কর্ণফুলির গল্প বলায় স্বপঞ্জয় চৌধুরী – ৭

চন্দ্রক্ষুধা
সাত
এরপর প্রায়ই বখাটেরা পুষ্পের পথ অবরোধ করে দাঁড়ায়। ছড়া কাটে। তার চেহারা দেখতে চায়। পুষ্প ঝড়ের বেগে গলি পেরিয়ে বাড়ি চলে আসে। কিন্তু বখাটেরা আজ খুবই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আজ একটা এসপাড় ওসপাড় করেই ছাড়বে। বিষয়টা আসলামের চোখের সামনেই ঘটেছে। কিন্তু আসলাম পুরো বিষয়টাই দেখেও না দেখার ভান করে হেটে চলে যাচ্ছে। পুষ্প আসলামকে ডাকে। আসলাম মাথা নিঁচু করে পুষ্পের সামনে আসে। পুষ্প বলে আপনি আমাকে পছন্দ করেন। আসলাম হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে মাথা নাড়ে। যদি তাই হয় তাহলে এই বখাটেরা আমাকে এতদিন জালাতন করে যাচ্ছে। আপনি মাঝে মাঝে দেখেও না দেখার ভান করে হেঁটে যাচ্ছেন। আপনি দেখেও না দেখার ভান করে হেঁটে যান কেন? আপনি কি পুরুষ নাকি কাপুরুষ? শুধু মেয়েদের পিছনে ঘুর ঘুর করতেই শিখেছেন। বখাটেরা দোকানের সামনে থেকে আস্তে আস্তে পুষ্পের দিকে এগোয়। বখাটে-১ বলে এই হাফ লেডিস কি তোমার বয়ফ্রেন্ড লাগে। আসলাম এবার ক্ষীপ্ত হয়ে বলে ওরে গোলামের পুত, মুই বরিশাইল্যা পোলা, মোগো বাড়ি চরের মধ্যে, মোর বাহে আছিল লাডিয়াল, মোরে কও হাফ লেডিস, আইজ তোর কল্লা নামাইয়া হালামু হালার ঘরে হালা। বখাটে-২ পকেট থেকে একটা জং ধরা চাকু বের করে আসলামকে ভয় দেখায়। একদম বহাইয়া দিমু। আসলাম বখাটের হাত থেকে চাকু কেড়ে নিয়ে বলে ব্যাডা এইডা পাউরুডি কাডাইন্যা চাক্কু, মোরা মাইর করি রাম দাও লইয়া, তুই মোরে চাক্কুর ডর দেহাও। আসলাম চাকুটাকে বাঁকা করে ফেলে। বখাটে দুটো ভড়কে যায়। তারা দৌড়ে পালায়। গলির মোড়ে গিয়ে বখাটে-১ বলে আমরা আবার আমু। তোরে দেইখা লমু বরিশাইল্যা। বখাটে-২ বলে তোর লাভার বোরকাওলীরে আমার দিলে ধরচে, তারে তুইলা লইয়া যামু। আসলাম বখাটে দুটোকে ধাওয়া করে। তারা দৌড়ে পালায়।