ধারাবাহিক প্রবন্ধে তপশ্রী পাল (পর্ব – ১৯)

আলাপ

খেয়াল ঘরানা এবং বিখ্যাত খেয়ালিয়াদের কথা শেষ করে এবার বলবো সঙ্গীতের অন্যান্য ধারা এবং সেই ধারার কয়েকটি বিখ্যাত ঘরানার ও শিল্পীর কথা। এইসব ধারাগুলির কথা আমি সংক্ষেপে বলবো কারণ এই বিষয়গুলিতে আমার জ্ঞান অপেক্ষাকৃত সীমিত।
প্রথমেই ধ্রুপদ ও ধ্রুপদ ঘরানাগুলির সম্বন্ধে দুকথা বলে চলে যাবো আমার নিজের ঘরানা বিষ্ণুপুরে, যেটি আদতে একটি ধ্রুপদ ঘরানা ছিলো এবং এই বঙ্গের একমাত্র শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঘরানা।
ধ্রুপদ কথাটি এসেছে ধ্রুবপদ থেকে। ধ্রুব অর্থাৎ স্থির এবং পদ মানে কবিতা বা গান। ধ্রুবপদ কথাটির উল্লেখ ভরত মুনীর নাট্যশাস্ত্রে পাওয়া যায়। ধ্রুপদ প্রাচ্যের সবচেয়ে প্রাচীন সঙ্গীত। শোনা যায় ধ্রুপদের জন্ম বৈদিক যুগে, যখন মুখে মুখে সুর করে, তাল সহযোগে সামবেদের পদগুলি সামগান হিসাবে করতেন মুনী ঋষিরা। এই গানগুলি ছিলো ধর্মীয়, বীররসাত্মক, চিন্তাশীল, সত্ত্বগুণসম্পন্ন, বিবেকজ্ঞান প্রদানকারী বিভিন্ন পদ অথবা ঈশ্বর বন্দনা। পরে এতে ছন্দ অর্থাৎ ছন্দমিল এবং প্রবন্ধ বা লয়বিভাগ যুক্ত হয়ে ধ্রুপদের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল শাসণকালে প্রখ্যাত ভক্তিগুরু স্বামী হরিদাস এবং তাঁর শিষ্য সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন ধ্রুপদ গায়নকে বিখ্যাত করেন। ধ্রুপদের চারটি ভাগ। স্থায়ী পদ, যা শুরুতে গাওয়া হয়, মন্দ্র সপ্তকে অর্থাৎ নীচের স্বরগুলি ব্যবহার করে, তারপর অন্তরা যা মধ্য ও তার সপ্তকে গীত হয়, সঞ্চারী যা স্থায়ী ও অন্তরা দুই ধরণের সুরের মিশ্রণে তৈরি হয় এবং সব শেষে আভোগ যা গানকে আবার স্থায়ীতে ফিরিয়ে আনে। ধ্রুপদ গান শুরু হয় নোম তোম ঋ রে না না ইত্যাদি আলাপ ধ্বনি দিয়ে। আলাপের প্রথম অংশে কোন লয় বা রিদম থাকে না। দ্বিতীয় অংশের আলাপ লয়বদ্ধ থাকে, তাকে বলে জোড় এবং তৃতীয় অংশ অতি দ্রুত লয়ে আলাপ, যাকে বলে ঝালা। তারপর শুরু হয় গানটি। গানটির স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী ও আভোগ প্রথমে একটি লয়ে গাওয়া হয় ও পরে নানা ধরণের তালফেরতা, দ্বিগুণ, তিনগুণ ও চৌগুণ লয়ে কথাগুলি বিভাজন করে গাওয়া হয়। শেষে আবার স্থায়ী লয় ফিরে আসে। ধ্রুপদের সঙ্গে প্রায়শই পাখোয়াজ বাজে। গানগুলি বিভিন্ন ধরণের তালে নিবদ্ধ থাকে, ধ্রুপদ হয় সাত মাত্রা (তীব্রতাল), দশ মাত্রা (সূলতাল), বারো মাত্রা (চৌতাল) তালে এবং দশ মাত্রা ঝাঁপতালে নিবদ্ধ থাকলে তাকে বলে সাদরা বলে। এ ছাড়া ধ্রুপদের একটি প্রকারভেদ হলো ধামার, যা চোদ্দ মাত্রা ধামার তালে নিবদ্ধ।
গাইবার স্টাইল বা কায়দার ওপর নির্ভর করে মূলতঃ চারভাবে ধ্রুপদ গাওয়া হয়। এগুলি হলো ডাগরবাণী, খান্ডারবাণী, নৌহরবাণী এবং গৌহরবাণী। ধ্রুপদে ডাগরবাণীই সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত। এ থেকেই গড়ে উঠেছে ধ্রুপদের ডাগর ঘরানা। ডাগর ঘরানায় ধ্রুপদ গান ডাগর পরিবার যারা ধর্মে মুসলমান হলেও ধ্রুপদ গানে হিন্দু দেবদেবীদের বন্দনা গান করেন। ডাগর ঘরানায় আলাপের প্রাধান্য খুব বেশী । বিভিন্ন ধ্বনি সহযোগে রাগের আলাপ করা হয় দীর্ঘসময়। সাধারণতঃ এই ঘরানায় দুজন গায়ক, যেমন দুই ভাই, একসঙ্গে ধ্রুপদ গান করেন।  ডাগর পরিবার ছাড়াও বিখ্যাত ধ্রুপদিয়া গুন্ডেচা ব্রাদার্স, উদয় ভাওয়ালকর, নির্মলা দে প্রভৃতিরা, বাদক পুষ্পরাজ কোষ্ঠি এবং বিখ্যাত বিষ্ণুপুর ঘরানার শিল্পীরা ডাগরবাণী স্টাইলে ধ্রুপদ পরিবেশন করেন।
বিহারের দ্বারভাঙ্গা, দুমরাও, বেতিয়া ঘরানাগুলিতে খান্ডারবাণী ও গৌহরবাণী স্টাইলে ধ্রুপদ গাওয়া হয়। দ্বারভাঙ্গা ঘরানার রামচতুর মল্লিক, বিদুর মল্লিক (বৃন্দাবন), আসগর বাঈ, অলকা লাহিড়ী সবাই এই দুই পদ্ধতিতে ধ্রুপদ গাইতেন।  দুমরাও ঘরানাও বিখ্যাত হয়ে আছে কারণ বিখ্যাত সানাইবাদক উস্তাদ বিসমিল্লা খানের পিতা এই ঘরানার প্রতিভূ এবং ধ্রুপদ স্টাইলে সানাই বাজাতেন বলে কথিত আছে।
বেতিয়া ঘরানার শিল্পীরা আবার খান্ডার, গৌহর, নৌহর তিনটি স্টাইলেই ধ্রুপদ গান। বেতিয়ার রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় ঘরানা গড়ে ওঠে। এই ঘরানার বিখ্যাত শিল্পীদের মধ্যে আছেন পন্ডিত ফাল্গুনী মিশ্র।
প্রথাগত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি যখন প্রয়াগ সঙ্গীত সমিতি থেকে ছয় বছরের “সঙ্গীত প্রভাকর” করি তখন ধ্রুপদ ও ধামার শিক্ষা ছিলো বাধ্যতামূলক। কখন যেন গাইতে গাইতে ভালোবেসে ফেলেছিলাম এই গানগুলিকে। বেশ মজা লাগতো গানকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ ছন্দে ভেঙ্গে চৌতালের বারোটি মাত্রার মধ্যে দুবার বা তিনবার গেয়ে ঘুরে আসতে পেরে। একটু উদাহরণ দিই। চৌতালের ছন্দ হলো
১     ২    ৩       ৪        ৫   ৬  ৭   ৮   ৯    ১০       ১১  ১২
ধিন  ধিন  ধাগে তেরেকেটে   থুন  না কত তে ধাগে তেরেকেটে ধিন ধাধা  (বারোটি মাত্রা)
১           ২            ৩      ৪          ৫             ৬
দ্বিগুণেঃ   ধিনধিন  ধাগেতেরেকেটে  থুননা   কততে  ধাগেতেরেকেটে   ধিনধাধা (অর্থাৎ ছয় মাত্রায় একবার আবর্তন শেষ এবং বারো মাত্রায় দুবার আবর্তন করা যাবে)
১                 ২           ৩             ৪
তিনগুণেঃ ধিনধিনধাগে  তেরেকেটেথুননা কততেধাগে তেরেকেটেধিনধাধা (অর্থাৎ চার মাত্রায় একবার আবর্তন শেষ এবং বারো মাত্রায় তিনবার আবর্তন করা যাবে।)
গানের কথাগুলিকেও ঠিক একই ভাবে ভেঙ্গে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লয়ে বলতে হবে।
পন্ডিত উদয় ভাওয়ালকর রচিত একটি বিখ্যাত ধ্রুপদ বন্দিশ দুর্গা রাগেঃ
দুর্গে ভবানী মাতা কালী
সব দুঃখহারী জননী ভবানী দয়ানী
জগত উদ্ধারণী পাপ নিবারণী
সব দুঃখহারী জননী ভবানী দয়ানী
সব ধরণের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, যেমন হাভেলী সঙ্গীত, উত্তরভারতীয় খেয়াল, কর্ণাটকী সঙ্গীত সবেরই মূলে হলো ধ্রুপদ। ধ্রুপদ গানের অতি দীর্ঘ ধ্বনিমূলক আলাপ, গানের কঠিন বাঁধুনি যা কোন গায়ককে মুক্তির পরিসর দেয় না এবং যা পরিবর্তনসাপেক্ষ নয়, তা ক্রমে জনপ্রিয়তা হারায় এবং খেয়াল ও অন্যান্য সঙ্গীত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এবার আর দেরী না করে একটি মাত্র ধ্রুপদ ঘরানার ইতিহাস ও শিল্পীদের নিয়ে গল্প বলবো। সেটি হলো আমার নিজের ঘরানা এবং বাংলার একমাত্র শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঘরানা বিষ্ণুপুরের কথা। এক পরিচ্ছেদে শেষ করা যাবে না এই ঘরানার সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা। বলতে হবে আমার গুরুজী অসাধারণ মানুষ সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও। তাই দুই পরিচ্ছেদ মিলিয়ে থাকবে এর ঘরানার কথা।
বাংলার প্রান্তিক জেলা বাঁকুড়ার রাজধানী বিষ্ণুপুর। এই বিষ্ণুপুরে খ্রীষ্টিয় সাতশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীর সূচনা পর্যন্ত এক সুদীর্ঘকাল রাজত্ব করেছেন মল্ল রাজবংশ। মল্ল রাজারা মূলতঃ বৈষ্ণব ছিলেন এবং বিষ্ণুপুরের বুকে এক অপূর্ব মন্দির নগরী গড়ে তুলেছিলেন। টেরাকোটার সেই সব মন্দির আজ আমাদের জাতীয় সম্পদ। সম্রাট আকবরের সময় সেখানে রাজত্ব করতেন মল্ল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজা হাম্বীরমল্ল। হাম্বীরমল্ল, সম্রাট আকবরকে বাংলায় আফগানদের বিরূদ্ধে যুদ্ধে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন। খুশী হয়ে সম্রাট আকবর তাঁর রাজ্যসীমা অনেক বাড়িয়ে দেন এবং এক আজীবন বন্ধুত্বের সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই মল্ল রাজারা ছিলেন দিল্লীর মুঘল সম্রাটের করদ রাজা । সেই সুসম্পর্ক সম্রাট শাজাহানের সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিলো। কিন্তু এরপর সম্রাট হলেন ঔরঙ্গজেব। কী ঘটলো সেই সময়?
১৭১২ খ্রিষ্টাব্দের শীতকাল। বিষ্ণুপুরের সিংহাসনে মল্লরাজ দ্বিতীয় রঘুনাথ দেব। রঘুনাথ দেব শিল্প ও সঙ্গীতের বিশেষ   পৃষ্ঠপোষক। রঘুনাথ দেব সেদিন রাজসভায় ঘোষণা করলেন যে আগামী শ্রাবনী পূর্ণিমায় রাজপুত্রের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান হবে । এই উপলক্ষে মহারাজ রাজ্যের সব প্রজাদের নিমন্ত্রণ করছেন রাজভবন প্রাঙ্গনে । প্রজারা সেদিন রাজপুত্রের সঙ্গে আহার করবেন এবং তাকে আশীর্বাদ করবেন । প্রজারা খুশীতে হর্ষধ্বনি করে উঠলো । এমন সময় সভার এক কোণে হইহই পড়ে গেলো । রাজরক্ষীরা একটি লোককে বন্দী করে এনেছে । লোকটির পরণে মুসলমানী জোব্বা, আংরাখা ও ঢোলা পায়জামা । মাথায় পাগড়ী । মুখে সাদা লম্বা দাড়ি । অর্ধ বৃদ্ধ ব্যাক্তিটির চোখে সুরমার দাগ । হাতে ধরা আছে একটি রবাব । লোকটি শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে !
রাজা প্রহরীদের বললেন তাঁকে বন্ধনমুক্ত করতে । সে প্রথমেই বলল “পানি – পানি” বলে রাজসভায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো । তাঁর চোখে মুখে জল দিয়ে, তাকে খাইয়ে ও জলপান করিয়ে সে কিছু সুস্থ হলে রাজা তাঁকে প্রশ্ন করলেন “কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ এই রাজ্যে ? কি উদ্দেশ্যে এসেছ ?”
“রাজা আমি সেই সুদূর দিল্লী থেকে আসছি । আমার নাম বাহাদুর শাহ ।“
“ওস্তাদ বাহাদুর শাহ ! আপনার ধ্রুপদ সঙ্গীতের খ্যাতি আমি শুনেছি ! আপনি তো মিয়াঁ তানসেনের বংশধর! মুঘল দরবারের প্রধান শিল্পীদের মধ্যে একজন ! আপনি এভাবে আমার রাজ্যে !”
“আপনি জানেন না রাজা, সম্রাট ঔরংজেবের অত্যাচারের কথা ! শিল্পীরা আজ বড় দুঃখে আছে । সম্রাট ঘোষনা করেছেন গান বাজনা নাকি ইসলামের বিরোধী । তিনি প্রকাশ্যে গান বাজনা নিষেধ করেছেন । একদিন রাত্রে আমি আমার মহলে রিওয়াজ করছিলাম – সেই আওয়াজ তাঁর কানে পৌছয় – তিনি আমাকে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন !”
“আহা ! সঙ্গীতের এমন অনাদর ! এ যে স্বর্গীয় সম্পদ !”
“আমি পালিয়ে মুর্শিদাবাদে আসি । কিন্তু সেখানে আমার ঠাঁই হয় নি । সেখানে দরবারে শুনলাম আপনি সঙ্গীতের সমাদর করেন । তাই বহু পথ অতিক্রম করে রাতের অন্ধকারে আপনার রাজ্যে এসেছি । এখন আপনি আশ্রয় দিলে আমার সঙ্গীত বাঁচবে, নইলে নয় ।“
প্রধানমন্ত্রী বললেন “মহারাজ, সাবধান ! এই শিল্পীকে আশ্রয় দিলে আপনি সম্রাটের কোপে পড়বেন ! এঁকে এখনি বিদায় করুন ! তার ওপর এই শিল্পী মুসলমান । জানেন তো রাজ্যে জিজিয়া কর নিয়ে কি অশান্তি ! ”
“শিল্পের ও সঙ্গীতের কোন জাত হয় না মন্ত্রী ! দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বপ্ন আমি বিষ্ণুপুরকে সঙ্গীতের পীঠস্থান হিসাবে গড়ে তুলবো – কিন্তু রাজ্যে উপযুক্ত পরিবেশের ও শিল্পীর অভাবে সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয় নি । ভগবান হয়তো আমার স্বপ্ন পূরনের জন্যেই আপনাকে পাঠিয়েছেন ওস্তাদ ! আপনি আমার রাজ্যে স্বাগত । আজ থেকে আপনি আমার সভাগায়ক । আপনার বেতন আমি মাসিক পাঁচশত তঙ্কা ধার্য করলাম ! আপনি তানসেনের বংশধর ! বিখ্যাত আপনাদের সেনিয়া ঘরানার বেতিয়া শাখা। আপনাকে পেয়ে বিষ্ণুপুর ধন্য ! আপনাকে বিষ্ণুপুরে মার্গসঙ্গীতের একটি স্বতন্ত্র ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে – যা মুঘল দরবারের থেকে আলাদা ও আমাদের মাটির কাছাকাছি । আপনি আপনার শিষ্য বেছে নেবেন আমার রাজ্য থেকে !”
“মহারাজ – আমার প্রিয় ছাত্র পীরবক্সকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । সে আমার সঙ্গে পালিয়ে এসেছে । তাকেও বন্দী করে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে । তাকে কি আপনি আশ্রয় দেবেন ? তাহলে আপনার আরব্ধ কাজ আমরা দুজন শুরু করতে পারি ।
“নিশ্চই আপনি তাঁকে এক্ষুনি নিয়ে আসুন। আপনারা আজ থেকে আমার অতিথি যতদিন না আপনি রাজ্যে নিজের জমি ও বাসস্থান লাভ করেন। মন্ত্রী – অতিথিশালায় ওনাদের থাকার ব্যাবস্থা করে দিন।“
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।