Cafe কলামে ডঃ সঞ্চারী ভট্টাচার্য্য – ৫

নিজের সম্বন্ধে আর কি বলি ! পেশায় একটি কলেজের অধ্যাপিকা , তবে পাশাপাশি সংগীত শিল্পী হিসেবেও কিছুটা পরিচিতি আছে। আছে বিভিন্ন ভাষার আর দেশের প্রতি আকর্ষণ , সেই টানেই বেশ কিছু বিদেশী ভাষা করায়ত্ত করার সৌভাগ্য হচ্ছে , হয়েছে দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও - তবে সেটা নিছক কর্মসূত্রে । সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে কাজ করছি আর অনেক অজানা তথ্য যা আমিও জানছি , সেগুলোই লেখার মাধ্যমে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি ।

 উত্তর মেরুতে  অভিনব   ইগলু  হোটেল  

সুমেরু বা উত্তর মেরু সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ সীমাহীন। কিন্ত কখনও সেই উত্তর মেরুর ইগলুতে রাত কাটানোর স্বপ্ন দেখেছেন? দেখলে- সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করার সুযোগ করে দিচ্ছেন জেন হনকেনেন। বিষয়টি তারই মস্তিষ্ক প্রসূত। অ্যাডভেঞ্চার  প্রিয়  পর্যটকদের কাছে  অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে সুমেরু। ফিনল্যান্ডের একটি বিলাসবহুল পর্যটনসংস্থা, ‘লাক্সারিঅ্যাকশন’ উত্তর মেরুতে ইগলু ধাঁচের অস্থায়ী হোটেলগুলি তৈরি করেছে। একাধারে যার  প্রতিষ্ঠাতা, সিইও  জেন  হনকেনেন।
যারা ঘুরতে ভালোবাসেন তাঁদের জন্য সুখবর। আগামী বছরের এপ্রিলে  খুলছে  পৃথিবীর  ইগলু  হোটেল। উত্তর  মেরুতে ইগলুর  মতো  দেখতে  তৈরি   হোটেলগুলি  পর্যটকদের  জন্য  বছরে একমাস করে খুলে দেওয়া হবে। ইগলুর মতো ছোট ছোট এই হোটেলগুলির  দেওয়াল  ও  ছাদ তৈরি হয়েছে কাচ দিয়ে। জেন হনকেনেন  জানিয়েছেন,  যাঁরা পরিবেশ ভালবাসেন তাঁদের জন্য এই হোটেল। তাঁর  দাবি  এই  হোটেলের  ঘোষণা  হওয়ার পর  থেকেই প্রচুর মানুষ সেখানে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এটা একটা লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স হবে তাঁদের জন্য।বোল্ডার ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোতে আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড অবজারভেশন সেন্টারের সিনিয়র বিজ্ঞানী  টেড স্কাম্বোসের মতে, এপ্রিল মাসে  যাত্রীরা  উত্তর মেরুতে দিনের বেলাতেও  গোধূলির মৃদু আলোর সম্মুখীন হবেন এবং  তাপমাত্রা হবে- 20 থেকে- 40 ডিগ্রি  পর্যন্ত। তাই  শারীরিক  সক্ষমতা  না  থাকলে  এই  পরিবেশ  অনুপযুক্ত।

 জেন আরও জানিয়েছেন, পর্যটকদের  রাত্রে থাকার  জন্য   মোট   ১০টি  কাচের  ইগলু  তৈরি  করা  হয়েছে। সেগুলিতে বসে  রাত্রে  সুমেরুর  সৌন্দর্য  দেখতে  পাবেন। দেখতে  পাবেন  উত্তরমেরু থেকে  রাতের  আকাশ, তারা। আর  দিনের  বেলায়  পর্যটকরা  আশেপাশে  ঘুরে স্থানীয়  অধিবাসীদের  সঙ্গে  পরিচয়  করতে  পারবেন। শুধু  তাই  নয়, সুমেরুতে যে সব বিজ্ঞানীরা রয়েছে, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলে  জানতে  পারবেন অনেক অজানা তথ্য। ভাগ্য  সুপ্রসন্ন  হলে  সিল,  মেরুভাল্লুক, উত্তর মেরুর পাখিসহ নানা  প্রাণীদের  সঙ্গে   সাক্ষাৎ  হয়ে  যেতে  পারে।

 কিন্তু এই সুন্দর অভিজ্ঞতা ঠিক কতটা ব্যয় বহুল ? সে হদিশও পাওয়া  গিয়েছে, পাঁচ রাত এই ইগলুগুলিতে থাকার জন্য খরচ পড়বে  ১লক্ষ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৭১ লক্ষ ৩হাজার টাকা। প্যাকেজের মধ্যে ল্যাপল্যান্ড অঞ্চল থেকে উত্তর মেরুতে বিমান ভ্রমণ, যাবতীয় পরিষেবা, সুরক্ষা এবং এমনকি প্রয়োজনীয় পোশাক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে  লাক্সারি অ্যাকশনের সিইও জানিয়েছেন, তাঁরা এটিকে বিলাস বহুল পর্যটন নয়, দেখতে চান উত্তর মেরু অভিযানের মতো। কিন্তু  আবহাওয়ার ক্রমপরিবর্তন নিয়ে তিনি  নিজেও  চিন্তিত- তাই  হিমবাহ  গলতে শুরু হলে কতদিন এই অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারবেন তাও বিবেচনাধীন। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আপাতত এই নতুনত্বের স্বাদে পর্যটকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাই পর্যাপ্ত রেস্ত থাকলে স্বপ্নপূরণের পদক্ষেপ নিতেই  পারেন।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!