গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৬)

নীল সবুজের লুকোচুরি

আয়ানের কান্না দেখে সুমিতারো চোখের কোনে চিকচিক করে ওঠে। বুকের ভেতরটা দুমরে মুচরে খান খান হয়ে যাচ্ছে। মনেহচ্ছে আই’কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে পারলে ভাল হত। ওকে ছাড়া এখানে থাকা যে কতটা কঠিন সেটা বল বোঝানোর মত ভাষাইতো নেই।
কিন্তু ওকে বেঁধে রাখার মতো কোনো সামাজিক বাঁধনো তো নেই! তাই নীরবে মনের যন্ত্রণাকে চোখের পাতায় ভাসিয়ে দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।

আয়ান খুব আস্তে করে ওর মুখটা নিজ দিকে তুলে ধরে।
ভেজা চোখদুটো নিজের হাতে মুছিয়ে দেয়। তারপর ওর চোখে চোখ রেখে বলে ,” আমি তোকে ভালোবাসি। তোকে ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই ইচ্ছে করছে না তোকে আমার চোখের আড়াল করতে। মনেহচ্ছে আমার শরীরের আসলটা এখানে রেখে আমি খোলসটা নিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বাস কর আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি। এটা আমার মনের বর্তমান অবস্থা, একান্তই আমার কথা তোকে বললাম। তোর উত্তরটা এবার জানতে চাই।”

সাহিত্য কাঞ্চন
ধারাবাহিক গল্প

নীল সবুজের লুকোচুরি
পঞ্চম পর্ব

রীতা চক্রবর্তী

তোকে এই কথাগুলো অনেকদিন আগেই বলতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। আজ তোর উত্তর শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। বলছি, ভালো করে শোন। ভেবে উত্তর দে। তুই যা বলবি আমি সেটাই মেনে নেব।”

আয়ানের কান্না দেখে সুমিতারো চোখের কোনে চিকচিক করে ওঠে। বুকের ভেতরটা দুমরে মুচরে খান খান হয়ে যাচ্ছে। মনেহচ্ছে আই’কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে পারলে ভাল হত। ওকে ছাড়া এখানে থাকা যে কতটা কঠিন সেটা বল বোঝানোর মত ভাষাইতো নেই।
কিন্তু ওকে বেঁধে রাখার মতো কোনো সামাজিক বাঁধনো তো নেই! তাই নীরবে মনের যন্ত্রণাকে চোখের পাতায় ভাসিয়ে দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।

আয়ান খুব আস্তে করে ওর মুখটা নিজ দিকে তুলে ধরে।
ভেজা চোখদুটো নিজের হাতে মুছিয়ে দেয়। তারপর ওর চোখে চোখ রেখে বলে ,” আমি তোকে ভালোবাসি। তোকে ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই ইচ্ছে করছে না তোকে আমার চোখের আড়াল করতে। মনেহচ্ছে আমার শরীরের আসলটা এখানে রেখে আমি খোলসটা নিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বাস কর আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি। এটা আমার মনের বর্তমান অবস্থা, একান্তই আমার কথা তোকে বললাম। তোর উত্তরটা এবার জানতে চাই।”

সুমিতা আয়ানের হাতদুটো নিজের হাতের ওপর নিয়ে আঙুলে আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করছে মাথা নিচু করে। মুখে কোনো কথা নেই। এভাবে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। বুকফাটা কান্নাটাকে কিছুটা শাসন করে ভেজা গলায় বলল, “এখনও কি বুঝিসনি আমার মনের কথা? আমিও যে তোকে ছেড়ে একটুও থাকতে পারিনা। সবসময় তোর কাছে থাকতে চাই। কিন্তু কখনো বলতে পারিনি। বলতে পারিস – আমার সাহসে কুলায়নি। ভেবেছি-যদি তোর খারাপ লাগে।”
সে তো বুঝলাম। কিন্তু এখন আমার কথার উত্তরটা আমি স্পষ্ট করে জানতে চাই।” কি?
” কি আবার? তুই কি আমাকে ভালোবাসিস? হ্যাঁ বা না স্পষ্ট করে বল।” চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে বলে সুমিতা – -” যদি না বলি?” ” ঠিক আছে। মেনে নেব।”
আর হ্যাঁ বললে? ” এই দেখ, হ্যাঁ বললে!” – বলে সুমিতাকে শক্তকরে জড়িয়েধরে ঠোঁট দুটোকে নিজের দখলে নিয়ে নেয়।
ভালবাসার প্রথম ছোঁয়ায় শিহরণ লাগে শরীরে। রক্তে যেন আগুন লাগে। যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছিল দুটি শরীরে। মন থেকে যাকে অনেক আগেই বরণ করে নিয়েছে তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে এতটুকুও দ্বিধা বা সংকোচ বোধ হয়নি। আয়ানের শক্ত হাতের নিষ্পেষণে সুমি একটু একটু করে মোমের মতো গলে পড়ছিল।
তারপর কোথা থেকে কি হয়ে গেছে , কখন রাত গভীর হয়ে গেছে নিজেরাও বুঝতে পারেনি। গ্রীষ্মের খরদহনের পর প্রথম বর্ষার ধারাজলে স্নাত কম্পিতপুলকে এক হয়ে যায় দুটি শরীর।


ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।