সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ১৯)

সাদা মিহি বালি

তৃতীয় অধ্যায় (তৃতীয় পর্বের অংশ)

ঘোষাল বংশের মেয়েদের মধ্যে শিবানীই প্রথম একটা পাশ দিতে যাচ্ছে। শিবানীর প্রতি দাদা, ভাবী- মা’র উচ্চ ধারনা ;পরীক্ষায় ফল ভালো হলে , তাকে কোলকাতার কোনো মহিলা কলেজে রেখে পড়ানোর ইচ্ছা। মেয়েদের লেখেপড়ার প্রতি বাঘবেন্দ্রবাবুর খুবই উৎসাহ; রক্ষনশীল পরিবারের আগল টপকে মেয়েরা বেড়িয়ে আসুক, নিজের পায়ে দাঁড়াক, তবেই তো সমাজ, মুক্ত পথে, আপন গতিতে চলতে শিখবে; পায়ের শিকল টেনে আর যা হোক, চলা যায় না, যেটা হয় সেটা বড়জোর নড়াচড়া; তাতে, সমাজের মঙ্গল হওয়ার কথা চিন্তা করা বাহল্যমাত্র।

এই আধা- শহরের মধ্যেই একটা কোচিং সেন্টারে, অনেক ছেলে- মেয়েদের সঙ্গেই শিবানীও
কয়েক মাস কোচিং নিয়েছে। পরীক্ষা শেষ, এবার ফল বেড়োবার অপেক্ষা। শিবানীর বন্ধু- বান্ধবীরা বাড়িতে এলে, চলে অপত্য- স্নেহের অত্যাচার। স্ত্রী রমনীও তাদের সবাইকে আপন সন্তান- সন্ততিভাবে খুশিতে ভরিয়ে রাখেন। একমাত্র বোন, তার স্থান বা আবদার যে কোন পর্যায়ে দাঁড়াতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। সব ভাই-ই বোনের মুখের কথা খসা মাত্রই তা পূরণে ব্যস্ত। অন্তর্যামী হয়তো অন্তরালে হেসেছিলেন, হয়তো বা কালের ইঙ্গিতের অপেক্ষায়
ছিলেন।

পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। শিবানী, মোটামুটি ভালোই করেছে। ফল প্রকাশের পর সঙ্গী- সাথীদের নিয়ে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য ফর্ম আনা ও ভর্তি- ফর্ম কলেজে জমা দেওয়ার দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। রাঘবেন্দ্র বাবু বা রমনী, তাতে কোন দোষ দেখেন না; মোটের উপর বড় হয়েছে, নিজের বিচার- বুদ্ধি জাগ্রত হয়েছে, ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক। রাঘবেন্দ্রবাবু, কোলকাতার একটা আবাসিক মহিলা কলেজে ভর্তি করানোর জন্য যোগাযোগ করছেন; কোলকাতার কলেজগুলোতে প্রাপ্ত নম্বরের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়; এই জন্যই লোকাল কলেজগুলোতেও ফর্ম পূরণ করে রাখা। কিন্তু, সেটা যে শেষ পর্যন্ত
কাল হয়ে দাঁড়াবে, কেউই বুঝতে পারেননি। হঠাৎ-ই, একদিন সবাই মিলে দল বেঁধে কোন একটা কলেজে ফর্ম- ফিলাপ হবে বলে বেরিয়ে শিবানী হল বেপাত্তা, নিখোঁজ। খোঁজ করে দেখা গেল, ঐ অঞ্চল থেকে আরও একজন
নিখোঁজ হয়েছে। ঘোষালদের লোকবল তো কম নেই, আবার
সরকারি মহলেও প্রভাব রয়েছে।
দু’জনেই ধরা পড়েছে; তারা এখন স্বামী- স্ত্রী, লোচনদাসের জ্যেঠামশাই’র বাড়ি, হাওড়ার বাগনান অঞ্চল থেকে, তাদের কোলকাতার কোর্টে পাঠানো হয়েছে। কোর্টে, শিবানীর সাক্ষ্যে ও
দৃঢ় জবানবন্দীতে, লোচন দাস ও
শিবানী বে- কসুর খালাস পেয়েছে; তারা, কোর্টে নিজেদের সাবালক প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। কোর্ট, পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, ওদের দাম্পত্য জীবনে বাদীপক্ষ বাধা সৃষ্টি করলে, যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।