কবিতায় সোনালি
দেবী পক্ষ
ওরা পুজো সারে পাথরের মূর্তিতে,
সিঁদুর মাখায়, মাথা কুটে সারে পূজা ;
জানে না, কখন যে কপালকুণ্ডলা
জ্বলে উঠে হবে দশসহস্র ভুজা।
ভিড়ের মধ্যে নাবালক নবকুমার—
অবোধ বেচারা ,নিশ্চুপ চেয়ে থাকে,
ধূপের ধোঁয়ায় ,হাজার লোকের চাপে
মনে পড়ে যায় সে ছোট্ট মেয়েটাকে,
এত নয় সেই অতসী কন্যা কুমারী,
দুরন্ত ,আর খালি পায়ে ঘাসে ছোটা;
বেপরোয়া রাগে, একরাশ খোলা চুলে,
বর্ষায় ভেজা, দৌড়ে সিঁড়িতে ওঠা ।
কবে নীল হল রং, অভিমানী ব্যথা নিয়ে-
যখন থমকে দাঁড়িয়ে বাচনিক কাঁটা –খোঁচায়-
হঠাৎ বিস্ফারিত সে দু-এক পলের পরেই
মুখ ফিরে চলে গেল প্রস্তরীভূত বাঁচায়।
আজ কেন তবে তুমি চুপি চুপি পূজা সারো?
বুকের আঁচড়ে গড়ায় গাঢ় রক্তের ধারা—
রোজ দাও যে অর্ঘ্য ছিন্ন রক্তজবায়ে,
আজও দেবী পক্ষের বোধন হল না সারা ?