তাদেরকে ছেড়ে যাবার আগে ঘুরে তাকাও
ভালোবেসে একবার চৌকাঠ পর্যন্ত ফিরে এসো।
‘ছেড়ে’, ‘যাওয়া’ শব্দদুটির মতো
পথের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে র’য়েছে…
যেন ঝড় এসে উড়িয়ে নিচ্ছে সমস্ত ঘুম
অথবা ঘুম এসে নিভিয়ে দিচ্ছে সুতীব্র ঝড়।
এখানে একটি গাছ ঝুরি নামিয়েছিলো।
সে যাকে অথর্ব, বৃদ্ধ ভেবেছিলো তার মাথায়
সংসার পেতেছিলো যৌবনোদ্ভিন্ন পক্ষীকূল।
ক্রমাগতঃ ধুলো মাখতে মাখতে তাদের
ঝকঝকে ডানাগুলি একদিন বিবর্ণ হ’য়ে যাবে…
শিকড়ে গাঁথা শিবলিঙ্গটি যেমন হ’য়ে গেছে।
শেষে চ’লে গেলে তবু যাওয়া হ’লোনা।
সন্ধ্যের আলো মেখে প’ড়ে থাকা পথ, থেকে যায়
যারা কাঁদে আর যারা ডাকে তারা
সবই পাখিদের মতো, দায় যেচে নিলো ক’ই?
এই ভেজা মাটি আর বুকে জাগা দগদগে ক্ষত…
রঙটুকু স্বচ্ছ না লাল, কী সে বলো দেখেছিলে তুমি?
অবশেষে বেঁচে থাকে ঘন কালো রাত
পাতাগুলি ঝ’রে যায় দেবতার দেহখানি জুড়ে…
সে বুঝি অশ্রুবিষ যে বা যারা লিখে গেছে,
“এইখানে কারো নামে ছোটো এক ধরাধাম ছিলো”…
চৌকাঠে বেড়ে ওঠে স্বাধীন জীবন, পুষ্পবৃষ্টি হ’লে
বুঝে নিও ইন্দ্রের সভাঘরে আলো নিভে গেছে।