একদিন দারোগা হ্যরিস ট্যান্ডন সপ্তগ্রাম থেকে তার বন্ধু কলিংসের সঙ্গে দেখা করতে ঘোড়ায় চড়ে আদিগ্রামে চলে এলো। গ্রামটি দেখতে সুন্দর, ছিমছাম, সবুজ গাছপালায় ঘেরা। মনোরম পরিবেশ। সে তার ঘোড়াটি মোটা একটি নিম গাছের গুড়ির সঙ্গে বেঁধে রেখে, বাড়ির ভিতরে কলিংসের সঙ্গে দেখা করতে গেল।
সেইসময় একচোর ঘোড়াটি চুরি করতে আসে। ঘোড়াটি চুরি করতে গিয়ে সে সাহেবের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় । হ্যারিস দারোগা চোরকে ধরে বলল, চুরির জন্য টোমাকে আমি এমন কঠিন শাস্তি দেব যে,
তা টুমি জীবনে ভুলতে পারবে না।
কিন্তু এক শর্তে টোমাকে আমি মুক্টি ডিতে পারি। মানে শাস্টি থেকে রেহাই ডিয়ে তোমাকে ছেড়ে ডিতে পারি।
চোর খুশি হয়ে বলল, বেশ বেশ। দয়া করে বলুন কি সেই শর্ত?
হ্যারিস দারোগা তাকে বলল , আমাকে টুমি ঘোড়া চুরির কায়দা শেখালে টোমাকে আমি ছেড়ে দিবে। এই কথা শুনে চোরের তো আনন্দে আর ধরে না মনে।
সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল।
বলল, বেশ বেশ ।
তবে দেখুন সাহেব, কি ভাবে ঘোড়া চুরি করতে হয়।
সাহেবকে সে চুরি কৌশল শেখাতে শুরু করল।
প্রথমে ঘোড়ার কাছে গিয়ে তাকে একটু আদর করল, তারপর তার গা-মর্দন করে দিল এবং সাহেবকে ডেকে বলল, আমার প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলো।
আমি আপনার ঘোড়ার বিশ্বাস আমার উপর স্থাপন করে ফেলেছি। আমাকে এখন আর আপনার ঘোড়ার লাথি মারার কিংবা হঠাৎ লাফ দিয়ে ওঠার কোন সম্ভাবনা নেই।
দেখুন এবার, ঘোড়া চুরির দ্বিতীয় স্টেপ।
আমি ঘোড়ার গলার রশি খুলে ফেললাম।
তৃতীয় স্টেপ – এবার পাকা হাতে তাড়াতাড়ি লাগাম পরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যাস, সে কাজও দেখুন কেমন সহজে আমি করে ফেললাম।
তৃতীয় স্টেপও শেষ হলো।
এবার শেষ বা চতুর্থ স্টেপ। খুব সতর্কতার সঙ্গে ক্ষিপ্র গতিতে ঘোড়ায় চড়ে বসতে হবে। বলেই সে ঘোড়ায় চড়ে বসলো।
চোর বলল, এভাবেই ঘোড়া চুরি করতে হয়।
তবে ঘোড়ার মালিককে সামনে রেখে এভাবে ঘোড়া চুরি করে পালাবার মজাই আলাদা।
এই বলে সেই চোরটি ঘোড়া নিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে অদৃশ্য হয়ে গেল।
দারোগা হ্যারিস ট্যন্ডন নিজের অপ্রত্যাশিত নির্বুদ্ধিতায় হতভম্ব হয়ে গেল, পরে ফ্যালফ্যাল করে ঘোড়া চোরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো
বোকার মতো।