সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে রীতা পাল (পর্ব – ১৮)

যাও পাখি দূরে
সন্ধ্যায় অলোক আর অলোকের বন্ধু এলো। অলোক,সবিতা দেবীর সাথে আলাপ করিয়ে দিল,“ আমার বন্ধু প্রলয় মুখার্জি। ওর কথাই বলেছিলাম। মিস্টার হালদার এর থেকে কেস হিস্ট্রি নিয়ে স্পেশাল পারমিশন করিয়ে কেসটা ও দেখছে। ও একবার কুমারীকে দেখতে চায়।”
“ নিশ্চয়ই। তুমি ওনাকে নিয়ে যাও। আয়া দিদিকে বলো আমি ডাকছি।”
অলোক ঘরের সামনে যেতেই আয়া দিদি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। অলোক আর প্রলয় একসাথে ঘরে ঢুকলো। প্রলয় একটা চেয়ার টেনে বসল। অলোক কুমারীর বিছানায় বসলো। অলোক খুব স্বাভাবিকভাবেই কুমারীকে জিজ্ঞাসা করল,“ এখন কেমন আছো?”
উত্তরদাতা নির্বিকার – – – –
“ দেখো প্রলয়,এই হলো সমস্যা। কুমারী কোন কথা বলে না।”
প্রলয় ওকে থামতে বলে নিজেই কুমারী দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,“ আমি প্রলয়,ললিতের বন্ধু।”
চমকে উঠল কুমারী।
তোমার নাম্বারটা ওর ফোনেই পেলাম। তাই দেখা করতে চলে এলাম। অনেকটাই সুস্থ হয়েছ,আরো স্বাভাবিক হয়ে ওঠো। আজ তাহলে চলি। আবার আমাদের দেখা হবে। চলো অলোক,আমার কাজ হয়ে গেছে।”
বাইরে বেরোতে গিয়ে প্রলয় আর একবার পেছনে তাকালো,কুমারী পুতুলটা বুকে চেপে কুঁকড়ে আছে।
ড্রইংরুমে চা নিয়ে সবিতা দেবী বসে আছেন। ওরা আসতে ওদের কাপে চা ঢেলে দিলেন। প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে সবিতা দেবী বললেন,“ কোনো কথা বলল না তো! আমরাও পারছি না ওর এই নিরবতা সহ্য করতে। ”
“ এত বড় একটা শক্,কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। তবে এখন ও অনেকটাই সুস্থ। আচ্ছা আপনি তো নয়নের বাড়ি গিয়েছিলেন,নয়নের থেকে নতুন কিছু জানা গেল?”
সবিতা দেবী সংক্ষেপে, নয়নের সাথে যা কথা হয়েছিল তার পুরোটাই জানালেন।
প্রলয় একটু মুচকি হেসে,“ আপনাকে মনে হয় ও পুরোটা বলেনি। মানে বলতে পারেনি।
কিছু অংশ বাকি রয়ে গেছে।”
“ ও,তাতো আমি জানি না। নয়ন যতটুকু বলেছে আমি ততটুকুই বিশ্বাস করেছি।”
“ আপনাকে নিশ্চয় মিঃহালদার বলেছেন যে ললিতের আইফোনটা খোলা সম্ভব হয়েছে।”
“ হ্যা। মিস্টার হালদার আজ সকালে এসে কুমারীর ফোনটার কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন। তখনই বললেন ললিতের ফোনটা খোলা গেছে।”
“ আচ্ছা,আর একটা কথা বলি,আপনার মেয়ের সাথে আপনার কেমন সম্পর্ক ছিল? মানে,মেয়েরা বড় হলে তো মায়ের বন্ধু হয়ে যায়। কুমারী কি আপনার সাথে খোলামেলা আলোচনা করত না আপনাকে এড়িয়ে যেত?” সবিতা দেবী খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর জানালেন,“ আসলে আমাকে ও একটু ভয় পেতো। বরং ওর বাবার কাছে ও সব কথা বলতো।”
“ না না,সে হয়তো বন্ধু-বান্ধবদের কথা, পড়াশোনার কথা। কোন মেয়ে বাবার সাথে কি তার এফেয়ার নিয়ে আলোচনা করবে?”
“ না না,ওর তো তেমন কিছু ছিল না। ও তো অলোকের সাথেই একটু মেলামেশা করতো। তুমি বলোনা অলোক – –
“ থাক,ও আমাকে সবটাই বলেছে। আমি সবটাই জানি। তাই এখন অলোককে কিছু বলতে হবে না। গত কয়েক মাস ধরে আপনার মেয়ের মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন নি? মানে ওর স্বভাবে,চালচলনে? ও যে ধরনের মেয়ে তার থেকে একটু আলাদা রকম আচরণ লক্ষ্য করেননি?”
সবিতা দেবি চিন্তায় পড়ে গেলেন, “ হ্যাঁ। অ্যাক্সিডেন্টের আগে মাঝে মাঝে ফিরতে ওর একটু রাত হত। জিজ্ঞাসা করলে বলতো ওর বন্ধু রঞ্জনার থেকে নোটস নিতে ওর হোস্টেলে গিয়েছিল। এছাড়াও ও প্রফেশনাল ওড়িশি ডান্সার। নানা জায়গায় প্রোগ্রাম করতে যেত। রিহার্সাল থাকত,তাই আলাদা করে চোখে পড়ার মতো ঘটনা আমরা লক্ষ্য করিনি।”