কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রুকসানা হক

ক্রমাগত নিঃশব্দ

এবং নিকটবর্ত্তী কেউ আর নেই,
যে যার মতো করে মোটামুটি নির্বিকার
আমার প্রস্থানের ক্ষত দৃশ্যমান এবং পোস্ট কার্ডের নগ্ন অক্ষরে তার শূন্যতার চিহ্ন
আমি বলে কয়ে চলে যাচ্ছি
অন্তর্গত বেদনায় ক্লিষ্ট হয়ে চলে যাচ্ছি।

‘পৃথিবীটা স্বার্থপর’ এক কঠিন দর্শনতত্ত্ব
রক্তের নির্লিপ্ততা আর বিশ্বাসের আগুন আমাকে পুড়িয়ে দিলো
চেনা চৌহদ্দির ভেতরেও অচেনা জায়গায় আমি মরে পড়ে আছি
এভাবে কেউ থাকে না,গোরস্থানে যেতে হয়
আমিও চলে যাচ্ছি ক্রমাগত নিঃশব্দ
আমার গোরস্তূপের উপর ওরা লোকদেখানো শ্রদ্ধায় পুঁতে দেবে একটি রক্তজবার গাছ।

অতঃপর প্রকাশিত হবে আমার ঝলমলে বহিরাবরণ
কেউ কেউ ভেবে নেবে পরিত্যাগ করেছি সোনার হেরেম
আর আমি নিঃসুর নিথর হাওয়ার অভ্যন্তরে কান পেতে শুনবো করুণ শিঞ্জন।
কারো কারো মনে দিনদিন বেড়ে উঠতেও পারে প্রশ্নের স্তূপ
সেসব মাড়িয়ে আমি চলে যাবো
আমার মূর্ছিত সময়গুলো গড়িয়ে পড়বে মালা ছেঁড়া পূঁতির মতো।

পৃথিবীটা স্বার্থপর — এই সত্য মেনেই সব ছেড়ে ছুঁড়ে যাচ্ছি
কবিতা ছাড়ছি,স্বপ্ন,মগ্নতা,দোচালা চৌচালা
আরো ছাড়ছি রক্তের এবং ভালোবাসার দাবি,
প্রস্থান কোন সুন্দর মতবাদ নয়
চলে যাওয়া কোন প্রাঞ্জল শিল্পবোধও নয়।

আমার বুক জুড়ে আমাজনের দাবানল
দহনের শেষ প্রতিক হয়ে আমি চলে যাচ্ছি
জীবন তো ছেড়ে দেয়ারই অপর নাম।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।