কবিতায় শিপ্রা দে

১। অপ্রত্যাশিত

শ্রাবণের মেঘে ঢেকে গেছে আজ নিশীথের শুকতারা
রাতের প্রদীপ নিবেছে ঘরের বন্ধ হয়েছে কারা!
জীর্ণ শরীরে বন্দী হয়েছে হাজার প্রশ্ন মনে
শূন্য হৃদয়ে সময় কেটেছে একাকিনী গৃহকোণে।
পরিহার করে আপনার জন,আসেনা ঘরের দোরে
আজ কেন তবে মনে হয় যেন সেই এলো এই ভোরে!
ভাঙেনি তখন পাখিদের ঘুম ওঠেনি প্রভাত রবি
নির্ঘুম রাতে স্মৃতি জানলায় উদাস কাহার ছবি!
গগনের কোণে নিশাকর যেন কৌমুদি দ্যুতি আঁকে
দুল্যোকে ভূলোকে শান্ত অনিল দখল নিয়েছে শাখে।
কাননে কাননে ফুটেছে প্রসূন,ধরেছে গাছের ফল
কোকিল কুহরে উঠে বারবার নদী জল টলমল।
বকুলকুঞ্জে আকুল মুকুল বসন্ত বায়ু রাগে
উপোসী রাতের উতলা হৃদয় ব্যাকুলতা আজ জাগে!
আসবে কি তবে গিয়েছিল চলে আপনার জন হেন!
আজ এই বেলা ঝড়ের আভাস মন মন্দিরে কেন !
হঠাৎ বাইরে কড়া নাড়ে কেউ,বিশ্বাস হয় কি করে!
রুদ্ধ দুয়ারে আঘাত হেনেছে হয়তো বা হবে ঝড়ে।
দীপ জ্বেলে তবু ওঠে ধীরে ধীরে দরজার কাছে এসে
অতীব কষ্টে দরজা কপাট খোলে বিরহিনী শেষে।
দাঁড়িয়ে সামনে ভাষাহীন চোখ রুক্ষ মলিন বেশে
নত মস্তকে নিয়ে যত গ্লানি একটু চাইল হেসে।
নিমেষ নয়ন অশ্রু কোমল কে গো তুমি মোর দ্বারে
আছি আমি বেশ একাকী জীবন বহিতে পারিনা ভারে।
আঁধারের রাত শেষ হয়ে যায় প্রভাকর আনে আলো
জিজ্ঞাসা করে রজনীর শেষে কে তুমি ঘুচালে কালো?
“সেদিনের ভুল ভেঙেছে আমার,এসেছি তোমার দ্বারে”
শ্রাবণ ধারায় ধুয়ে মুছে সব জড়ায় সে আপনারে।

 

২। শরত

কুয়াশা সকালে গগনের নীলে
অপরূপ তার শোভা
ভেজা ভেজা ঘাসে শিউলিরা হাসে
একি শরতের প্রভা!
নদী ভরা জল করে টলমল
শাপলা শালুক ফোটে
কলমীর লতা বেড়ে ওঠে পাতা
হাঁসগুলো জলে ছোটে।
মেঘে মেঘে খেলা বয়ে যায় বেলা
কাশ ফুলে দোলা লাগে
আগমনী সুর ভেসে যায় দূর
মনে প্রাণে হর্ষ জাগে।
চাষীদের খুশি ধান রাশি রাশি
সোনালী সবুজ খেতে
পাকা তাল পড়ে পুকুরের পাড়ে
বিমলা কুড়োয় যেতে।
ঢাকিদের ঢাকে কাঠি ছুঁয়ে থাকে
কাশের পালকে সাজে
শারদীয়া আসে আশ্বিনের মাসে
মন নাই কোনো কাজে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।