কবিতায় বলরুমে সুব্রত ভট্টাচার্য (ঋক তান)

শেষরাত শুধু রাইয়ের জন্য
12,6,23
রাই সিরিজের একটি কবিতা
এখন মধ্যরাত, প্রায় তিনটে বাজতে চলেছে
হয়তো তুমি ঘুমিয়ে আছো রাই, কিংবা চেয়ে চেয়ে দেখছো
মধ্যরাতের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পাশের ফ্ল্যাটের ঘুমন্ত
নিশ্চুপ নিরবতা হলুদ শহর।
হাতে হয়তো বা আছে উষ্ণ চায়ের কাপ
কিংবা নীরবে হয়তো ভাবছো ফেলে আসা জীবনের কথা।
এইসব চিন্তার গল্পগুলো যখন বাতাসে উড়তে শুরু করেছে
তখন আমি জানলার পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে
সিগারেট জ্বেলে ধোঁয়া উড়াচ্ছি
মধ্যরাতের মৃদু বাতাসে।
আজকাল রাতে চোখে তেমন ঘুম নামে না
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে রাত কখন ফুরিয়ে আসে,
ভোরের আভাস পেয়ে লুকিয়ে পড়ে চাঁদ!
মগজে ক্রমশই উঠানামা করে বিষাদ
তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে হয় ভীষণ।
মুঠোফোনে তোমার ছবিগুলো দেখি, কিছু লেখার প্রয়োজন বোধ করি আকাশের ঠিকানায়—-
কিছু না বলা কথা
কিছু মৃত অনুভূতি
তন্দ্রাহারা রাতের উষ্ণ নিঃশ্বাস
যারা বেদনার গল্প বলে।
এখন শেষ রাত প্রায়
একটু পরেই পুবের আকাশ লাল হয়ে ফুটে ওঠবে
পাখির দল ডানা মেলবে,
হলুদ শহর খানিক পরে চলে যাবে বহুদূরে অন্ধকারকে পিছুনে ফেলে,
আর আমি নিচ্ছি তন্দ্রাচ্ছন্ন রাতের যন্ত্রণার স্বাদ!
হয়তো এখন নিশ্চয়ই তুমি ঘুমিয়ে আছো ,
সারাদিন ক্লান্তির পর
নীলে নীলাম্বরীর চাদরে ঢেকেছো প্রিয়তমা।
অথচ এই বুকে যে পিপাসা গড়েছে নীড়
সেইসব ক্রমশই মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে।
এইসব রাতে মস্তিষ্কে ভীড় জমায় আবেগ।
দু’দন্ড শান্তির খোঁজে
তোমার বুকেই রাখতে চেয়েছিলাম মাথা!
তুমি বনলতা সেন নয়
তুমি আমার হৃদয় খোঁদাই করা নাম ,শুধু রাই !
অব্যক্ত বিরহ ব্যথার আবেগ গুলো নিয়ে।
এই শেষ রাত শুধু তোমার জন্য রাই
অপ্রাপ্তি টা থাকুক, শরীর জুড়ে থাকুক আমার —-
এই শহরের দেয়ালগুলো ভরে গিয়েছে
অসংখ্য অভিযোগে।
এই শহরে ভালোবাসার জন্ম হয় না এখন
আমার মত এই শহরও এখন
লিখে বেড়ায় অনুভূতিহীন প্রেমের গল্প।