পাতা ঝড়ে যে ডাল গুলো ফাঁকা হয়ে গেছিল,
চৈত্রের হাত ধরে তারা আবার সবুজে সবুজ।
গানের কথায়, দুপুরে হারিয়ে যায় চোখ জড়ানো ঘুম,
সুরের ঘ্রাণ কান ছুঁয়ে সারা শরীর কে অস্থির করে তোলে,
আবার ফিরে আসে ঘামে মাখা বিকেল, ঝড় তোলা সন্ধ্যে।
কত কাছাকাছি বসে এমন সময় গল্প করেছি আসন্ন বৈশাখ নিয়ে,
এখন ফুলদানি ভরা গোলাপ দেখলে মনটা শুকিয়ে যায়!
মাকড়সার জাল বোনায় একটা জ্যামিতি আছে যার
বর্গক্ষেত্র জানা নেই, যেমন কবিতায় হয়।
মাস কেটে গেল একদিন একদিন করে। চৈত্রের শেষে,
এমন বিষণ্ণতা আগে কখনও দেখিনি, এবছর চড়কের মেলা হলো না!
কবিতা ও কালবৈশাখী
কবিতার বই বন্ধ হয়ে যায় মুখের উপর
বাইরে ঠান্ডা হাওয়ায় দোলে আমের পাতা
মুখ ভর্তি কবিতার পঙক্তি, প্রত্যেকটা শিরা কে ছুঁয়ে
এগিয়ে চলেছে পরের শিরায়, উপশিরায় . . .
প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যেই একটা কবিতার সৃষ্টি হয়।
কবিতার বই খুলে নিয়ে আবার বসি
কি পড়ছি সেটা শুধু মগজ জানে, মন নয়।
হিসেবে গরমিল হওয়া খাতায়, ভুল না শুধরে
কবিতা লিখেছি, যা ছাপ ফেলেছে, পরের পাতায়
তার পরের পাতায়, আর আবছা হয়েও দীর্ঘমেয়াদি!
প্রত্যেকটা কালবৈশাখীর পর মনটা খারাপ হয়ে যায়,
কারণ, পরের কালবৈশাখীটা কবে, সেটা জানা নেই।
ওফিলিয়ার চিঠি
“প্রভু আমরা জানি আমরা কি কিন্তু জানিনা আমরা কি হতে পারতাম” – ওফিলিয়া*
হ্যামলেট, চিরকাল সমুদ্র আর পাহাড়ের মধ্যে যেমন ফারাক রয়ে গেল, তোমার আমার মধ্যেও তাই। আমার কফিন যখন আনা হলো কবর দেওয়ার জন্য, তুমি তখনও বোঝো নি আমি নেই! কেমন প্রেমিক তুমি? কিন্তু জানার পর যখন কফিন জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলে, আমার ইচ্ছা করছিল, কফিন ভেঙে বেরিয়ে এসে তোমার পাশে বসি। কিন্তু আমি চিরকালীন মাটিতে মিশে যাওয়া এক প্রেমিকা, আর তুমি কবরের পাশে বসে থাকা ফুলের সওদাগর!
এত কিসের সংশয় ছিল তোমার যে আমায় আপন করতে পারলেনা? চিরকালীন যে সব উত্তর না দেওয়া হয়ে রয়ে যায়, এমন প্রশ্নের সামনে কেন আনলে প্রিয়তম? আমি গ্রীষ্ম রোদ্দুর মাখা শুকনো মাটি, আর তুমি কথা দিয়েও না আসা কালবৈশাখী! আর কতো শুকবো, হ্যামলেট? কবরে ঘুমাতে ঘুমাতে আমি ক্লান্ত!
সব অপমান সয়ে নিয়েছি, এটা ভেবে তুমি পিতৃ শোকে বিহ্বল! কিন্তু তুমি তো কাছে টেনে নিলেনা কোনোদিন, উল্টে তোমার জিব তীক্ষ্ণ তলোয়ারের মতন ফালা ফালা করে দিল আমায়। আমায় নিয়ে তুমি ভাবলে না, অথচ তোমায় নিয়ে ভাবতে ভাবতেই আমার দিন রাত অতিবাহিত হলো! কেন শব্দের ধাঁধা খেললে প্রিয়তম? তোমার প্রতিশ্রুতি আমার কাছে মধুর ধ্বনি ছিল, আর তাই আমি সর্বহারা!
হাতের উপর হাত রাখলে অথচ হাত ধরে রাখলে না। দিনের আকাশ যেভাবে তারা লুকিয়ে রাখে যত্ন করে, সেই ভাবেও তো রাখতে পারতে-রোজ রাতে দেখা হত তবে দুজনের! তুমি চাঁদ-পক্ষপাতিত্ব করো, আর আমি খসে পরা তারা!
*Translation of, “Lord, we know what we are but know not what we may be.” – OPHELIA HAMLET:ACT 4, SC.5, 42-43)