শাশ্বতঃ- শনিবার, কেন? উইকএন্ড পার্টি মিস করছ নাকি?
বিদিশাঃ- আরে না না, আসলে সবদিনই রবিবার মনে হচ্ছে, সময়ের হিসেব থাকছে না, যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে।
শাশ্বতঃ- তা আর বলতে। কিন্তু তোমার ছুটি কেমন লাগছে? তোমার ঘুম ভালো হচ্ছে তো? সকালে আমি কিন্তু বেডটী ঠিক সাপ্লাই দিচ্ছি মহারানিকে।
বিদিশাঃ- না রে ঘুমোচ্ছি ঠিকই, কিন্তু ঘুমিয়ে ঠিক শান্তি হচ্ছে না। ঘুম থেকে উঠে কেমন যেন খাপছারা খাপছারা লাগছে। মনে হচ্ছে, কেমন যেন একটা post apocalyptic world এ ঘুম ভাঙছে।
শাশ্বতঃ- তা আর কি কি মনে হচ্ছে?
বিদিশাঃ- দেখ, রসিকতা নয়, ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার দুটোর কোনটাই খুব একটা কাজে লাগছে না। কোন উইকএন্ড নেই, কোন কেজো সপ্তাহ নেই, কোন Monday blues নেই। আছে খালি গতকাল-আজকে-আগামি কাল। সত্যি বলছি, এরকম আর কয়েক মাস চললে ফুল ম্যাড।
বিদিশাঃ- না না, সেরকম নয়। কোন কিছুতেই মন দিতে পারছি না। কাজ অনেক স্লো হয়ে গেছে। সেদিন আর একটু হলেই পাতাটা সবুজের বদলে খয়েরী দিয়ে সেলাই করে ফেলছিলুম আরকি। একবার তো চেন সেলাইয়ের বদলে রান সেলাইই করে ফেললাম। আর আগে যেখানে একটা ফ্রেম সেলাই করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতো এখন দু দিন কেটে যাচ্ছে কিন্তু শেষ হচ্ছে না। কিন্তু এসব ছাড়, আমার সব থেকে বড় ভয় কি বলত?
শাশ্বতঃ- কি?
বিদিশাঃ- এর পরে যখন অফিস খুলবে তখন ওই ট্রামে বাসে বাদুড় ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে পারব তো? মানে দু মাস মুখের কথা নয়, সব অভ্যেস পাল্টে গেছে।
শাশ্বতঃ- ভাবো তাহলে একবার তোমার বাবা মায়ের কথা। ওরা এই রুটিন সারা বছর চালায়। বেরোনো বলতে ওই বছরে একবার, পুজোর সময়!!!
বিদিশাঃ- সত্যি বাবা!!! কি করে পারে? কিন্তু মোটামুটি সব অবসরপ্রাপ্তদের একই গল্প।
শাশ্বতঃ- তবে একটা ভালো দিকও আছে। ভেবে দেখ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট এ খেতে যাওয়া নেই, সিনেমা দেখা নেই, কত টাকা বাঁচছে বল?
বিদিশাঃ- হ্যাঁ তা বাঁচছে। এছাড়া আমরা সবাই আগের থেকে আনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করছি সেটা একবার ভাব? যেমন ধর তুই তোর স্যারের সাথে কথা বলতে বলতে রান্না করছিস, আবার আমি ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সারাদিনের কাজের ছক কষে ফেলছি। তুই বাজার করতে করতে নেক্সট উইকের রান্না কি কি হবে ভেবে ফেলছিস, আর আমি লেখালিখি করতে করতে মাঝে মাঝে উঠে গিয়ে একটা একটা করে ঘর পরিষ্কার করে ফেলছি। অনেকটা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মত। একটা একটা করে কাজ শেষ হচ্ছে আর একটা একটা করে উইন্ডো বন্ধ হচ্ছে।
শাশ্বতঃ- কিন্তু কি জানো? যতই ঘরে থাকিনা কেন, দিনের শেষে নিজেকে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে স্ট্রেস লেভেল বেরে গেছে।
বিদিশাঃ- সে তো হবেই, আর সেই স্ট্রেস থেকে তুই আরো বেশি বেশি করে খাচ্ছিস আর মোটা হচ্ছিস, যা আমার জন্য চা করে নিয়ে আয়।
শাশ্বতঃ- সেকি !!! এই যে তুমি বলেছিলে শনিবার আমার উইক্ লি অফ!!!
বিদিশাঃ- বলেছিলাম বুঝি? মনে নেই, যা, বাঁচতে চাস চা টা করে নিয়ে আয়।
শাশ্বতঃ- নারী স্বভাবতই ছলনাময়ী, ঠিক সময়ের মত। যাই এখন চা ই ভরসা।