• Uncategorized
  • 0

অণুগল্প ১ বৈশাখের বিশেষ সংখ্যায় তৃণা ঘোষাল

দূরত্ব বাড়ে যোগাযোগ নিভে যায়

“কি রে তুই নাকি বলেছিস আমার এত অহংকার শুধু তোরা মেয়েরা ওকে এত ভাও দিস বলে।”
পরিচিত কিন্তু অপ্রত্যাশিত গলাটা শুনে অবাক হয়ে পেছনে তাকায় স্বরলিপি…হাতখানেক দূরত্বে দাঁড়িয়ে ওকে প্রশ্নটা করছে ওদের ব্যাচের বেস্ট স্টুডেন্টের পেটেন্ট নেওয়া অভিজ্ঞান।
“তুই…!! আমি ….কি .. বলেছি” অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে স্বরলিপি কথা খুঁজছে..।
“হ্যাঁ … বহ্নি বললো আমাকে… কথাটা কি সত্যি.।”
এই ছিলো ওদের গল্পের শুরু … ওরা … অভিজ্ঞান… মফস্বল শহরের সেরা ছাত্র .. পড়াশোনা , আবৃত্তি কিংবা ছবি আঁকায় জুড়ি খুঁজে পাওয়া ভার ছিলো যার .. আর স্বরলিপি … ফাঁকিবাজ বকবক ষষ্ঠী একটা মেয়ে ….
বিতর্কের সূত্রপাত যার সূচনায় ক্রমশ: বাড়তে থাকে সেই নিষ্পাপ আলাপচারিতা। কি তবে মানবমন অতি বিচিত্র। সময়ের নিয়মে বসন্ত উঁকি দিয়েছে। কেন জানি না দুই বিনুনী নীল সালোয়ারের স্বরলিপি বারবার উঁকি দিচ্ছে অভিজ্ঞানের মনে ….ওদিকে শক্তিতে আকন্ঠ ডুবে থাকা স্বরলিপির মনে ছায়া ফেলে যাচ্ছে হাই পাওয়ারের চশমার পেছনের চোখ দুটো।
অজ্ঞতা পড়ার বই ছেড়ে অরকুটে উঁকিঝুঁকি….
অনলাইন নাকি …মেসেজ ঢোকে স্বরলিপির ইনবক্সে….লাবডুব হৃদপিন্ডটার গুণতি শুনতে শুনতে হঠাৎ অভিজ্ঞান দেখে স্বরলিপি টাইপিং ….
তুই কথা বলতে পারিস জানতাম না তো… টিউশন ব্যাচের সবচেয়ে গম্ভীর রাগি আপাতভাবে উদ্ধত অভিজ্ঞান ভচ্চাজও কথা বলে… ”
-”হুম বলে… তবে সবার সঙ্গে বলা যায় না… “
-“হঠাৎ আমি …!!”
-“তোর সঙ্গে এ এক আশ্চর্য যোগাযোগ….. সম্ভবত তুইই প্রথম যে আমাকে গুরুত্ব দিস নি”
-”হ্যাঁ তবে তার মানে এই নয় যে আমি এটা জানি না যে আপনিআইআইটি ক্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন … অবশ্য শুধু আমি কেন আমাদের গার্লস স্কুলের সক্কলে জানে”
-” আমিও জানি তুই কবিতা লিখতে ভালোবাসিস, গল্পের বইয়ের পোকা .. আর .. ভুতের ভয় পাস….”
-”বাবা আমার সম্পর্কে অনেক জানিস দেখছি… কি করি, কি ভালোবাসি কিসে ভয় পাই …তুই কি ছোট ফেলু মিত্তির নাকি রে… স্টক করিস নাকি?? ”
-”আর কোনো কাজ নেই তো আমার যে তোকে স্টক করব… আমি একবার যা শুনি মনে থাকে, বুঝলি … বয়স স্কুলেও গার্লস স্কুলের খবর আসে যেমন আসে বয়েজ স্কুলের খবর আপনাদের কাছে”…
-”উফ, পারিস বটে”
সময় বেড়েছে। স্কুল পেরিয়ে কলেজ ….সৌরভ, শচিন, শক্তি,সুমনের গল্প ছেড়ে পরিণত হচ্ছে কৈশোর.. । মাঝরাত অব্ধি গল্পে ডুবে থাকে ওরা।
-”কদিন বাদেই তো এইচ এসের রেজাল্ট” বললো স্বরলিপি … সবুজ আলোটা জ্বলছে অভিজ্ঞানের।
-”হুম… ধ্যাত আমার ভালো হবে না দেখিস…”
-”বড় বাজে বকিস…”
-”জানি… এই একটা জিনিস দেখবি…
-”কি?”
একটা ছবি…. স্বরলিপির। কে এঁকেছে বুঝতেও কষ্ট হলো না….
-”আঁকাটা ছাড়িস না… জে এউ তে না পড়ে তো আর্ট কলেজেও ভর্তি হতে পারতিস…”
-”কে বললো রে ছবি আঁকতে গেলে ইঞ্জিনিয়র হওয়া যায় না …..”
-”ছবিটার হার্ড কপিটা চাই আমার….”
-”বাওয়া!! খুকুমনি….তোমার আবদার তো কম না….”
-”অ্যাই… খুকু মনি নই আমি…” সঙ্গে রাগের ইমোজি গেল দু চারটে ।
-”বলব… বলব… খুউউউকু মনি …” জিভ ভ্যাংচাচ্ছে আবার…
সময় চলতে থাকে … মুহূর্ত লেখা থাকে কোন গোপন ডায়েরীতে…
রেজাল্ট বেরোল অবশেষে।তারপর লাগাতার কলেজে ভর্তির জন্য হুড়োহুড়ি। নিভে আসতে থাকে ওদের বন্ধুত্ব…. খবর এল এর মধ্যেই খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হয়েছে অভিজ্ঞান…অন্যদিকে ফিজিক্স অনার্স নিয়ে স্বরলিপি ভর্তি হলো প্রেসিডেন্সিতে …
দিন গড়ায় …..যোগাযোগ কমে ….
কি ভাবছেন এরপর ..।। কমলা বিকেল গলে পড়া সূর্যের আলো আর নীল স্ট্রাইপ টিশার্ট্ অভিজ্ঞান আর গোলাপী সালোয়ার কামিজে স্বরলিপি ….।।
হলে খুব ভালো হতো … কিন্তু এটা তো গল্প নয় আর তাই মেলাবার দায়ও নেই কারো …আর তাইই ….
আঙুলগুলো জড়িয়ে থাকুক স্বপ্নে… কান্নাজলে ধুয়ে যাক না বলার অভিমান কোনো মায়াবী বিকেলে
আর ভালো থাকুক অভিজ্ঞান আর স্বরলিপি ওদের নিজস্ব গল্পদুটোয় ….
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।