তখন সুদীপ্ত দমদম মেট্রো স্টেশনে দাঁড়িয়ে।
“আজ বড্ড দেরি হয়ে গেছে বাড়ি থেকে বেরোতে!”
মেট্রোটা তেড়ে এলো স্টেশনের দিকে, দরজা খুলতেই প্যাসেঞ্জারদের সমুদ্রে ঢেউ খেলে গেলো। সুদীপ্ত উঠতে যাবে হঠাৎই একজনকে দেখে চোখটা সেখানেই আটকে গেলো। দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এমন সময় চমক ফিরতেই ঝপ করে মেট্রোয় উঠে পড়লো সে। উঠেই ওর মন ব্যস্ত হয়ে খুঁজতে শুরু করে ওই মায়াবী চোখ দুটো।কিছুক্ষণ বাদে খুঁজে পেতে সুদীপ্ত ওই মেয়েটির পাসের সিটটাতে গিয়ে বসলো।তারপর যা দেখলো তাতে মনে হলো ওর শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। মেয়েটির মুখের একটা দিক পোড়া। অ্যাসিড অ্যাটাক নাকি…!
ওই দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলো না ও। ওই পোড়া দাগটাকেই যেন ভালোবেসে ফেললো সুদীপ্ত। ঠিক করলো পরের দিন দেখা হলেই মেয়েটিকে প্রপোজ করবে সে। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলো না, যদি সে কিছু মনে করে!
পরের দিন অনেক খুঁজেছিল সুদীপ্ত মেয়েটিকে। দেখতে পায়নি তাকে।আর কখনোই দেখা হয়নি। এই না বলার যন্ত্রণাটা ওর মনটা পুড়িয়ে দিচ্ছিলো। মেয়েটির মুখের পোড়া দাগটার থেকেও এই দাগটা আরো বীভৎস। এভাবেই না বলা থেকে যায় কত কথা। কত সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে তার অস্তিত্ব। শুধু থেকে যায় একটা অসম্পূর্ণতার উল্কি।