মেঘ বার্তায় স্বর্ভানু সান্যাল (শিকাগো)

আমি এইসব অরণ্য প্রহর ভালবাসি। এই সব সুরাশ্রয়ী নীরব সঙ্গীত, এইসব প্রাচীন নক্ষত্রকথার মত পেলব শব্দহীনতা, এইসব বরণীয় বিষণ্ণ রূপবীথিকা। এইখানে এসে আমি দু দণ্ড চুপ করে বসি। এইখানে এসে আমি ডুব দিয়ে নৈঃশব্দের গভীরে গহীনে। গাছেদের কোটরে কোটরে ভরা যে সকল করুণ কথকতা, যে সকল বিমূর্ত বিপন্নতা থাকে, সেইসব ভীড় করে আসে আশেপাশে। সহস্র বছর ধরে মৃত সব জোনাকিরা আসে ক্ষীণতম আলোটুকু নিয়ে। আর আসে নিরুক্ত বিধুর ব্যথা সব। রিক্ত নদীচরের মত নির্জন প্রহর যাপনের লোভে লোভে ওরা সব আসে। আমিও বসে থাকি ব্যথাতুর দীর্ণ শরীর নিয়ে। নক্ষত্রপতনের শব্দ শুনি মগ্নচৈতন্যে। ঋজু কাষ্ঠল দীর্ঘ শরীর নিয়ে সূর্য সমাবেশে এসেছিল ওরা। ওরা এসেছিল আমার আসার পরার্ধ বছর পূর্বে। আমি মুগ্ধ প্রাণ নির্জন পথিক হেমন্তের অলস দুপুরে শুনি এইসব বৃক্ষ কথা, এই সব খাaণ্ডব দহনের ইতিবৃত্ত।
অক্টোবর মাস আমেরিকায় ফল সিজন। রঙিন পাতাদের আহ্লাদী জাজিম জড়িয়ে থাকে ঘাসেদের গায়ে। এইসব লাল হলুদের ভীড়ে মিশে মন মুসাফির হয়। জীবনের সাথে মিশে থাকে অনিবার্য ক্ষয়। ওরা বলে যায় ফিস্‌ফিসে।
এই সংখ্যায় থাকছে একটি মৈত্রেয়ী চক্রবর্তীর গল্প। থাকছে মৌসুমী ব্যানার্জীর একটি অসামান্য অনুগল্প। মানুষের হৃদয় বৃত্তান্তের সাথেই জড়িয়ে থাকে তার হৃদয়হীনতা। অতিমারীর সময়ে এমনই এক হৃদয়হীনতার গল্প এটি। মৌমন মিত্রের কবিতা “গত অমাবস্যায়” হেমন্তের এই ছেড়ে যাওয়ার প্রহরে প্রাসঙ্গিকতার দাবী রাখে। হাতরাসের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কবিতায় কলম ধরেছেন কবি বিদিতা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী। আর বাংলার সাহিত্যের সাথে জড়িয়ে থাকে বাংলার শিল্পকলা। সাহিত্য মেঘের এ সংখ্যায় প্রথম আমরা কিছু আর্টওয়ার্ক রাখছি। কল্লোল নন্দীর অ্যাক্রিলিক অন ক্যানভাস আপনাদের মনোরঞ্জন করবে আশা রাখি। আর থাকছে ছোট্ট সঙ্গী মঞ্জিষ্ঠা সরকারের আঁকা ছবি।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!