কবিতায় সুনৃতা রায় চৌধুরী

যুগলবন্দী
গ্রীষ্ম অন্তে এসেছে আষাঢ় জলভরা মেঘে ঘনায় আঁধার
কোন্ সে যন্ত্রী অন্তরীক্ষে আলাপে মত্ত মেঘমল্লার।
বিদ্যুৎ বাণে আকাশ চমকে বাদলের হাওয়া দমকে দমকে
স্নিগ্ধ শ্যামল সজীব বনানী হরষিত যেন পরম পুলকে।
গুরুগম্ভীর মেঘগর্জনে কিসের শঙ্কা ঘনায় যে মনে
যূথী কদম্ব কামিনী কেতকী ফুলে ভরে ওঠে সে ধ্বনি শ্রবণে।
আকাশ মেতেছে ধরণীর সাথে একসাথে এক সৃষ্টি খেলাতে
মাটির গভীরে রস সঞ্চারে ঝরোঝরো নব বাদল ধারাতে।
ঘুমন্ত বীজ মাটির ভিতরে অঙ্কুর হলো কোন্ মন্তরে
হরিৎ বর্ণ বিজয় পতাকা প্রাণ শক্তির জয়ধ্বনি করে।
আশ্বাস নামে নববর্ষণে কৃষকেরা চলে হলকর্ষণে
গান জেগে ওঠে কবির কলমে বৃষ্টি ছন্দে ঝিল্লি স্বননে।
ক্ষেত বন মাঠ নবধারা জলে ময়ূরের মত যেন নেচে চলে
জলাশয় ভরা কানায় কানায় তবু দুখী মন আন কথা বলে।
বসত যাদের আকাশের নিচে জীর্ণ কুটিরে প্রহর যাপিছে
আশ্রয়হারা জীবনের কাছে আনন্দ গান একেবারে মিছে।
পথ ডুবে যায় ঘর ভেসে যায় বজ্র আঘাতে কত প্রাণ যায়
সে দুর্ভাগার ভগ্ন হৃদয়ে বর্ষার সুর বাজে কি গো হায়!
তবু বড়ো প্রিয় বড়ো ভরসার তান কর্তবে সুর বিস্তার
প্রকৃতির সাথে হৃদয়ের যোগে যুগলবন্দী মেঘমল্লার।