গল্পবাজে সুতনু হালদার

চাহিদা

ঘটনাটা আজই ঘটে গেল! এত তাড়াতাড়ি যে ঘটে যাবে সেটা আমিও ঠিক মত ভাবতে পারিনি। যদিও মনে মনে যে সংশ্য একটা ছিলনা তা নয়, তবে সেটা এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে তা অবশ্য আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। সংশয় বললাম তারও কারণ আছে। বহুদিনের জমানাে ধিকিধিকি আগুন তাে সামান্য ঘি-তেই দাবানলের মত আকার নেবে তাতে আর অস্বাভাবিকত্ব কি আছে? আসলে মেয়েরা ছেলেদের অনেক কিছুই আগেভাগে বুঝতে পারে। আমিও বুঝেছিলাম। শুধু বুঝেছিলামই বা বলি কেন! আমার তরফ থেকেই ঘটনাটা ঘটানাের দরকারও ছিল। তাই ইন্ধন বা প্রশ্রযটা যে আমিও একটু বেশী মাত্রাতেই দিয়েছিলাম তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ ছিল না। কিন্তু সাফল্য যে এত তাড়াতাডি, এত সহজেই আসবে সেখানেই শুধু একটুখানি চমক থেকে গেল!
সে যাই হােক, এইমাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনাটার রেশটা আমি পুরাে সময় ধরে বেশ করেই উপভােগ করলাম। এখনাে করছি। পুরাে বিছানাটা এখনাে লন্ডভন্ড! খানিকক্ষণ আগেই সে চলে গিয়েছে। তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আমি আবার বিছানায় খানিক জিরিয়ে নিলাম। দামাল ছেলে বটে একটা। মুহূর্তেই আগুন স্বালিয়ে দিল সারা শরীরে! ঠোঁটটা এখনাে বেশ ফুলে আছে মনে হচ্ছে! বুকদুটো ব্যথা করে দিলেও এটা বলতেই হবে যে, মানুষটা আদর করতে জানে বেশ ভালাে করে। কতদিন পরে এমনভাবে সারা শরীর জুড়ে কোন পুরুষ মানুষের স্পর্শ পেলাম তা মনে করতে পারছি না। সার্বিক বিয়ের পর প্রতি রাত্রেই এমন পাগলামী করত বটে, কিন্তু সেটার আযু বড়জোড় বছর দুযেক; তারপর সবই কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে গেল! একটা অভ্যাসের মত! সাংসারিক ক্রিকর্মের দৈনন্দিন সেই একঘেঁযেমীর মধ্যে দিয়ে জীবন কাটানাে! আর যতদিন এগােতে লাগল আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন যেন ক্রমশই অসহনীয় হয়ে উঠতে লাগল। সার্বিকের অফিসের অমানষিক চাপ আর ওর প্রবল উচ্চাকাঙ্খা আমাকেও যেন ওর থেকে আস্তে আস্তে অনেক দূরে সরিয়ে দিতে লাগল। আর সার্বিকও যেন সব বুঝেই এই দুরত্বটাকে মেনে নিয়েছিল বলেই আমার মনে হয়েছিল।
| দিনের পর দিনের এই একাকীত্ব আজকের এই ঘটনাটার পটভূমি রচনার দ্বিতীয় কারণ, প্রথম কারণটি অবশ্য অন্য। সেটা কিছুক্ষণ পরে বলছি; আগে আজকের ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটার কথাটা বলি। আমি যখন ক্লাস টেন, তখন একদিন এক প্রাইভেট কোচিং-সেন্টারে আমার ওর সাথে পরিচয়। আমি যে প্রাইভেটে পড়তাম সেখানে একদিন আবর্ত নামে নতুন একটা ছেলে পড়তে এল। বেশ হাসিখুশি পাজী টাইপের ছেলেটা। সহজেই বন্ধুত্ব হয়ে গেল। অল্পদিনের মধ্যেই বন্ধুত্বের গাঢ়ত্ব বাড়তে লাগল। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু গুরুত্বই দিইনি! এমন ঘটনা আমারতাে আকছার ঘটে। কত ছেলের মুগ্ধদৃষ্টি, কত অযাচিত ভাবে আলাপ, কত বান্ধবীর দাদার কিংবা দাদার বন্ধুর বাররার পাঠানাে আবেগ সম্বলিত প্রেমপত্র চেটেপুটে উপভােগ করতাম সেই সময়ে, এই কথা ভাবতে আজও বেশ ভাল লাগে। অবশ্য আজও এমন অনেক মুগ্ধদৃষ্টি আমার চারপাশে টের পাই। স্কুলকলেজের বান্ধবীদের ভাষায় আমি নাকি ডাকসাইটে সুন্দরী! ছেলেদের মাথা ঘােরাতে আমার রূপ, আমার সৌন্দর্য নাকি অতিমাত্রায় প্রবল! ভালই লাগত এইসব প্রশংসাসূচক কথাবার্তা। শুধু আমার কেন এই ধরনের কথাবার্তা সব মেয়েরই শুনতে ভাল লাগবে। তবে ভুল করেও এই ভাল লাগাটা সামনা সামনি প্রকাশ করতাম না। যেন গুরুত্বই দিচ্ছি না এমন একটা ভাব দেখাতাম। আজ এই বত্রিশেও অমন কথাগুলাে আর সেই মুগ্ধদৃষ্টিগুলাে বেশ উপভােগ করি।
স্কুলের পাঠ চুকিয়ে আমি আর আবর্ত একই কলেজে ভর্তি হলাম একই সাথে অনার্স গ্র্যাজুয়েটের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করলাম। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অব্দি প্রায় আট নয় বছ আবর্তের দুর্বার প্রেম নিবেদনকে কখনাে শক্তহাতে, কখনাে কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছি, শুধুমাত্র বন্ধুত্বটাকে বজায় রাখার জন্য। একবারই মাত্র একটু দুর্বলতম মুহূর্তে কিছুটা ঘনিষ্ট হয়ে পড়েছিলাম। এম.এ-র লাস্ট সেমের আগে আবর্ত সিদ্ধান্ত নিল যে ও এবার পরীক্ষা দেবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবর্ত বেশ ভালভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। ক্লাসের নেতা বনে গিযে দিনরাত ওসব নিযেই মেতে থাকত। আর বাকি যেটুকু সময় পেত সেটুকু নিয়ম মত আমার পেছনে লাগা- এইছিল সেইসময় আবর্তের ডেইলি রুটিন। অনেক বুঝিযেও পরীক্ষায় বসানাের জন্য আবর্তকে রাজি করাতে পারলাম না! সেই এক কথাই বলে চলল যে, আমার কোন প্রস্তুতি নেই, কোন নােটস পত্র নেই, এবার পরীক্ষায় বসলে একেবারে ডাহা ফেল। অনেক বােঝালাম, বকাবকিও করলাম। কিন্তু কে শােনে কার কথা! শেষমেশ আমি দিনকয়েকের জন্য ওর সাথে কথাবার্তাও বন্ধ করে দিলাম। ওর ফোন এলে রিসিভ করতাম না। বেশ কয়েকদিন পরে আমি নিজেই একদিন উপযাচক হযে ওকে ফোন করে আমাদের মেসে আসতে বললাম, কিছু নােটসের জন্য। আমার কথা শুনে আবর্ত বলল, তােকে বলেছিতাে এবার আমি পরীক্ষা দিচ্ছি, তাহলে তাের নােটস নিয়ে কি করব?’
আমি বললাম, “আয় তাে একবার, অনেকদিন দেখাও তাে হয়নি।
-এই কদিনে তােকে অনেকবার ফোন করেছি, তুই আমার ফোন অ্যাটেন্ড করছিস না কেন? -“তুই আমার কোন কথা শুনিস না বলে।
-সে তাে তুইও আমার কোন কথা শুনিস না! এতদিন ধরে মনে একটুও জায়গা দিলি না! আবার বলছিস আমি নাকি তাের কোন কথা শুনি না! কেন শুনব?’
-“ঠিক আছে, আজ আমার মেসে আয। তাের সব কথা মন দিয়ে শুনব। কথা দিলাম।
-“নতুন কথা আর কি শুনবি? কথাটাতাে অনেক পুরানাে। সেই স্কুল থেকে বলে আসছি তাে…’
আমি একটু হেসে জবাব দিলাম, বিকেলের দিকে আসিস, আর সাথে নিয়ে আসিস আমার বিরুদ্ধে জমে থাকা সব অভিযােগগুলােকে। কথা দিচ্ছি, মন দিয়ে শুনব।’
-তাের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযােগ তাে নেই! অভিমান আছে।
আমি বললাম, ঠিক আছে আমার মেসে আসার সময় তাের সব অভিমানগুলােকেও সাথে করে নিয়ে আসিস।
-‘আচ্ছা, তাই হবে। কিন্তু পরীক্ষার ব্যাপারে কোন কথা হবে না। আমি এই সেম দেবনা, ফাইনাল।
-“আচ্ছা বাবা। ফাজিল একটা। আয় তারপর বাকি কথা হবে।
সেদিন বিকেলে আবর্ত এসেছিল, অনেকক্ষণ ছিল। ছিল বলা ভুল! আমিই ওকে আটকে রেখেছিলাম একটু বেশি সময় ধরে। পরীক্ষার জন্য ওকে রাজি করাতে সেদিন কম বেগ পেতে হ্যনি! নিজের সিদ্ধান্তে আবর্ত যখন অটল তখন আমার অবচেতনেও ওর জন্য কোন আলাদা অনুভূতি তৈরী হয়েছিল কিনা বলতে পারবনা! শুধু বন্ধুত্বের ভাগিদ নাকি তার বাইরে নারীপুরুষের কোন জটিল হিসেব-নিকেশও ছিল কিনা সেটা গভীর ভাবে কখনােই ভেবে দেখিনি। দেখার প্রযােজনও হয়নি কখনাে। কার্যসিদ্ধি হয়ে গিয়েছিল, এবং সেটাই তখন আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আবর্তকে যখন পরীক্ষার জন্য একদমই রাজি করাতে পারছিনা, পরীক্ষার ব্যাপারে ও যখন কথা বলতেই রাজি নয়, ঠিক তখনই হঠাৎ কথা বলতে বলতে ওর ঠোঁটে বেশ কয়েকটা দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিযেছিলাম। আর তাতেই কাজ হয়েছিল। আবর্ত রাজি হয়ে গেল পরীক্ষায় বসতে। একটু বেশি রাতেই সেদিন আবর্ত ওর হােস্টেলে ফিরেছিল আমাদের মেস থেকে।
পরীক্ষার পর রেজাল্ট আউট পর্যন্ত আমাদের যােগাযােগ ছিল। তবে সেটা শুধুমাত্রই বন্ধুত্বের। সচেতনভাবেই সেদিনের সেই আবেগঘন মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি আর ঘটতে দিইনি। আবর্তের সাথে ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তায় নিজেকে জড়ানাের কোন বাসনা আমার কখনােই ছিলনা। পরিস্থিতিও। অবশ্য তেমন ছিলনা। ছােটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলাম। মা অনেক কষ্টে ভাইকে আর আমাকে মানুষ করেছিলেন। লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন। ভাই তখনও বেকার। তাই সার্বিকের বাবা-মা যখন আমাকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আমার মায়ের কাছে এসেছিলেন তখন আপত্তি করার কোনাে সুযােগ ছিলনা। আমিও কোনাে আপত্তি করিনি। আপত্তি করার মত কেউ ছিল না আমার জীবনে। এম.এ পাশ করার কয়েক মাসের মধ্যেই আমার বিযের ঠিক হয়ে গেল সার্বিকের সাথে। আমিও লক্ষী মেযের মতন বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলাম। সার্বিক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। মােটা বেতন, ভাল অবস্থা।
স্বামী আর সংসার নিয়েই আর পাঁচজন মেযের মতই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। প্রথম দিনগুলাে অবশ্য মন্দ ছিলনা! সব ঠিকঠাকই চলছিল। বিয়ের পরে সাংসারিক ব্যস্ততা এবং যােগাযােগের অভাবে বন্ধু বান্ধবী সবার থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। বিয়ের পর পরই সার্বিক আমাকে নিয়ে এল ওর সল্টলেকের ফ্ল্যাটে। ওদের দেশের বাড়িতে আমি প্রায় থাকিনি বললেই চলে। থাকিনি মানে সার্বিকই রাখে নি। দেশের বাড়িতে ওর বাবা, মা আর ভাই থাকেন। আমরা পূজোর সময় বছরে শুধু একবার মাত্র ওখানে যেতাম। ঐ সময়টা সবার সাথে দারুণ কাটত আমার। কিছুদিন মায়ের কাছেও থেকে আসতাম, আমাদের সুখে দুঃখে ভরা সেই পুরানাে সংসার। আমার বাইরে বেরােনাে সার্বিকের অপছন্দ বলে আমি ওর ইচ্ছেকেই মেনে নিয়েছিলাম। আমাকে কখনােই চাকরি বাকরির চেষ্টাও করতে দেয়নি। ওর আসলে পুরােপুরি একটা ঘরােযা ধরনের মেযের দরকার ছিল। প্রথমদিকে আমিও এগুলাে ঠিকঠাক মানতে পারিনি। তবে ওকে বললে ও বিশ্রী ধরনের ঝগড়া ঝাঁটি শুরু করত! গোঁয়ার টাইপের ছেলে বলে আমি ওকে তেমন ঘাঁটাতে সাহস পেতাম না, ফলে মনে না নিলেও ওর ইচ্ছাগুলােকেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। ঘর সংসার আর সার্বিককে নিযেই গড়তে চেয়েছিলাম আমার স্বপ্নের ভুবন। কিন্তু সেখানেও সার্বিকের সময়াভাব আমাকে ক্রমশই নিঃসঙ্গ করে তুলতে লাগল! আমি হাঁপিয়ে উঠলাম। তবুও এইভাবেই চলল বছর পাঁচেক। এর মধ্যে সার্বিক সন্তান চায়নি। আমার এই তীব্র একাকীত্বেও তার মনের কোন পরিবর্তন আসেনি! শেষমেশ একটু জেদ করেই ওকে সন্তানের কথা বললাম। ও নিমরাজি হলেও আমাদের সন্তান এলনা বছর খানিকের চেষ্টায়! অবশেষে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হ’ল আমাদের। ডাক্তার আমাকে বেশকিছু টেস্ট করতে দিলেন আর ছ্যমাস আমাদের গভীরভাবে মেলামেশা করতে বলেছিলেন। আমরা ডাক্তারের পরামর্শমত সবকিছুই করেওছিলাম। আমার ডাক্তারী পরীক্ষার সব কিছু ঠিকঠাক থাকা সত্বেও আমাদের সন্তান এল না! মাস ছয়েক পর আবার ডাক্তারের কাছে যেতে ডাক্তার সার্বিকের স্পার্ম । কাউন্ট করতে বললেন। নার্সিংহােম সংলগ্ন প্যাথােলজিক্যাল সেন্টার থেকে সার্বিক সেইদিনই ওর টেস্ট। করতে দিল। রিপাের্ট দুইদিন পরে দেবে শুনে আমরা সেদিনের মত বাড়ি চলে এলাম।
অফিস ফেরত রাত্রিবেলা রিপাের্টটা সার্বিকেরই আনার কথা ছিল। কিন্তু কৌতূহল বশত আমি গিযেই রিপাের্টটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে দেখা করলাম। উনি বললেন, ‘মৌরি মা, সার্বিকের স্পার্ম কাউন্ট ইজ ভেরি পুওর! আই মিন নীল! যদি একটাও জীবিত স্পার্ম থাকে তাহলেও এখনকার উন্নত মেডিকেল সায়েন্স তাতেই সাফল্য আনে, কিন্তু সার্বিকবাবুর স্পার্ম কাউন্ট করে দেখা যাচ্ছে তাও অসম্ভব। আপনি ওনাকে বােঝান, দরকারে আমার কাছেও নিয়ে আসুন আমিও বলব, এখন তাে অনেকেই বাচ্ছা অ্যাডপ্ট করছে। আপনারাও তেমন কিছু একটা ভাবুন না…’
আমি বললাম, “ঠিক আছে ওর সাথে আলােচনা করে দেখি। নমস্কার।
| – ‘নমস্কার। ডাক্তার দাশগুপ্ত প্রতিনমস্কার জানালেন। আমি বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
সারা রাস্তায় শুধু ভেবে ভেবে কোন কুল করতে পারলাম না যে সার্বিককে কি বলব। আর বাচ্ছা অ্যাডপ্ট নিতে সার্বিকের মত গোঁয়ার একরােখা মানুষ কিছুতেই রাজি হবে না। ওর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যতই থাকনা কেন, আসলে ওর মধ্যে মধ্যযুগীয় একটা সংকীর্ণতা আছে– এটা আমি এই ছ্য সাত বছরে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। কিন্তু ওর স্পার্ম কাউন্ট শূন্য, সেটা ওকে বলি কি করে! ভাবতে ভাবতেই বাড়ি পৌঁছে গেলাম। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারলাম না। শুধু এটা ঠিক করলাম যে, ওকে কিছুতেই এই রিপাের্টটা দেখাব না। কিছু একটা বানিয়ে বলতে হবে। এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই যত্ন করে রিপাের্টটা পুড়িয়ে দিয়ে সার্বিককে রিং করলাম। ওপ্রান্ত থেকে সার্বিক বলল, “বল, কি বলছাে?’
-এইমাত্র সালােযারগুলাে আনতে গিয়েছিলাম, ফেরার পথে ডক্টর দাশগুপ্তের চেম্বার থেকে রিপাের্টটা নিয়ে এসেছি। ডাক্তারের সাথেও কথা বললাম। ডাক্তার বললেন সব ঠিক আছে। আমাকে আরাে মাস ছয়েকের ওষুধ দিলেন। বললেন আগামী ছ্য থেকে একবছরের মধ্যেই আমার কনসিভ করা সম্ভব।
– ‘বেশ। বাকি কথা বাড়ি ফিরে শুনব। অনেক কাজ বাকি…’ -“বলছিলাম যে আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি আসবে? সারাদিন একাএকা থাকতে ভাল লাগছে না। – সে তাে ভুমি প্রতিদিন একাই থাকো। আজ তাে নতুন নয়! – “হ্যাঁ। কিন্তু আজকে থাকতে ভাল লাগছে না।
– “ঠিক আছে দেখছি। পারলে আসছি।
সার্বিক তাড়াতাড়ি তাে ন্যই বরং অন্যদিনের থেকে আরাে দেরি করেই বাড়ি ফিরল। ফিরেই শুনিয়ে দিল, ‘ খুব জ্যাম! রাস্তায় গাড়ি অনেকক্ষণ আটকে ছিল, তাই এত দেরি হ’ল।’ ভারপরেই বলল, ‘মৌরি দাও রিপাের্টটা দাও। আমিও অনেক খোঁজার অভিনয় করে গেলাম কিন্তু রিপাের্টটা পেলাম
! শেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে সার্বিককেই বললাম, কোথায় যে রাখলাম রিপাের্টটা! ডাক্তারের কাছেই ফেলে এলাম নাকি! পেলাম নাতাে এত খুঁজেও! এক কাজ কর, কাল আফিস যাবার কিংবা ফেবার পথে তুমি একবার ডক্টর দাশগুপ্তের চেম্বারে একটু খোঁজ করাে প্লিজ…কিংবা যদি না পাওয়া যায়। তাহলে ওদের বলে একটা ডুপ্লিকেট নিয়ে এসাে লক্ষীটি…’
ভালরির কষ্ট দুজন রাজ্জাল
– ‘ওরা ডুপ্লিকেট রিপাের্ট দেবেনা। আর আমিও নিতে যাব না। তুমি পাকামাে করে
আগবাড়িয়ে রিপাের্টটা আনতে গিয়ে হারিযেছ! যাবার হলে তুমিই যাবে।
আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। বললাম, “আচ্ছা। আমিই যাব।
– ‘ডাক্তার কি বলল? – “ঐ যে তখন বললাম। যে ওষুধগুলাে এখন খাচ্ছি সেগুলােই আরাে দু’মাস খেতে বললেন। | – ‘না! না! আমার রিপাের্ট নিয়ে তখন কি যেন বলছিলে? – “উনি বললেন, সব ঠিক আছে। ছয় থেকে একবছরের মধ্যে সব ঠিকঠাক থাকলে আমার
কনসিভ করার সম্ভাবনা আছে।
সার্বিক আর কিছু না বলে স্নান করতে ঢুকে গেল বাথরুমে। আর আমিও যেন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রাণে বাঁচলাম।
এমন একসময়ে ফেসবুক মারফৎ হঠাৎ আবর্তের সাথে যােগাযােগ ঘটে গেল। সার্বিকের প্রবল উচ্চাকাঙ্খ দিন দিন যেন বেড়েই চলছিল! আমিও একা থেকে ক্রমশই একাই হতে লাগলাম। এমন সময় আবর্তের সাথে যােগাযােগ আমার কাছে একরাশ ভাজা অক্সিজেনের মত। পুরােনাে বন্ধু, অনেকদিন পরে আবার যােগাযােগ, একটা আলাদা আনন্দের জন্ম দেয়। আবর্ভের মত প্রাণচঞ্চল ছেলের সান্নিধ্যে মুহূর্তেই যেন সব অবসাদ, সব বিষন্নতা, সব একাকীত্ব কেটে যেতে লাগল! মাস কয়েকের মধ্যেই আমরা বার চারেক মিলিত হযেছি নির্জন কোন দুপুরে, কখনাে আমাদের ফ্ল্যাটে আবার কখনাে কোন হােটেলে। নিজের সুখের জন্য ন্য আবর্তকে আমার দরকার ছিল আমার সংসারটাকে বাঁচানাের জন্য। সন্তানের ছোঁয়ায় সার্বিককে যদি একটু সংসারমূখী করা যায়, শুধুমাত্র সেই আশাতেই এতটা ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আমার আর আবর্তের মধ্যে নির্জন দুপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলাের যেটা কিনা প্রথম এবং প্রধান কারণ। এইভাবেই কয়েকটা মাস কেটে গেল! কোন একটা মাসে দেখলাম সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আমার যখন শরীর খারাপের কোন লক্ষণ দেখা গেলনা, তখন সার্বিককে একটা প্রেগানিউজ এনে দিতে বললাম। ও বলল, “এমাসে তােমার হয়নি?
আমি বললাম, “না। আজই একটা এনে দাও, টেস্ট করে দেখি…’
পরদিন সকালে আমি সার্বিকের আনা প্রেগানিউজেই আমার প্রেগনেন্সি টেস্টের পজেটিভ রিপাের্ট পেলাম। সার্বিককে জানালাম সাথে সাথেই। সার্বিক শুধু বলল, “এখন খুব সাবধানে থাকবে; হুটোপাটা করে কোন কাজ করবে না।’
স্রেফ সতর্ক বাণী! আমি আরাে একটু উচ্ছাস আশা করেছিলাম ওর কাছে! বললাম, “তুমি খুশি?
হবারই কথা। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তাে একবার।
– হুম! সেতাে যেতেই হবে। কবে তােমার সময় হবে?’
| ‘সামনের রবিবার যাব। তুমি দাশগুপ্তের একটা অ্যাপাে নিয়ে রেখাে।
– “ঠিক আছে, আগামী রবিবার নাম লিখিয়ে রাখব। তবে…?
– ‘কি? কি তবে?’
– “আসলে কোন মেয়ে ডাক্তারের কাছে আমাকে নিয়ে যাবে?
– কেন? যিনি দেখছেন, তাঁকে কি অসুবিধা হল? – “না, মানে এমনি কোন অসুবিধা নেই, তবে উনি পুরুষ মানুষ কিনা তাই একটু সঙ্কোচ হ্য
আর কি…’ – হুম, বুঝলাম। ডাক্তারের আবার পূরুষ-মহিলা! ইনি বাড়ির কাছে ছিলেন বলে অনেক
সুবিধাও তাে ছিল। তাছাড়া এনাকে তাে আগে অনেকবার দেখিযে!” – ‘তা ছিল৷ ঠিক আছে, তুমি যখন বলছ তখন নাহ আমি আবার এঁনাকেই দেখাব।
– “অত তাড়াহুডাের দরকার নেই। আমি দেখিছি কি করা যায়। একটু খোঁজ নিয়ে তােমাকে
বলছি। আজকের দিনটা অন্তত সময় দাও…’
অত্যন্ত উদাসীন ভাবেই সার্বিক কথাগুলাে বলল। এই নির্লিপ্ত কথাবার্তার মাঝেই সার্বিক অফিস যাবার জন্য তৈরী হয়ে নিল। সকালে তার সময় বড়ই অল্প! কখন যে সময় থাকে সেকথা একমাত্র অন্তর্যামী ছাড়া আর কেউ জানেনা। সার্বিক নিজেও জানে না। অতিদ্রুত নাকে মুখে কিছু খুঁজে সার্বিক অফিস চলে গেল। আমি আবার একা। আবর্তকে ফোন করে ওর সাথে বিকেলের দিকে একবার দ্যাখা করতে চাইলাম। বললাম করুণাময়ী স্টপেজের সামনে আসতে। আর কিছুই ওকে জানালাম না। জানানাের কিছু নেইও।।
আবর্ত মিনিট দশেক দেরি করেই এল। সম্পূর্ণ ইচ্ছা করেই প্রায় পায়ে পা বাঁধিযে ওর সাথে ঝগড়া। করে উঠে চলে এলাম। রাতে অনেকবার আবর্ত ফোন করল, ধরলাম না। ফোন অফ করে। রাখলাম। পরদিন দুপুর নাগাদ আবর্ত আমাদের বাড়ি এল। ওকে বললাম, আমার বর চায়না আমি তাের সাথে কোন যােগাযােগ রাখি। তাই তুই আর কখনাে এখানে আসিস না আর আমার সাথেও কোন যােগাযােগ রাখিস না।
আবর্ত আমার দিকে খানিক হতভম্বের মত তাকিয়ে থেকে বলল, “কি হযেছে বল তাে?
আমি বললাম, “শুনলিই তাে! বললাম তাে সবই। বর চায়না তাের সাথে আমি কোন যােগাযােগ রাখি। তুই আমাকে আর বিরক্ত না করে চলে যা।
– ‘তাের বর জানলাে কি করে?
– ‘আমার আগােচরে আমার মােবাইল আর ফেসবুকের মেসেজগুলাে ও পড়েছে। মিথ্যা করেই
বললাম আবর্তকে।
| ‘আর তুই কি বলছিস?’
| ‘কতবার বলতে হবে তােকে?
– ‘তাের বরের কথা বলেছিস, তাের কথা তাে এখনাে বলিস নি।
– ‘না! আমি আমার সংসার ভাঙতে চাইনা। তাই তুই আর যােগাযােগ না করলেই খুশি হব।
‘তাহলে আমার সাথে মিশেছিলি কেন? কেনই বা অমন আবেগ ভরা মেসেজ করতিস আমাকে? আমি তাে প্রথমে এগিয়ে আসিনি!’
‘ভুল করেছিলাম! এতটা ভাবিনি! এখন ভুলটা বুঝতে পেরেছি, তাই যেটা ঠিক সেটাই করতে চাইছি। আর তােকে এত কৈফিয়ৎ আমি দেবই বা কেন? তুই যদি এখনই না যাস তাহলে আমি কিন্তু এবার চিৎকার করে লােক ডাকতে বাধ্য হব। আমাকে বাড়িতে একা পেযে বন্ধুত্বের অজুহাতে বিরক্ত করার কোন অধিকার তাের নেই। যখন বন্ধু ছিলিস তখন ছিলিস অনেকদিন আগের কথা, এখন তাের সাথে আমার কোন সম্পর্কই নেই… তুই এখান থেকে চলে যা।
আবর্ত আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে স্বগােতােক্তির মত করে বলল, “তুই এতটা পাল্টে যেতে পারিস আমি ভাবতেও পারিনি মৌরি!’
আমি কোন উত্তর করলাম না। আবর্ত চলে গেল। আমি আবার একা হয়ে গেলাম। আবর্তকে এইভাবে কাটাতে চাইনি! আবার এটা না করেও আমার কোন উপায় ছিল না। আমি যা করেছি আমার সংসারকে বাঁচাতে করেছি। আবর্তকে ব্যবহার করার বা ওকে আঘাত করে বাড়ি থেকে এইভাবে তাড়িয়ে দেবার কারণও মূলত সেই সংসারকে টিকিয়ে রাখার দাযেই। কিন্তু মনটা খুব তিক্ত হয়ে গেল! দুপুরে কিছু খেতেও ইচ্ছা করল না। স্নান করে অন্ধকার ঘরে চুপচাপ শুযে রইলাম। নিজের মনে মনেই আর্বতের কাছে ক্ষমা চাইলাম বারবার। আমি বদলায়নি রে আবর্ত। এই জীবনে যদি কারােকে ভালবেসে থাকি তবে সে শুধু তুই…
ঘুম এলনা বেশ কয়েকদিন। শুধু এক নিদারুণ ছটফটানিতে দিন কেটে গেল। কতবার ফোন হাতে নিযে আবর্তকে রিং করতে গিয়েও ফিরে এসেছি…
রবিবার সার্বিক আমাকে দায়িত্ব করেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ওর অফিসের কাছেই। এক মহিলা ডাক্তার। গাইনি হিসেবে বেশ সুনামী। আমার নামটা সার্বিক আগেই এন্টি করিয়ে রেখেছিল। একটু দূর হ’ল বটে! কিন্তু আগে থেকে নাম লেখানাে থাকার জন্য বিশেষ তেমন দেরি হ’লনা। ডাক্তারও রিপাের্ট পজেটিভ বললেন এবং আমাকে দেখেশুনে সামনের মাসে আবার ডেট দিলেন আর সাথে কিছু ওষুধপত্রাদি৷ ডাক্তারটিকে আমারও বেশ মনে ধরে গেল। অবশ্য মনে ধরানাে ছাড়া বিকল্প কোন উপায় আমার সামনেও আর কিছু খােলা ছিল না। আগে যাঁকে দেখিয়েছিলাম তাঁর নার্সিংহােম আমাদের ফ্ল্যাটের কাছে হলেও তাঁকে দেখানাে এক্ষেত্রে আর আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সার্বিকের সামনে ওই পুরুষ ডাক্তার নারী ডাক্তারের নাটকটা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আগের ঐ ডাক্তার ভদ্রলােক পিতৃতুল্য মানুষ, অমায়িক তাঁর ব্যবহার, ভাঁকে না দেখানাের কোন কারণ ছিল না। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আমিও হ্যত আবার তাঁকেই দেখাতাম। কিন্তু এক্ষেত্রে আমি যে নিরুপায়।।
| সপ্তাহ খানিক পরে একদিন সার্বিক অফিস থেকে ফিরে বলল, “আসামে নতুন একটা। চাকরির অফার পেয়েছি মৌরি। কোম্পানিটা ওখানে নতুন ব্রাঞ্চ খুলছে। পরশুদিনের মধ্যেই ওরা জযেন করতে বলছে। বেশ ভাল টাকা অফার করছে। ভাবছি অ্যাকসেপ্ট করব।
|- ‘মানে! আমি চমকে উঠে বিস্ফোরিত নেত্রে সার্বিকের দিকে তাকালাম। – “হ্যাঁ গাে। চাকরিটা বেশ ভালােই। কয়েকদিন আগেই অফারটা পেয়েছি, তােমাকে একটা
সারপ্রাইজ দেব বলে চেপে রেখেছিলাম। আজ ওদের ফাইনাল জানিয়ে দিয়েছি। – তাহলে তাে তুমি সব কিছু ফাইনাল করেই ফেলেছ, তবে অ্যাকসেপ্ট করব বলছ কেন?
অ্যাকসেপ্ট তাে করেই ফেলেছ। সবকিছু করে তারপর আমাকে জানাচ্ছ!’ – আরে না না! তেমন ব্যাপার না। তােমাকে সারপ্রাইজ দেব বলেই দেরিতে বললাম। – ‘ভাল। কিন্তু আমার এই অবস্থায় সম্পূর্ণ নতুন জায়গায় যাওয়াটা কি ঠিক হবে? পরেও
তুমি এমন অফার আবার পাবে। বছর খানিক না হয় আমরা এখানেই থেকে যাই…’ | ‘ না! তা হয় না। এই অফারটা ছাড়া ঠিক হবে না। এখন আই টি সেক্টরে কেমন কমপিটিশান তা তাে আর জানাে না! আর তােমাকে এখনই যেতে হবে না। তুমি এখন এখানেই থাকবে।
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, “মানে! কি বলছ তুমি? তুমি থাকবে আসাম আর আমি এই অবস্থায় একা একা এখানে পরে থাকব।
– ‘একা থাকবে কেন? তােমার মা এসে থাকবেন। আমি খবর পাঠিয়েছি। তােমার মা আর
ভাইয়ের সাথে আমার ঘন্টা খানিক আগেই সব কথা হয়ে গেছে। তােমার ভাই কালকেই তােমার মাকে এখানে দিয়ে যাবে।’
আমি স্তম্ভিত হয়ে সার্বিকের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ও যে খুব আত্মসর্বস্ব মানুষ এবং প্রবল উচ্চাকাঙ্খী তা বেশ ভাল ভাবেই জানতাম। তাই বলে এমনভাবে! স্ত্রী-সংসার কারাের প্রতিই কোন দায়িত্ব থাকবে না! আমার মাকে এখানে টেনে আনলে আমাদের ঐ বাড়িতে কিভাবে চলবে! ভাইটা নতুন একটা ব্যবসা ধরেছে বছর খানিক, এখনাে ঠিকঠাক গুছিয়ে উঠতে পারেনি—ওকে দেখবে কে? আমার মা-ই একমাত্র মানুষ যে ঐ সংসারটা বুক দিয়ে আগলে রেখেছে।
সার্বিককে বললাম সেই কথা। শুনে ও বলল, “তােমার ভাই কি দুগ্ধপােষ্য শিশু যে, মাকে ছাড়া তার চলবে না? ঐ বয়সে আমি বাড়ি ঘর ছেড়ে একা একা কলকাতায় পড়ে থাকতাম। আমার কি মা ছিল না? প্রযোজন এবং অবস্থা মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয় বুঝলে; আর ভাইটাকে এবার একটু স্বাবলম্বী হতে দাও, মেঘে মেঘে বেলা তাে অনেক হল।
বুঝলাম কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। সার্বিক সবকিছু আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। ওকে আটকানাে দুঃসাধ্য ব্যাপার!
| কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই বােধগম্য হ’ল না, যে সার্বিক আমাকে ছেড়ে একমুহূর্তের জন্য বাইরে কোথাও যেতে ভালবাসত না, এতদিন যে সার্বিক আমাকে একা একা কোথাও যেতে দেওয়া তাে দূরে থাক, চাকরীর একটা চেষ্টা পর্যন্ত করতে দেয়নি, সেই সার্বিক আজ হঠাৎই কি এমন বেটার চান্স পেল যে, এককথায় আমাকে সমেত সবকিছু ছেড়ে কলকাতার বাইরে অতদূর চলে যেতে রাজি হয়ে গেল! বিশেষত আমি এখন অন্তঃস্ব জেনেও! প্রথমেই আর্বতের মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল! আবর্ত কি প্রতিহিংসার বশে কিছু করল! পরক্ষণে নিজেই সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিলাম। না! সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আবর্ত কাপুরুষ ন্য। তাহলে কি শুধুমাত্র ভাল চাকরির অফার সার্বিককে অতদূর টেনে নিয়ে যাচ্ছে? নাকি, সার্বিক নিজের অক্ষমতা জেনে গিযেছিল বা আগে থেকেই জানত? অথবা ও কি কোনভাবে বুঝতে পেরেছিল যে এই সন্তান ওর নয়, তাই আরাে ভাল চাকরির অজুহাতে আমার কাছ থেকে পালিয়ে গেল! এইসব প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও অজানা থেকে গেল!
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!