সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ২৬)

সীমানা ছাড়িয়ে

পড়াশােনার ক্ষেত্রে নিজে বাড়িতে পড়ার পিছনে সময় দিয়ে, বাবার কাছে বিষয়গুলি বুঝে নিয়ে সৈকত এগিয়ে যেত, কিন্তু ইলেকট্রিক আলাের অভাবে বেশি রাত অবধি পড়তে পারত না। অংশুমান ঠিক করল যে করেই হােক বৈদ্যুতিক আলাের ব্যবস্থা করবে। অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অংশুমান তার নিজের পাড়ায় বৈদ্যুতিক আলাের ব্যবস্থা করল। এই ব্যাপারে দেবীর বাবা কল্যাণবাবুও খুব সাহায্য করেছিলেন। অংশুমানের বাড়ির সামনে একটি গরিব লােকের পাড়া আছে যাকে অনেকে ভক্তি বলতে ভালােবাসেন। অংশুমান ওই পাড়ার ছেলে-মেয়েদের পড়িয়ে সাক্ষর করে তােলার চেষ্টা করে। একটা সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তােলার চেষ্টা করে অংশুমান। কিন্তু তার জন্য অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে।

বাবুর বিয়েতে এবার বরযাত্রীরা খেতে বসেছে। এমন সময়ে পাশের বাড়ির পুলিশের বেশে এসে বলছে, “আমি মহিলা পুলিশ। আমাদের মেয়ের কোনো অযত্ন হলে আমি কিন্তু রেগে যাব।” শেষে আমাদের সকলকে খাওয়ালো। খেতে খেতে আমার গান। বললেন, “আমি একটা গান শোনাবো। আপনারা খেতে আমার গান শুনুন।।
“আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে “গানটি ক রতে করতে তিনি নাচতে লাগলেন। সবাই ভালাে ভালাে বলে চিৎকার করছেন। তিনি বিয়ের বাড়ির পরিবেশটা আরও সুরময় করে দিলেন। পরের দিন কন্যা বিদায়ের পালা। অংশুমান আগে থেকেই সরে পড়েছে। সবাই কান্নাকাটি করছে। মেয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য সতি বড়
দুঃখের। পাড়া-প্রতিবেশী-গাছপালা সবাই যে বিষাদের সুর গাইছে। বর-কনে চলে যাওয়ার পরে একটা অঘটন ঘটে গেল বাড়িতে। পাশের বাড়ির পুলিশ দিদিটা হঠাৎ করে স্ট্রোক হয়ে মারা গেল। চারিদিকে কান্নার রােল।

অংশুমান, বাবু ছুটে ওদের বাড়ি গেল। আরও অনেক লােকন ডেকে শশানে নিয়ে যাওয়া হল। গত রাতে যে মেয়েটি নিজে পুলিশ সেজে গান করে সবাইকে আনন্দ দিয়েছে, সেই মেয়েটি আজ হঠাৎ করে কোনােরকম চিকিৎসার সুযােগ না দিয়ে অকালে চলে গেল ! জীবন এইরকমই। পদ্মপাতার জলের মতাে। কখন যে ঝরে পড়বে কেউ জানে না। তবু এত ঘৃণা, মানুষ বুঝেও বােঝে না। অবুঝ মন।। গতরাতে বাবুর শ্বশুর বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, বাবুর বউ কে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। লেবার পেইন উঠেছে। বাবু গতরাতে মােবাইলে ফোন করে সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ডাক্তার বাবু ফোন করেন। আজ নার্সিংহোমে গিয়ে একবার দেখে আসতে হবে। অংশুমান বলল, তুই তাে শ্মশানে যাচ্ছিস যা, আমি না হয় নার্সিং হােমে যাই।
নেমে আসতেই আনা গেল, মা ও নবজাতক তালে আছে। ফোন এর অংশুমান মেয়ে হবার খবরটা জানিয়ে দিল। আতমান নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে সােজা কাটোয়ার শশান চলে গেল। কানে গিয়ে তাকে ছেড়ে দিল। বাবু গঙ্গারান করে আনলে সােজা মিগ্রোমে চলে গেল। অংশুমান শ্মশানে বসে যোয়ার কুণ্ডলী দেখছে আর ভাবছে মানুষ এভাবে ধীরে ধীরে ছাই হয়ে যায়। ধোয়া হয়ে যায়। জীবনের আশা-নিরাশা, গখ-দুখ, আনন্দ-বেদনার সমস্ত কিছুর ছেদ টানে এই শ্মশানের চিতা।ইলেকট্রিক আলাে আসার পর অংশুমানের বাড়ির চারপাশে অনেকগুলি বাড়ি হয়ে গেল। প্রতিবেশী বলতে সামনের পাড়াটা আর দু-চারটি ঘর ছিল। কিন্তু এখন পােলে লাইট ঝুলছে। কল হয়েছে, জলেরও অভাব নেই। এখন লােকে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করছে এইসব সুবিধার জন্য। জায়গার মালিক যারা তারাও ভালােরকম দাম পাচ্ছেন। ফলে অংশুমানের বাড়ির চারপাশে একটা পাড়া গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু বেশিরভাগ লােক এখানে পড়াশােনা না জানা দলের। জানলেও হয়তাে সামান্যই জানেন। অংশুমান এদের ছেলেমেয়ের নিয়মিত পড়ায়। লেখাপড়া শিখলে নিশ্চয় কিছুদিনের মধ্যেই পরিবেশ ও পাল্টে যাবে। প্রায় কুড়ি বছর হল অংশুমান কাটোয়ায় এসেছে। এখন পার্শ্বশিক্ষকের কাজ করে। ছেলে ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। দেবী সংসারের কাজকর্ম নিয়েই থাকতে ভালােবাসে। অংশুমানের পিসির ছেলে কালীচরণ সি.আর.পি.এফ-এ কাজ করে। হঠাৎ ফোন করে বলল, “অংশুমানদা তােমার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ধারে একটা মহাকালী লজ আছে। তুমি অগ্রহায়ণ মাসের বাইশ তারিখে লজটা বুক করে এসে। অংশুমান সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে লজ বুক করে এল। ছুটিতে এসে কালীচরণ অংশুমানের বাড়ি এল, কথাবার্তা বলার জন্য। কালীচরণ বলল, “তােমার বাড়ি মাঠের মাঝে হলেও শান্তি আছে। শুধু পাকাবাড়ি, বড় বাড়ি দেখলেই হবে না। শান্তিটাই তাে আসল কথা। এই শান্তি আর ভালােবাসাটা ধরে রাখাই কাজ।”

কালীচরণ মেয়ের বিয়ে দিল এই মহাকালী লজ থেকেই। বাড়ি থেকে

সব দায় এসে লজে বিয়ে দেওয়াটা বেশ পরি..

আজল নজে বিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী। কারণ অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ার প চaদিন খরে প্রায় পক্চাশ থেকে সতরজন লােকের খাবার ব্যবস্থা, শে ৰ ক সবার পক্ষে কিন্তু সহজ নয়। লজে বিয়ে হলে প্যান্ডেল অনেক কমে যায়। আর লজে বিয়ে মানে বেশ একটা ধনী লােকের এসে যায়। আবার স্টাইলের মাত্রাও বজায় থাকে। সবজি সবদিক থেকে কি করলে লজ বিয়ে দেওয়া সুবিধা বেশি। | অওমান ভাবে বড় বােনের বিয়েতে বাড়িতে দু-চারদিন লােক আসতে শুরু করেছিল। বিয়ের পরেও দু-দিন ছিল। সে। আজীবনের সঙ্গে প্রাণ খুলে মেশার সুযােগ, গানবাজনা, হৈ-হল্লোড়ে যে থাকত সারা বিয়েবাড়ি। কোথায় যেন একটা আলাদা সুর আছে বাড়িতে বিয়ে বা কোনাে অনুষ্ঠানের। লজে যেটা থাকে না, একটা কৃত্রিম আধুনিকতার গদ্ধতি এই সজ। অংশুমান ভাবে তার বড়দা দিলীপের কথা। নিজের ছেলে সৈকত বড়গার কথা বলে। বাবার মায়ের কথা, বাবার কথা শুনে শুনে সৈকতে মুখ হয়ে গেছে। বড়া গল্প বলত ভাইদের। একবার তিনি ছােটবেলায় ত বস হবে খেলে কি সতেরাে বছর, সেই সময় শ্রীরামপুরে বড় পিসির বাি যাচ্ছিলেন। বড় পিসির বাড়ি কেতুগ্রাম হয়ে গীতা ভবনের পাশ দিয়ে আহত সতীপীঠ বাঁদিকে রেখে সাইকেলে যেতে হত। তখন পাকা রাস্তা হয়নি। রেখে সাইলাম হয়ে দী মাঠর ধান তােলা হয়ে গেলে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে গরুর গাড়ির চাকার দাগে রাস্তার মতাে হয়ে যেত। সেই রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল বড়। কতকগুলি রাখাল গরু নিয়ে মাঠে ঘাস খাওয়াচ্ছিল। রাখালরা প্রায় শ বারােজন ছিল। ওরাও তাে ছােট। মনে করল সাইকেল নিয়ে একটা ছেলে যাচ্ছে, ওর সাইকেল কেড়ে নিলে ভালাে হবে। তারা একসাথে থাকে আক্রমণ করল। হাতে তাদের লম্বা লম্বা পাঁচন। বড়দা দেখল অব সুবিধের নয়। সাইকেল স্ট্যান্ড করিয়ে ওদের একজনের হাত থেকে নয়, वौংশের পাচন কেড়ে নিয়ে বো বো করে ঘােরাতে লাগল। ভয়ে রাখল সরে গেল। তারগর বড়দা পাঁচন মাটিতে দুম দুম করে মেরে বলল, আসবি আয় দেখি, সাইকেল নিবি আয়।” দাদার রুদ্রমুর্তি দেখে সবাই উ গালিয়ে গেল। হােট থেকেই বড়পা খুব সাহসী, পরােপকারী ও হৃদয়ব মানুষ। হাতে টাকা-পয়সা থাকলে বেশিরভাগ সময়ে তিনি দুঃস্থ গরিব পাখি করতেন। এই গুণের জন্য এখনও অনেকে তাকে শ্রদ্ধা করে।এমন ছেলের ত্রিকেট খেলা দেখতে সুপার মার্কেট গেছে। এখানে বুড়ো, সৈকত ভালাে ক্রিকেট খেলে। তার বন্ধুরা সবাই সৈকতকে ডেকে যায় বিকালবেলায় খেলাধুলা করলে শরীর ও মন দুটোই ভালাে থাকে। অংশুমান মাঝে মাঝে নিজে খেলা দেখতে যায়। মাঠের ধারে বসে মন ফিরে গেছে নিজের ছেলেবেলার যুগে। পুরুলে গ্রামের বাড়িতে এই ক্রিকেট দল ছিল। মিলুদা, টুলাদা, রিলিফদা, বিশ্বরূপ, অংশুমান, ভাল, বুড়াে, তাপস, সঞ্জয়, বাবন, চনা ও আরও অনেকে মিলে ক্রিকেট অংশুমানের মনে আছে। একবার বেলুনগ্রামে ছােট পিসির বাড়ির পাশে মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে দলবল নিয়ে গিয়েছিল। বেলুনগ্রামের দলকে শােচনীয়ভাবে হারিয়ে দেওয়ার পরে শ্লোগান দিতে দিতে বাড়ি ফিরেছিল। শ্লোগান ছিল, “বেলুন ফুটো করল কে? পুরুলে ছাড়া আবার কে?” ছােটবেলার সেইসব স্মৃতি এখন মনের কোণে সােনার ফ্রেমে বাঁধানাে আছে অংশুমানের। আবার একবার এই ক্রিকেট দল নিয়ে বিশ্বেশ্বরের মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল। ম্যাচে জেতার পর মাস্টারমশাই সুধীন কুমার মণ্ডল মহাশয় পেট ভরে মিষ্টি খাইয়েছিলেন। তখন তিনি হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। এখন তিনি কাটোয়া কে, ডি আই-এর প্রধান শিক্ষক। তার এই পুরস্কারে অংশুমান খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিল। যতীনপুর গ্রামেও একবার অংশুমান ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল। অংশুমানের হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে এল। মাঠের ধারে বসে সে এতক্ষণ বাল্যকালের সময়ে চলে গিয়েছিল। সৈকতকে নিয়ে সন্ধেবেলায় অংশুমান ফিরে এল ঘরে। নন্দনপাড়ের আশেপাশে বাড়িঘর কম বলে ফাকা লাগে। তবু এখানে থেকে আনন্দ আছে। এখানে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ সবই কম। লােকালয় থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় এখানে সর্বদা গ্রামের পরিবেশ বিরাজ করে।অংশুমান বাড়ি এসে হাত-পা ধুয়ে ঘরে বসল। সৈকত অন্য ঘরে গিয়ে পড়তে বসল। দেবী রান্না করছে। বিয়ের পর থেকেই দেবী অংশুমানের প্রতি হা ও ভক্তি দেখিয়ে আসে। ভারতবর্ষে পতিরা দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত কে। দেবী কথায় কথায় আজ অংশুমানকে নিজের কিশােরীবেলার কথা ।ৈ দেবী একজনকে ভালােবাসতাে বিয়ের আগে। এও কি ভুলতে পেরেছে তার প্রথম প্রেম। আশ সখে প্রথম শ্রেমকে মনের এককো সতের লালিত করে ॥ সারাজীবন। আজ তিপাম বছর খাওে সেই প্রেম মনের কোণে কলি সু্যের আলাের মতো আলােকিত করে হৃদয়। সৈকতের পড়া হয়ে গে,। প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। এরপর কি সিরিয়াল দেখে খাওয়া-দাওয়া করে তিনজনে শুয়ে পড়ল। শুয়ে দেরি কথা মনে করে অংশুমান। নাবা-মাকে ছেড়ে একা স্বামীর ভরস্য মেয়েরা চলে আসে। সংসারে তারাই থান কাণ্ডা। যে ঘরে কোনাে মহিলা নেই সে ঘরে শান্তি থাকা সম্ভব হয় না। পৃথিবীতে মেয়েদের অবদানই বেশি। তারাই তাে গড়ে তােলে ভবিষ্যতের সুস্থ নাগরিক। পুরুষ তার ছায়াসঙ্গী। মেয়ে-পুরুষের সমবেত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক সােনার পৃথিবী। আর বন্ধ হােক ধর্ষণ, খুন, পারিবারিক অপরাধ আর জাতিভেদ। অংশুমান মাঝে মাঝে ভাবুক হয়ে পড়ে। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তার আশা অনেক। পরের দিন সকালবেলা দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। দেবী উঠে পড়েছে। বলছে, “কে? কে?” উত্তর এল, “আমি আমিনা”। ছোটবেলার বান্ধবী আমিনা। একসাথে ওকড়সা হাইস্কুলে পড়ত। দেবী ওকে ডেকে এনে বসালাে। চা খাওয়ালাে, তার সঙ্গে চলল গল্প। অংশুমান সৈকত উঠে পড়েছে। আমিনার সঙ্গে পরিচয় হয়ে ভালাে লাগল অংশুমানের। অংশুমান আজ ঠিক করল দেবী আর সৈকতকে নিয়ে মায়াপুর ঘুরতে যাবে। চান করে সবাই রিকশা করে স্টেশনে চলে এল। ট্রেন ধরে নবধীপ স্টেশনে নেমে সােজা গঙ্গার ধারে। সেখান থেকে নৌকা করে ওপারে গিয়ে মায়াপুরে ইসকনের মন্দির। মন্দির ঘুরে ঘুরে দেখার পর ওখানেই খাওয়া-দাওয়া করল। একটা বনভােজনের মতাে আনন্দ হল। নবদ্বীপে এসে শ্রীগৌরাঙ্গর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান, বাড়ি সব দেখা হল। বিকাল পাচটায় ট্রেন ধরে আবার কাটোয়া শহরে,ফিরে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছিল। দেবী বাড়িতে এসে খুব তাড়াতাড়ি স্টোভে খিচুড়ি রান্না করল বিভিন্নরকম সবজি দিয়ে তারপর গরম গরম খেয়ে ওরা তিনজনে শুয়ে পড়ল। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আবার শুভ সংবাদ, বাবা আসবেন। ফোন করে জানিয়ে দিলেন তিনি। দেবী খুব খুশি। বাবা এলে দেবীর মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বাবা চলে এলেন বেলা দশটা নাগাদ। উৎসবের আবহাওয়া শুরু হয়ে গেল। দেবীর বাবা কল্যাণ বাবু বিডি.ও, অফিসের কাশিয়ার ছিলেন। তিনি খুব ঈশ্বরবিশ্বাসী। সকালে তিন ঘন্টা রহিতে তিন एলটা আহ্নিক করেন নিয়মিত। সমাজসেবক হিসাবেও তার নাম আছে। কল্যাণবাবু একবার শিলিগুড়িতে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিলেন চকরি প্রথমদিকে। তখন মাইনে বেশি ছিল না। একদিন অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন বয় চাল নেই। রান্না কি করে হবে? হােটেলে বা বাইরের কোনো দোকানে খান না। যাই হােক একগ্লাস জল খেয়ে নিলেন। সামনে কোনাে দোকান ছিল না, কোনো কারণে বন্ধ ছিল। অন্য কোনাে খাবারও নেই। আশা ছেড়ে তিনি মশারি টানিয়ে শুয়ে পড়লেন। একটু পরেই দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। দরজা খুলে দেখেন পাশের বাড়ির ভহিলা একটি পায়েস নিয়ে এসেছেন। তার বাড়িতে আজ কৃপূজা হয়েছে। কল্যাণবাবু হাসিমুখে পায়েস খেয়ে পেট ভরালেন। কল্যাণ বাবুর জীবনে আর একবার প্রমাণিতহল জীব দিয়েছেন যিনি আহার দেবেন তিনি। ঈশ্বরবিশ্বাদী কল্যাণবাবু দু-হাত কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম জানালেন ঈশ্বরকে কল্যাণবাবু কাটোয়ায় মেয়ের বাড়িতে এলেই অংশুমানকে এইসব গল্প শুনিয়ে থাকেন। গল্প হলেও সত্য ঘটনা। দেবী বাবার ব্যাগ খুলে তার শাড়ি, সৈকতের জামা, মিষ্টি সব বের করল। এবার বাবার জন্যে চা বসালাে গ্যাস সটোভে। অংশুমান ছাদ থেকে চেঁচিয়ে বলল, “আমার জন্য এক কাপ জল বেশি ও।” দেবী বলল, ঠিক আছে।” অংশুমান চা-পাউর লেলিয়ে গেল। দেবীর বাবা এখন দু-দিন থাকবেন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।