সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ২৮)

পুপুর ডায়েরি
শৈশবকে খুঁজতে গিয়ে ছুঁয়ে এলাম এই এক আশ্চর্য মানুষকে।
শ্রী গুরুসদয় দত্ত।
আজ কেউ কি আর চেনে তাকে? জানে তাঁর ব্রতচারী আন্দোলনের কথা?
আমার প্রতি সন্ধ্যেবেলার পড়াশুনোর শেষে মা চটি একখানা বই বের করে পড়াতেন।
রোজ। লাউডন স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত।
গান ও গাইতে হত।
…..চল কোদাল চালাই ভুলে মানের বালাই, ঝেড়ে অলস মেজাজ হবে শরীর ঝালাই…
সঙ্গে নাচ শিখিয়েছিলেন মা। আজকালকার এয়ারোবিক্সের ধরনের নাচ।
ইস্কুলের পড়ালেখার পড় এইসব করে তবে রোজকার লেখাপড়া শেষ হত।
ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছি বলে দেশের সংস্কৃতির প্রতি টান যাতে কোনো মতেই না কমে সেই দিকে মায়ের প্রখর দৃষ্টি।
আমাদের স্কুল নব নালন্দার প্রতিষ্ঠাতারাও সেই মতাদর্শে চলতেন বলেই বুঝি আমার বাবা মায়ের সঙ্গে তাঁদের ভারি সশ্রদ্ধ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
বাংলাদেশের গণ কবরের হারিয়ে যাওয়া বাঙালিদের সঙ্গে এই ব্রতচারী আন্দোলনের বইগুলি, আর তাদের জনক এই মানুষটি, শ্রী গুরুসদয় দত্ত এবং এঁর স্ত্রী সরোজনলিনী দেবী ও চাপা পড়ে গেছেন।
অথচ, খিচুড়ি ভাষায় বলিব না, কোঁচা দুলাইয়া চলিব না ..
….আজকের ছোটোদের কাছে ও কত প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় শিক্ষা।
কি আশ্চর্য একখানি মা পেয়েছিলাম। বাবা মশাইয়ের অনেক গুণ। কিন্তু সে আমলের কোনো মহিলার এত অন্যরকম গুণের সমাহার কমই দেখা যেত। বোধহয় এইসব আদর্শবাদী শিক্ষা আজকের আধুনিক মায়েরাও এত দেন না বাচ্চাদের।
মায়ের কথা মনে রেখেই কিন্তু, বাংলা ব্যবহার করলে শুধুই বাংলা আর ইংরেজি ব্যবহার করলে ইংরেজির সুব্যবহার আজও করার চেষ্টা করি প্রাণপণে।
এমন মা দেবার জন্য জীবন মশাইকে প্রণাম।