কবিতায় তপন মন্ডল

মধুর স্মৃতি আর আত্মকথন
শৈশবের পরিচিত টাটকা স্মৃতিগুলি ঢাকেছে শ্যাওলা ধরা দেওয়ালে।
খোদাই করা অর্ধমৃত শব্দগুলো বেদনায় ছটফট করে অদৃশ্য পর্দার আড়ালে।
এত বছর পরে হঠাৎই খুঁজি সেই সুমধুর স্মৃতি।
নির্যাস যা কিছু পড়ে তাও প্রায় এখন বিস্মৃতি।
কখনো সবুজ ঘাসের বুকে মাথা রেখে।
আবার কখনো বা প্রিয় শিক্ষকের মধুর গল্প কথা মেখে,,,,,,
মনে পড়ছে বাল্য প্রেমের কত সব অগোছালো কথা।
বন্ধুরা সবাই হাসিমুখে ক্ষ্যাপাতো যথা তথা।
স্কুল ফাইনালে রেজাল্ট হয়েছিল বেশ!
অপরাজিতার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো শেষ।
শহরে এসে পেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা।
নিয়েছি সহধর্মিনীর সুখ দুঃখে সদাই পাশে থাকার দীক্ষা।
চাকরি ক্ষেত্রে করেছি নিজের নাম।
ব্যস্ত শহরে ফ্ল্যাটের পাশে করেছি মস্ত গৃহ ধাম।
গ্রাম্য জীবনের মতো এখন আর নেই অভাব।
পোশাক – আশাকে বদলেছি নিজের স্বভাব।
হঠাৎ জন্মভূমি গ্রামের এই পথে।
বুকের ধুক-ফুকানি বাড়িয়ে একান্ত আলাপচারিতায় পুরাতন শিক্ষা মন্দিরের সাথে।
মাঠের এক কোণে নিমগাছের নিচে বসে।
কাটছে সময় জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষে।
শ্যাওলা ধরা স্কুলের দেয়াল পানে চেয়ে চোখের কোনে জল।
এখন আসছে ফিরে শৈশবের কত মধুর স্মৃতিগুলোর দল।