মেঘ বার্তায় স্বর্ভানু সান্যাল (শিকাগো)

সম্পাদকীয়

কি জন্য লেখো? কী তোমাকে লেখায় বঁধুয়া?
কখনো কি দীর্ঘ রাত্রি ধরে
রিক্ত নদীচরে, দুঃসহ নির্জনতায়,
বিপন্ন প্রহর গুণেছ?
কোন সে শস্য তুমি নীল শরীরে ধারণ করতে চেয়েছ?
কোন গাঢ়তম অন্ধকারে ডোবো ভাসো ডোবো ভাসো আর
অলৌকিক প্রত্নব্যথা ছুঁয়ে দেখ কবেকার
জীর্ণ মন্দিরে? অঙ্গীকার কি আছে তোমার?
কর্তিত শস্যক্ষেতের মত নিদারুণ যন্ত্রণাকে
যাপন করেছ কতবার?
কী তোমার আত্ম ভার?
এমন কোন শব্দব্যথা তোমায় উইয়ের মত কুড়ে কুড়ে খায়?
কোন অন্ধ পিঞ্জর তোমার সবুজ শুষে নেয়?
কোন গভীর অসহায়
যন্ত্রণাকে লালন করেছ তুমি বৃক্ষের মত?
বলো কোন নিরালম্ব বেদনার সাথে রতিক্রিয়ারত
তুমি তোমার বাগানে?
দ্বন্দ বয়ে আনে
কোন সে বিপরীত…জর্জরিত তোমার দুয়ারে?
প্রতি ক্লান্ত ভোরে
কোনো ছেড়ে
সা তৃণভূমি
জড়ায় কি তোমায় তার সবুজ অঞ্চলে?
পৃথিবীর সব কবিতাই আসলে এক বিচ্ছেদের কথা বলে!
সম্পাদকীয় গদ্য ফরম্যাটে হতেই হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আসলে সাহিত্য কোনো নিয়ম নীতি মেনে চলে বলে আমার প্রতীতি হয় না। তাই আজ কবিতায় লিখলাম সম্পাদকীয় কলম। কেন লিখলাম? কারণ লেখার খুব তাড়াহুড়ো পড়ে গেছে। সকলেই চাইছে দু কলম লিখে চটজলদি টু মিনিট নুডলের মত গরমাগরম পরিবেশন করবে। আর সূর্যের মতই তার কাব্যকিরণ দশ দিশায় ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু সূর্যের গোপনটা দেখেছেন? সূর্যের অন্দরমহলটা? কি অপ্রতুল ধ্বংস…কি অনিবার্য ক্ষয়? নাইনটি ওয়ান বিলিয়ন মেগাটন পরমাণু বিষ্ফোরণ প্রতি সেকেন্ডে। তবে আলো হয়! তবে জ্যোতিষ্মান হওয়া যায়! অক্ষরকর্মী, আপনি সূর্যের মত অনিবার্য মৃত্যুকে শরীরে ধারণ করুন। তবে না অক্ষয় জ্যোতি?
আজকের সংখ্যায় স্মৃতির সরণী ধরে ফেলে-আসা-কলকাতাকে দেখছেন জার্মানি থেকে গৌতম রায়। নিউ জার্সির সুষ্মিতা রায়চৌধুরী লিখছেন বাঙালির স্টাইল স্টেটমেন্ট “দাদাগিরি” 😊 । এ ছাড়া পড়ুন কবি শুভ্র দাসের একটি অসামান্য কবিতা। আসলে এই কবিতাটিই আজ আমার এই সম্পাদকীয় লেখার অনুপ্রেরণা। কবি মৌসুমী ব্যানার্জীর কলমে যে অণুকবিতাগুচ্ছ থাকছে তার প্রতিটি পড়ার শেষেই দু মিনিট চুপ করে বসে ভাবতে হয়। আর সর্বোপরি বাইশে শ্রাবণ গেল দু এক দিন আগে। রবি ঠাকুরের শব্দ সমাপনের দিন। তাঁর অমোঘ সৃষ্টির প্রতি তর্পণ কবি শ্রাবণী রায় আকিলার কলমে।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!