গল্পকথায় শুভশ্রী সাহা

শোক

(পাড়ার বয়স্কারা)– কি বলি মনারেএএএ কি যে ছিল রিনাদি আমার,পাশের বাসার লোক বইল্যা কক্কনো মনে হইতন না গো, নিজের চাইতেও কাছের ছিলো গো! কি যে মনের মইদ্যে হচ্চে থেকে থেকে—
— আপনি একটু থামুন তো দিদি, রোগ টা তো ছিল ক্যান্সার! মনের মধ্যে কি অশান্তি ছিল বলুন তো! একটা মাত্র ছেলে তার ও ডিভোর্স দেখতে হলো না!

— আইচ্চা আইইচা চেয়েই নিমুনে বাবু বলতে হবে না রে বাবা!, হ্যাঁরে তোর কাকিমারে দ্যাখলাম না যে, উফফ আইজকার দিনেও কেউ রাগ কইরতে পারে!! ও ভাই বেগুনী কি গরম! দ্যান দেখি এড্ডা!

(পাড়ার বউমার দল)
——– কিগো, মনে হচ্ছে পিকনিক টা এবার আর হলো না! এমন সময় রীণা জ্যেঠি মারা গেলেন, পাড়ার পিকনিক টা গেলো
— আমি তো, একটা রেড ড্রেস ও কিনে ফেলেছি আর বলিস না মাইরি
— যাহ, কাকিমা কিন্তু খুব করতেন রে সবার সময়ে অসময়ে, পূজোর চার দিন বল তো, সব করতেন! একা হাতেই তো!
—-( প্রথমা মুখ বেঁকিয়ে)
থাম তো, জানা আছে ভীষণ খিট খিটে ছিলো, উফফ, আর কথায় কথায় জ্ঞান মারার মাস্টার!
দ্বিতীয়া
— ধুর! বাদ দে তো! তুই পুনু দাকে ধরে করে পিকনিক টা ম্যানেজ কর! দরকার পড়লে সরস্বতী পূজো বন্ধ করে দেওয়া হোক! শোক প্রস্তাবে! এক বছর পুজো না করলেও তো হয়!
জানলার কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন অঞ্জন বাবু। ভাবছিলেন, কাল থেকে শুধু বাপ আর বেটার সংসার! শেষের দিকে অঞ্জলি খুব করেছে , আয়া তো কি!মেয়েটাও ভালো। তিনিও যত্ন পাবেন, বুড়ো হাড় ও আরাম চায় যে—
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।