গদ্যানুশীলনে রোহিত কুমার সরদার

আস্থানা
পদতলে স্খলন ঘটে অবিশ্বাস্য হাতিয়ার। নগ্ন নির্জন রাতে জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে অঙ্কুরিত দুটি পাতা।চুপিচুপি শৈশব ফেলে যৌবনে পা দিয়েছিল অদম্য বাসনায় যে সবুজ গাছটি; শাখায় শাখায় পল্লবের শিহরণ তুলে গর্ভ সঞ্চারের পদধ্বনি শোনাতো।কুসুম ফোটাবার বিভোর নেশায় বুড়ি চাঁদকে গল্প শুনিয়েছিল।আজ প্রত্যুষে দেখি সেই গাছটি কাটা পড়েছে। সদ্য ধর্ষিত, শকুনির খাবি খাওয়া দেহ শুয়ে আছে মাটিতে। পরিকল্পনা ছিল নিঃস্বার্থ স্নেহময় সেবা। ছায়া দেবে, ফল দেবে, আশ্বাস দেবে পথিকের।প্রজাপতির সঙ্গে মিলন হবে পরাগের। রঙ ছড়াবে আকাশে। বহুদিনের ওড়ার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।
কার ইচ্ছে, কে পূর্ণ করে! তুমি, না আমরা?
ওই যে বেকার ছেলেটা, চেষ্টাকে প্রচেষ্টায় রূপদান করে বৃত্তের জ্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। ওর ইচ্ছের কি কোনোদিন মূল্য দিয়েছ? না দেবার চেষ্টা করেছো! পথবাতি নিভে গেলে অলীক চৌমাথায় এসে থামে। ঐ গাছটির কোলে মাথা রেখে আশ্বাস পেত ঘুরে দাঁড়াবার। সেও আজ নিভে গেল! অট্টালিকা শুষে নিল বাতি। মজ্জাগত রসে পড়ে ঘাটতি।নিরন্তর সময়ের দেহ থেকে খসে পড়ে শাখা। টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে দূরে পরাক্রমশালী কোনও নেকড়ে। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, মরা রোদের ঝলসে ওঠা খেলা শুরু হবে। ততক্ষণে আরও কোনো এক আস্থানার খোঁজে পা বাড়াই……।