ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৯৭

ফেরা

শিয়ালদহ স্টেশনে ঢুকতেই শরীরে কেমন একটা শিহরণ খেলে গেল। অবশেষে, তাহলে আমরা যাচ্ছি। ট্রেন আসতে তখনও দেরি, অনিও পৌঁছায় নি। জন আহারে ঢুকি দুজনে। বেশ ভালো করে মধ্যাহ্নভোজ সমাধা করা হয়। এরপর বোর্ড দেখে প্ল্যাটফর্ম খোঁজার পালা, কত নম্বরে রাজধানী দেবে।
ঋক, শতাব্দীইই, এদিকে এএএ।
অনি আ গিয়া। সাথে দুইখানা নীলরঙা ঢাউস ব্যাগ। ওর সাথে কাকু কাকিমাও এসেছেন আমাদের সি অফ করতে। টিকিট মিলিয়ে দেখা যায়, অনির টিকিট পরবর্তী কোচে। ঠিক করি, যদি এই কোচে চেঞ্জ না হয়, তাহলে আমি ঐ কোচে গিয়ে থাকবো, এক রাত্তিরের ব্যাপার, দেখতে দেখতে কেটে যাবে।
তোরা সাবধানে যাস। ঋক, আমাদের দুটো মেয়েকে একটু দেখে রেখো। তোমার ভরসাতেই ছাড়ছি।
কাকিমা শুকনো মুখে বিদায় জানান। স্বাভাবিক, এরকম যাত্রা, অতদূর, আর তিনজনেই সেই অর্থে শান্তশিষ্ট নই আর কি।
কাকু কিন্তু বিন্দাস। যা তো তোরা। ফাটিয়ে এন্জয় করে আয়। খালি রোজ একবার করে কল করলেই হবে।
ট্রেনে উঠি। ঘষা কাচের এপারে আমরা ওরা। কোচ বদল হয়ে যায় নীর্বিঘ্নে। শতাব্দী, অনিন্দিতা এক টা সাইড লোয়ার আর আপারে, আমি আরেকটা সাইড লোয়ার পেরিয়ে পরেরটার সাইড আপারে। উঁকি ঝুঁকি মারলে একে অপরকে দেখাই যাচ্ছে।
বাঁশি বাজে, ট্রেন ছাড়ে। কাকু কাকিমা হাত নাড়েন, আস্তে আস্তে পথের বাঁকে আবছা হয়ে মিলিয়ে যান।
আমি সাইড লোয়ারে বসি। দুইপাশে দূইজন। তাহলে সেটা হয়ে যাক?
একটা সেল্ফি নেওয়া হয়। আগে থাকতেই প্ল্যান করা ছিলো। আমার ফেসবুক ওয়ালে ছবি দিয়ে দুজনকেই ট্যাগ করি। ছবিতে তিনজন দন্ত বিকশিত করে বসে। নীচে লেখা, জার্নি স্টার্টেড।লাদাখ, হিয়ার উই কামমম।
কোনো একটা কারণে, ট্রিপ চলাকালীন, ছবিটি ডিলিট করতে বাধ্য হই। কিন্তু আমার গুগল ড্রাইভে, আজো ছবিটি সযত্নে, জ্বলজ্বল করছে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।