সাপ্তাহিক কোয়ার্কো ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৫১)

একান্নো

সকালে লুলিয়ার বেডরুমের জানালা দিয়ে আমার চোখে আলো পড়তেই ঘুমটা ভেঙে গেল। লুলিয়া আমার পাশে শুয়ে আছে। লুলিয়ার দিকে তাকালাম। দেখি ও এখনও ঘুমোচ্ছে। সুন্দর মুখশ্রীর কি কমনীয় একটা মুখ। ইচ্ছে হচ্ছিলো ওর সুন্দর মুখে একটা আলতো করে চুমু দিই। কিন্তু, নেশার ঘোরে যা করা সম্ভব সচেতন অবস্থায় তা করা সম্ভব হল না। বরং একটা অপরাধ বোধ যেন আমার মনের কোনে উঁকি দিচ্ছে। আমি তারাতাড়ি উঠে লুলিয়ার অনাবৃত দেহ চাদরে ভালো করে ঢেকে দিয়ে আমি আমার পোশাক পরে ফেললাম। ডাইনিং রুমে বসে ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমার জীবনে নারীসঙ্গ আগেও কয়েকবার হয়েছে। কিন্তু কালকের রাত টা ছিল সেরা রাত। ঘুরে ফিরে বার বার কাল রাতের লুলিয়ার সঙ্গ সুখের স্মৃতি মনে আসছে। কিন্তু সেই সঙ্গে মনে আসছে একটা অপরাধ বোধহয়। লুলিয়া অনেকদিন যাবৎ একা একা অসহায় অবস্থায় আছে। স্বামী নিখোঁজ। বিবাহিতা নারীর স্বামী সঙ্গ সুখে বঞ্চিতা হলে মনের মধ্যে একটা আকুতি তৈরি হয় হয়ত। তার প্রভাবে সেই নারীর ভুল করা স্বাভাবিক। কিন্তু আমি কেন ভুল করলাম? বিশেষ করে আমি যখন জানি সে বিবাহিতা। সুখস্মৃতি আর অপরাধ বোধের টানা পোড়েনের মাঝে পড়ে আমার বেশ কাহিল অবস্থা। এমন সময়। হঠাৎ কানে এল ‘গুডমর্নিং অর্ক ‘দেখি লুলিয়া বেডরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে একমুখ হাসি আর ঘুম লেগে থাকা ভারী চোখ নিয়ে। আমিও পাল্টা গুডমর্নিং জানালাম। ওকে দেখে বেশ অবাকই হলাম। কালকের রাতের ঘটনায় ওর মধ্যে একটা সংকোচের ভাব আসা করেছিলাম। কিন্তু ওর আচরণ একদম স্বাভাবিক। যেন কাল রাতে কিছুই হয়নি। ও পাশের চেয়ার এ এসে বসে বলল, “কাল রাতে ঘুম হয়েছিল তো? “চোখে যেন একটা দুস্টু হাসির ঝিলিক খেলে গেল। তার পরেই বলল ওঠো এবার ফ্রেশ হয়ে এসো। আমি চা নিয়ে আসি। তারপর একেবারে ব্রেকফাস্ট করে বাড়ি ফিরে যেও। “আরও বলল, “কালকের ওয়েস্ট গুলো টেবিলে রয়ে গেছে। আমি ওগুলো তাড়াতাড়ি গুছিয়ে ফেলি।যাও জলদি যাও। “লুলিয়া একটা নতুন ব্রাশ আর টাওয়েল দিলো আমার হাতে। আমি সেগুলো নিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম।
মিনিট দশেকের মধ্যে আমি ফ্রেশ হয়ে বেরোলাম। চা আর ডিমটোস্ট রেডি করে লুলিয়া ডাইনিং টেবিল এ বসে আছে। আমাকে দেখে উঠে পড়ে বলল, “অর্ক ইউ জাস্ট স্টার্ট। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই চলে আসছি।”ঘড়িতে দেখি সকাল নটা। লুলিয়া সত্যি পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাইরে বেরোবার জন্য একেবারে রেডি হয়ে এসেছে। বলল, “তোমার সঙ্গেই বেরিয়ে যাবো। ছেলেকে নিয়ে আসতে হবে।”খেতে খেতে লুলিয়া জিগেশ করলো, “শ্রেয়ানের কোনো খবর পাওয়া গেল? আর কোনো ফোন এসেছিলো? “লুলিয়া যে সব কথা জানতো না বা ঘটনা আগে শোনেনি, সেগুলো সব ডিটেইলসে বললাম। লুলিয়া মন দিয়ে সব শোনার পর জিগেশ করলো, “আচ্ছা তোমাকে যে ধাঁধার সমাধান করতে বলেছে সেটা ঠিক কি? “আমি বললাম ধাঁধাঁ বোধহয় একটা না, অনেকগুলো। ” ওকে সংক্ষেপে একটা ধারণা দিলাম ধাঁধাঁগুলোর।
লুলিয়া বলল, ” অর্ক, ডাক্তার স্যার এর ফ্ল্যাটটা একবার দেখলে হয়না? হয়তো কোনো দরকারী তথ্য বা ধাঁধার সূত্র পেয়ে যেতে পারো। “আমি খুব উচ্ছাসিত হয়ে বললাম, “দারুন হয় তাহলে। ওনার ঘরটা ভালো করে খুঁজে দেখা খুব দরকার। কিন্তু তুমি পারবে? তোমার কাছে ছবি কি আছে?। “লুলিয়া বিজ্ঞের মতো বলল, ” রাখতে হয় মশাই। দাঁড়াও নিয়ে আসছি। ” লুলিয়া ভেতর থেকে চাবিটা নিয়ে এসে বলল, “আসলে ডঃ চোঙদার না থাকলেও আমার স্বামী ওনার ল্যাব এ গিয়ে কাজ করতেন। তাই একটা ডুপ্লিকেট চাবি আমার কাছে ছিল। “লুলিয়া নিজের ফ্ল্যাট এর গেট তালা চাবি দিয়ে আমাকে নিয়ে নীচে নামলো। বাড়ির সামনের দিকটা ডঃ চোঙদারের ফ্ল্যাট এর সামনে এসে আমরা দাড়ালাম। লুলিয়া দুতিনটে চাবি চেষ্টা করার পর তালাটা খুললো। কলাপ্সিবল গেট পেরিয়ে একটা বারান্দা। বারান্দার শেষে দুটো দরজা। একটা দরজার হ্যাজবোল্ট বাইরে থেকে আটকানো। আরেকটা দরজা ঠেলতেই খুলে গেল। দরজাটা ভেজানো ছিল।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।