তখনকার দিনে সান্দাকফুতে গাড়িতে যাবার খরচা ছিলো বেশ বেশী। একদিন গিয়ে পরদিন ফেরা- ৩৪০০। এখন স্বস্তা মনে হলেও আজ থেকে ২৩-২৪ বছর আগে সেটা অনেক টাকা। তারপর হোটেল ভাড়ার আন্দাজ নেই। তবু বাবা ও জেঠু পিছপা হলেন না। যা হবে দেখা যাবে। রাত্রের মধ্যে বাঁধা ছাঁদা কমপ্লিট। এবার পরদিন মোহন ও তার গাড়ি আসার অপেক্ষা।
পরদিন সকাল আটটা নাগাদ মোহন তার ল্যান্ড রোভার নিয়ে হাজির। আমরা ব্রেকফাস্ট প্যাক করিয়ে চড়ে বসলাম। পাহাড়ি মসৃণ পথ বেয়ে, গোঁ গোঁ করে এগিয়ে চললো আমাদের বাহন। বুড়ো ঘোড়ার যে তেজ আছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছিলো, তবে তার আসল খেল দেখা গেছে পরে। একঘন্টায় তিরিশ কিলোমিটার পথ চলে পৌঁছে গেলাম মানেভন্জন। সান্দাকফুর এন্ট্রি পয়েন্ট। এখানে একটা চায়ের দোকানে বসে ব্রেকফাস্ট ও গরম চা খেয়ে এবার গন্তব্য সান্দাকফু।
মানেভন্জন থেকে সান্দাকফু ৩০ কিলোমিটার মতো। রাস্তার অবস্থা সম্বন্ধে আমাদের কারুর কোনো সম্যক ধারণা ছিলো না। ভাবা হয়েছিল, কতো আর খারাপ হবে, দু ঘন্টা লাগবে হয়তো। একটু এগিয়েই সবার চোখ চড়কগাছ। রাস্তা কোথায়? কোনোমতে বোল্ডার পিটিয়ে সোজা করা। আমাদের গাড়ি তার উপর দিয়ে নাচতে নাচতে চললো। আমি সামনে বসেছিলাম। স্পিডোমিটার দেখাচ্ছিল মেরে কেটে ৭-৮ ঘন্টা। বুঝলাম ঘন্টা চারেক মিনিমাম। এবার ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলো। তো চলতে থাকলাম। বাবা পিছনে, লম্বা মানুষ, ভালো করে ছাউনির রড ধরে বসে। একটু অন্যমনস্ক হলেই মাথা ঠুকে যাচ্ছে। জেঠু,জেঠিও খুব শান্তিতে নেই মাঝে বসে। চারিদিকে নয়নাভিরাম দৃশ্য, কিন্তু কেউই তেমন এন্জয় করতে পারছে না। এইভাবে দেড় ঘন্টা চললো। তারপর একটি ট্রেকার্স হাটের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়ে পড়লো। মোহন ভাই নামলো কিছু খাবে বলে। আমরাও নামলাম, গা হাত পায়ের ব্যথা ছাড়াতে। এছাড়া চা ও খাওয়া হবে।
ছোট্ট কটেজ। জায়গাটি শুনলাম নেপাল। যদিও আগে নেপাল গেছি, তাও এক ঝটকায় বিদেশ ভ্রমণ। বেশ ভালো লাগছিলো। কি সুন্দর চারদিক। বড়ো বড়ো পুরনো গাছে ঘেরা, আর পাহারায় স্বয়ং হিমালয়। নীল আকাশ, একফোঁটা দূষন নেই। বড়োরা চায়ের আসরে, আমি এদিক সেদিক ঘুরে গিয়ে ঢুকলাম হাটের ভিতরে। সিঙ্গেল অনেক গুলো খাট পাতা, কি ইচ্ছা করছিলো থেকে যাই। উনুনের আঁচ পোয়ালাম খানিকক্ষণ, তারপর ব্যাক টু গাড়ি। নেক্সট স্টপ.. সান্দাকফু। তখনো জানিনা, আগে কি আসতে চলেছে।