কবিতায় স্বর্ণযুগে সুবীর সরকার (গুচ্ছ কবিতা)

১| ছায়া
‘হাতি জাতীয় সড়ক পেরবে আর ক্যামেরায় ছবি
তুলবে তুমি ‘
এটা তো আর নুতন কোন কথা নয়।
ডিপ্লোমা কোর্সের সার্টিফিকেট পকেটে নিয়ে
দুপুরের পর কত দুপুর কেটে যায়
অনেক নদীর জল।
ভাঙা জানালার বাড়িঘর।
তোমার চোখের সাদায় হালকা জঙ্গলের
ছায়া
২| কুচকাওয়াজ
পরিখাঘেরা বাড়িগুলো আসলে দুর্গের মত।
হাতপাখার হওয়া খাচ্ছেন সন্ন্যাসীরা
যে গান বাজে না বহুকাল সেই গানই তো ফিরে
এল
কোথাও অনুপ্রবেশ নেই।
কোথাও অনুসরণ নেই।
গাড়ি থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে খুব অসহায় হয়ে
পড়ি
শত শত মশালের আলো।
পরিখা পেরিয়ে কুচকাওয়াজ ঢোকে।
৩| আলো
চলুন একটু আলো অন্ধকার নিয়ে কথা বলি
পুড়ে যাওয়া বেগুনখেত নিয়েও কথা হোক
মধ্যরাতের রাস্তায় প্রতিবার আমাদের সাইকেলের
চেন পড়ে যায়
আশেপাশে দাবার গুটি।
চেনে বাঁধা বেড়াল।
দৃশ্য তো ভাঙে না।ভাঙা দৃশ্যের গায়ে হেলান দিয়ে
নুতন দৃশ্য
আম কাঁঠালের বন চিরায়ত হয়ে জেগে থাকে
৪| গল্পের মত কিছু একটা
তোমাকে একটা করাতকল দেব।
পানীয় ও পানপাত্র দেব।
তোমার খোঁপা নিয়ে বা খোঁপার কাটা নিয়ে
কিছু বলবো না
রূপকথার গল্পের খোঁজে একসময় রাতের পর
রাত ঘুমোই নি
রেকর্ড করেছি তক্ষকের ডাক।
ক্যামেরায় তুলেছি হাতিদের স্নানের
ছবি।
তোমাকে শীতের বিবর্ণতা দেব।
লোকমেলা থেকে কিনে আনা কাঠের চিরুনি খুব
যত্ন করে রেখে দেবে তুমি
দ্যাখো,পাটক্ষেতের আড়াল।
গল্পের মত কিছু একটা তো গড়ে উঠতে পারে
এভাবেই।