ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬২

ফেরা

দুন এক্সপ্রেসের হরিদ্বার পৌঁছনোর কথা ভোরেলা, কিন্তু আগের দিন রুট চেঞ্জ হয়ে গিয়ে আবার নর্মাল রূটে ফেরা… প্রায় দশ ঘন্টা দেরী হয়ে গেলো। আর পরদিন সকাল থেকে?? বাপরে বাপ, শুরু হলো ডেলি প্যাসেঞ্জারদের অত্যাচার। কে যেন রসিকতা করে এদের নাম রেখেছিল ডেলি পাষণ্ড, কথা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। গুঁতোগুঁতি গালি গালাজ কোনো কিছুর কমতি নেই। নিজের একার সিটে নিজে কুঁকড়ে বসে, বাকি জায়গায় চার জন!!
পাশের লোকটি কে ভাবলাম একটু ভয় দেখাই রেল পুলিশের, সে কথা বলতেই দেখি পকেট থেকে আইডি কার্ড দেখালো, ব্যাটা নিজেই রেল পুলিশ। বুঝলাম রক্ষক যখন ভক্ষক তখন চুপ করে থাকাই শ্রেয়। কোনোমতে বাকি সময় কাটিয়ে যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম, তখন বিকেল চারটে, সবার শরীর ভেঙে পড়েছে।

গঙ্গার ধারে এক হোটেল আগে থেকেই নেওয়া ছিলো। ভালো করে স্নান করে এয়ার কুলার চালিয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলাম। যখন রাতের খাবারের ডাক এলো তখনো অঘোর ঘুমাচ্ছি। দলের অধিকাংশের এক অবস্হা। ঢুলু ঢুলু চোখে রাতের খাবার সমাধা করার সময় জানলাম কাল আমরা যাবো বারকোটের উদ্দেশ্যে। বারকোট, যমুনোত্রী যাবার প্রবেশ দ্বার। আগের বার ওদিকে যাইনি, তাই বেশ উৎসাহ নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন খুব ভোরে চারধাম যাত্রা শুরুর ডংকা পড়বে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।