও জানি না কে ফোন করত। আমাকে বলা হয়েছিল সাসপেন্স ধরে রাখতে হবে, নইলে টি আর পি পড়ে যাবে’!!! বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, আমি, আপনি, আমরা জীবনের টি আর পি বাড়াবার জন্যে মাঝে মাঝেই কি এমন কুয়াশা তৈরি করি না নিজেদের চারপাশে ?

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।