|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় সুকুমার রুজ

অন্তরাসুরমর্দিনী
আরে ছাড় তো ওঁর কথা! উনি নিজেকে বিশাল কিছু ভাবেন।
হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস! ওঁর খুব অহংকার!
না রে, উনি শুধু অহংকারীই নয় ভীষণ স্বার্থপরও। নিজেরটা ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। অন্যের কথা বলতে গেলে রেগে ওঠেন।
ঠিক বলেছিস! সবসময় যেন ওঁরই প্রশংসা করতে হবে! সাহস করে কেউ যদি ওঁর বিরূপ সমালোচনা করে, তাহলেই হয়েছে! তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
তাছাড়া উনি খুব লোভীও জানিস! কেউ কোনো সহযোগিতা চাইতে গেলে ওঁকে কিছু দিতেই হবে। টাকাপয়সা, কিংবা দামি জিনিস। কারও কারও কাছে আবার শরীরও চান!
ছিঃ! কী নোংরা মানুষ বল তো! অর্থ বল, শরীর বল, সম্মান বল, যা কিছু যেন ওঁরই প্রাপ্য, আর কারও নয়। আসলে কী জানিস, উনি একটা অসুর। তবুও কেন যে আমরা মানুষটাকে ভালোবাসি!
আরে! উনি অসুর নন, ওঁর ভেতরে এক অসুর বাস করে। তার উপরেই আমাদের রাগ। আর ওঁকে আমরা ভালোবাসি, তার কারণ, ওঁর মধ্যে মহামায়াও আছেন। তাঁকেই আমরা ভালোবাসি। অসুরটাকে জেগে উঠতে দেখলে আমাদের রাগ হয়। তারই নিধন দরকার।
হা হা! কে নিধন করবে, তুই?
আমি কেন! মহামায়া, যিনি ওর ভেতরেই আছেন। তাঁকেই জাগাতে হবে।
বেশ বলেছিস তো! তবে শুধু জাগালে হবে না, তাঁর হাতে অস্ত্রশস্ত্রও তো দিতে হবে। তবেই না তিনি যুদ্ধ করে ওঁর ভেতরের অসুরটাকে নিধন করবেন। সেসব কোথায় পাবি?
কেন! গর্ভধারিণী জননী দেবেন ধৈর্য ও নম্রতা, জন্মদাতা দেবেন সাহস ও দৃঢ়তা, ভগিনী দেবে সহৃদয়তা, স্ত্রী দেবে মধুরতা ও প্রসন্নতা, বন্ধু দেবে সাম্যতা, প্রতিবেশী দেবে সহযোগিতা, আর ওঁর অন্তরাত্মা দেবে মানসিক স্থিরতা। ব্যস! এই দশ অস্ত্র নিয়ে ওর ভেতরের মহামায়া ভেতরের অসুরকে নিধন করবেই করবে।
দারুন বললি তো!
হু হু বাবা! আমি দারুনই বলি। তুই একটু মনে মনে ভাব, এসমস্ত দশ-অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহামায়ার আগমন ঘটছে ওঁর ভেতরে। সে আগমনবার্তা ঘোষিত হচ্ছে ওঁর মনের আকাশে। আকাশ নির্মল হয়ে উঠছে। মনের মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে মায়াময় মলয় পবন। হৃদয়ের অন্দরমহলে বেজে উঠছে নতুন আগমনী সুর। মনের অসুর নিধনের পর আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উঠছে ওঁর মুখমণ্ডল। সে আলো ছড়িয়ে পড়ছে তোর, আমার, সকলের মাঝে। এটাই তো আসল আগমনী রে!