বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা দু’জনে ওই আলপথ ধরে, হঠাৎ থেমে গেলো নীল।আমি চোখ তুলে তাকাবার আগেই জানতাম ও অপলকে দেখছে আমাকে!
বললাম “কিছু বলবে!’
একটা গান শোনাবে রিনি !
আমার মনে মনে গুনগুন করা শব্দগুলো প্রতিবার আমার ঠোঁটের ছোঁয়া পাবার আগেই কি করে যে পৌঁছে যায় ওর কাছে…
নীল আমাকে ভালবাসে কি না জানতে চাই নি কোনদিন ..থাক না কিছু উত্তর অজানা..
আমাদের পরিচয় প্রায় দু’বছর আগে এয়ারপোর্টে। তারপর সেই ফুলের পাপড়ি খোলার মতো একটু একটু করে আমরা কখন যেন নিবিড় একটা পাখীর বাসা বানিয়ে ফেলেছিলাম মনে মনে। আমি জানতে চাইনি কোনদিন ওর জীবনের সূচিপত্রে আমার অধ্যায় জুড়েছে কি না! নীল জানে আমার পুরো বইয়ের পাতায় পাতায় শুধু ও।
আসলে কয়েক দিন আগে হঠাৎ কথার ছলে বলে ফেললো,রিনি আমার কিছু বলার আছে!
আমি গোধূলির আলোয় উদ্ভাসিত নদীর ওই রূমঝুম জলের মতো তাকিয়ে মুখ নিচু করে নিলাম,আজ বলবে হয়তো সেই কথা! যা স্বপ্নে রোজ এসে ওই একঝাঁক জোনাকি বলে যায় আমাকে!
“আর দশদিন পরে আমি মা বাবাকে নিয়ে ফ্লোরিডা চলে যাচ্ছি রিনি।বাড়িটা বন্ধ থাকবে এখন কিছুদিন, মা চায় না আর এদেশে ফিরে আসতে !”
কাল চলে যাবে ও। আমাদের সম্পর্কটা আর কয়েক ঘন্টার হয়তো। ছোট্ট পাখীর বাসাটা ভেঙে যাবে একটু একটু করে ..
আমি তো আগেই কতবার কতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি বাবা মা আর ছোট দুটো ভাইকে ছেড়ে কোনদিন নিজের জন্য কিছু ভাবতে পারি না।
কিন্তু তবুও ওকে ছাড়া ..
আলপথে হাঁটা শেষ হয়ে গেলো কখন যেন ..
নীলের ওই লাল টুকটুকে গাড়ি ধুলোয় উড়িয়ে চলে যাবার আগে হাতে কি যেন দিয়ে গেলো ও।
চোখের জল টুপটাপ করে ঝরে পড়লো সাদা কাগজের বুকে …
“বলতে চেয়েও বলতে পারিনি যে তোমায় রিনি
তোমার নীল তোমায় অনেক ভালোবাসে “
কিছু বাঁধন হারা ভাবনায় ডুবে যেতে যেতে দেখলাম মাঠের পাশে ওই বড় বটগাছটার পেছনে সূর্য খুব আস্তে আস্তে লুকিয়ে যাচ্ছে ..
আমিও কাগজটা বুকে জড়িয়ে এগিয়ে গেলাম ..
অনেকটা পথ একা যেতে হবে কিন্তু ওই তেত্রিশটা অক্ষর আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে জানি..
ভালোবাসা নির্ভরতা শেখায় যে ..
গুনগুন করা গানটা ঠোঁটে ভেসে এলো অজান্তেই ..শুধু তোমার বাণী নয় গো হে বন্ধু , হে প্রিয় .. মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার ..