গল্পকথায় অক্ষয় কুমার সরকার

খোলা চিঠি

সমস্ত চিঠির শেষে একটা ঠিকানা থাকে, কিন্তু এ চিঠি ঠিকানাহীন। ঠিকানার গভীরে না পৌঁছেও অনেক সময় মনের খুব গভীরেও পৌঁছানো যায়। মনতো এমনই ভাবনার তরঙ্গে তরঙ্গায়িত। তার ঘর বাড়ির কিবা প্রয়োজন।
    ডায়মণ্ড হারবার থেকে লঞ্চে হলদিয়া ফিরছিলাম। সেদিন সে বসেছিল আমার সামনেই। তার দু’পাশে দুই বান্ধবীর সাথে হাল্কা হাসির কথাবার্তা হলেও মাঝেমাঝে তার শান্তভাব রোদ্দুরকে করেছিল শান্ত অথচ ঢেউকে করেছিল অশান্ত। আমিও রোজ আমার কয়েকজন কলিগের সঙ্গে যাতায়াত করি। সেদিনেও যাচ্ছিলাম। তবে আমিও মাঝেমাঝে শান্ত হয়ে দেখছিলাম তাকে। কালো সয়েটারের সাথে তার হাল্কা কাজল কালো চোখ মানিয়েছিল ভালোই। তার গলার দু’পাশ দিয়ে নেমে আসা চুলে মাঝেমাঝে আঙুল ছুঁয়ে গুছিয়ে রাখা যেন তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো সকালের বাগানের মতো প্রস্ফুটিত করেছিল। আসলে যে নারী যতটা সুন্দর, তার চোখ-মুখ থেকে বিচ্ছুরিত আলোয় তাকে আরো বেশি সুন্দর দেখায়।
    শান্ত মুখ অথচ তার চোখের ভেতর দেখলাম নীল সমুদ্র আর আমার মনের খোলা চিঠি সেই সমুদ্রে নাবিকের মতো কম্পাস ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুঁজছে তীর। আর সে ঢেউ কখনও চেনা কখনও অচেনা হয়ে দোল খাচ্ছিল মুখোমুখি দু’জনের চকিত পলকে। সব ভালোলাগার সব রং কখনও ফোটানো যায় না, কিছু রং থাকে যা কেবলই মনের ভেতর নিঃশব্দে ছোঁয়া যায়।
      সে ফিরছিল ইউনিভার্সিটি  থেকে। তার বান্ধবীদের সাথে মার্কশিট দেখে নেওয়ার পালা চলছিল। আর তাদের মোবাইলে টুকরো টুকরো সেলফি আমার চোখকে ব্যস্ত করে রেখেছিল। কিছু ভালোলাগায় চোখ কেন এতো ব্যস্ত হয়? মন কেন এতো গান হয়? লঞ্চে ফিরছি। বিকেল গড়িয়ে আসছে অথচ হলদী নদী যেন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের দু’জনকে ঠিকানাহীন ভালোবাসার রণক্ষেত্রে যেখানে যুদ্ধাস্ত্রের প্রয়োজন নেই, তীরে পৌঁছানোর পর বাসে উঠলেই একজন হারিয়ে যাবে আরেকজনের থেকে। শুধু মনের ভেতর হৃদয়ের ভেতর উড়তে থাকবে ঠিকাকাহীন খোলা চিঠিটা…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।